রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

মিয়ানমার অভিমূখে লংমার্চে বাধা; অতঃপর...





ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মুহতারাম আমীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম হাফিজাল্লাহ এর আহবানে আজকে যে লংমার্চ এর কর্মসূচী ছিল তা কেবলই মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্যাতনের প্রতিবাদেই ছিল,
কোন সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ক্ষমতা হরণ কিংবা ক্ষমতার দাবিতে এই কর্মসূচী ছিল না, কিন্তু তবুও এ লংমার্চ কর্মসূচিতে আমাদেরকে আওয়ামী প্রশাসন বাধা প্রদান করে কতোটা নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়েছে তা অবশ্যই স্পষ্ট।
একটি মুসলিম প্রধান দেশের সরকার হয়ে মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর এই আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করে তিনি স্বয়ংক্রিয় ভাবে মায়ানমারের বৌদ্ধের সমর্থন যে দিচ্ছেন না তা অস্বীকার করার জো নেই!
একটি জাতি কতোটা নির্লজ্জ হলে এহেন কর্ম সংঘটিত করতে পারে?
তা আজ প্রশ্নাত্মক বিষয়,
.
ইসলামী আন্দোলন এর আজকের লংমার্চে জনস্রোত আনুমানিক কতো ছিল তা হিসেব করে তো দূরের কথা অনুমান করেও বলা মুশকিল,
কোন এক সাংবাদিকের মন্তব্য শুনলাম আজকের লংমার্চে উপস্থিত মানুষের আনুমানিক সংখ্যার, তিনি বলেছেন কম করে হলেও শুধুমাত্র ঢাকাতেই ৫০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছে,
অতএব ঢাকার দিকে লক্ষ্য করলে অনুমান করা যায় ঢাকার বাহিরে কতো ছিল।
সরকার সম্ভবত জনস্রোত দেখেই ভয় পেয়ে তাদের পূর্বের মৌখিক অনুমতি প্রত্যাহার করে,
ইসলামী আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম এর অন্যতম সদস্য মুসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানী সাহেব তিনি এক পত্রিকার সাক্ষাৎকারে তাই বলেছেন,
.
সরকার আমাদের এই শান্তিপূর্ণ লংমার্চ কর্মসূচিকে বানচাল করার অপকৌশল হিসেবে পুর্ব অনুমিত জমায়েত স্থল জাতীয় প্রেসক্লাব এড়িয়ায় লংমার্চ এর তিন দিন আগে অনুমতি বাতিল করে, কিন্তু সংগঠনের বুদ্ধিমত্তায় সরকারের এই অপকৌশল ভেস্তে যায়,
সংগঠনের নির্দেশে ১৮ তারিখ সবাই জমায়েত হতে থাকে কাজলা ফ্লাইওভার এর নিচে, আর এই জনস্রোত প্রত্যক্ষ করেই সরকারের পুলিশবাহিনী সরাসরি ভাবে লংমার্চের উপরেই বাধা আরোপ করে, তারা অজুহাত হিসেবে লংমার্চ এর অনুমতি ছিল না বলে সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি গল্প সাজিয়ে লংমার্চ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করে দেয়!
অথচ কেন্দ্র থেকে পুর্ব থেকেই মৌখিক অনুমতি ছিল বলে দাবি করা হয়,
কিন্তু তাতে কী? লিখিত অনুমতিই যারা অকারণে বাতিল করতে পারে তাদের কাছে মৌখিক এর কী মূল্য আছে?
গ্রামের কথায় বলতে গেলে "তাদের মুখ এবং পাছায় কোন ব্যবধান নেই"
.
সরকারের এই বাধায় তাদের বড় এক পরিচয় জনগণ পেয়েছে, তারা এই লংমার্চে বাধা প্রদান করে পরোক্ষভাবে মায়ানমারের উগ্র বৌদ্ধ এবং অত্যাচারী পুলিশ-সেনাবাহিনিদের সমর্থন জানিয়েছে তা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেবার কোন পথ নেই!
আমাদের কাছে সরকারের আজকের এই অবস্থান সম্পূর্ণ রহস্যজনক, তারা এই লংমার্চ কি অং সান সূচির পরামর্শেই বাতিল করেছে কি না? তারও বড় একটি অংশ জুড়ে প্রশ্ন রয়েছে,
তাছাড়াও এরকম একটি ঈমানী আন্দোলনে বাধা দিয়ে তিনি নিজের ঈমানকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন!
অবশ্য এই অবস্থার উপরই তিনি যদি ইন্তেকাল করেন তবে তার জানাযা দেয়া হবে কি না তার ব্যাপারে আমরা মুফতিয়ানে কেরামের ফতওয়া এর মুখাপেক্ষী।


Save