মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

শুক্রবার মূর্তি অপসারণ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিশাল গণমিছিল

আইএবি নিউজ: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, বার বার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনজীবন দূর্বিষহ করে তুলবে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় জনগণ মাঠে নামতে বাধ্য হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর শোষণ চালিয়ে মসনদে টিকে থাকা যাবে না। সাধারণ জনগণ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে তখন নতুন করে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সিদ্ধান্ত মড়াড় ওপর খাঁড়ার ঘা।

আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক জরুরী সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ও মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকসান হোসাইন জাফরী প্রমুখ।

মহাসচিব বলেন, সরকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়াচ্ছে অথচ মধ্যম আয় ও নিম্ন আয়ের মানুষদের ওপর শোষণ চালাচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষ ভালো অবস্থায় নেই। তারা নানাভাবে নিষ্পেষিত হচ্ছে, বর্তমান সরকার গরীবের নয়, বড়লোকের স্বার্থ রক্ষার সরকার।

তিনি বলেন, গ্যাসের দাম মার্চ ও জুনে দুই ধাপে গড়ে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। কিন্তু তাতে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নায় ব্যবহৃত গ্যাস ও বাণিজ্যিক সংযোগে দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এই ঘোষণা অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের আগামী ১ মার্চ থেকে এক চুলার জন্য মাসে ৭৫০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকা দিতে হবে, যা এতদিন ছিল যথাক্রমে ৬০০ টাকা ও ৬৫০ টাকা আর দ্বিতীয় ধাপে ১ জুন থেকে এক চুলার জন্য মাসিক বিল ৯০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৯৫০ টাকা হবে। গৃহস্থালিতে মিটারে যারা গ্যাসের বিল দেন, তাদের মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহারের জন্য ৯ টাকা ১০ পয়সা এবং জুন থেকে ১১ টাকা ২০ পয়সা করে দিতে হবে।

এতোদিন প্রতি ঘনমিটারে তাদের বিল হত ৭ টাকা করে। তিনি বলেন, প্রতি চুলায় একসাথে ২০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে তার এক বছরের মাথায় পুনরায় চুলা প্রতি ৩০০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চরম জুলুমের শামিল। এর প্রভাব সর্বত্র পড়বে। ফলে স্বাভাবিক জীবন জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে শিল্পোৎপাদনে খরচ বাড়বে, ব্যবসায়ীরাও তা তুলবেন দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিয়ে। শেষ বিচারে ভোক্তাদের পকেট থেকেই তা যাবে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে রপ্তানি খাতও চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব নয়। চলমান সীমাহীন লুটপাটের বোঝা দেশের জনগণের কাঁধে চাপাতে সরকারের দুর্নীতি ও ভুল নীতির ফলে জ্বালানি খাতে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে, তার দায় জনতার উপর চাপানোর জন্যই অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। জনগণ এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেবে না। অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করতে হবে।

সভায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম দলগুলোর হরতালে পুলিশী নির্যাতনের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকার মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চাচ্ছে। আর তার প্রতিবাদ করায় বাম দলগুলোর নেতাদের উপর গরম পানি নিক্ষেপ, টিয়ার সেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে এবং নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে  নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

মহাসচিব গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে লেডি মূর্তি অপসারণের দাবীতে ৩রা মার্চ শুক্রবার বাদ জুমআ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে অনুষ্ঠিতব্য গণমিছিলে দেশপ্রেমিক ঈমানদার জনতাকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

 

চলমান সীমাহীন লুটপাটের বোঝা দেশের জনগণের কাঁধে চাপাতেই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি: মাওলানা ইমতিয়াজ আলম

আইএবি নিউজ: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম ও সেক্রেটারী মাওলানা এবিএম জাকারিয়া এক বিবৃতিতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির টাকা বৈধ করতেই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতেই হবে। নেতৃদ্বয় বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সর্বত্র পড়বে। ফলে স্বাভাবিক জীবন জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়বে। শিল্পোৎপাদনে খরচ বাড়বে, ব্যবসায়ীরাও তা তুলবেন দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিয়ে। শেষ বিচারে ভোক্তাদের পকেট থেকেই তা যাবে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে রপ্তানি খাতও চ্যালেঞ্জে পড়বে। তারা বলেন, সরকারের কাজ হলো জনগণের সমস্যা লাঘব করা কিন্তু এখন দেখছি সরকারই জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হলে পদত্যাগ করুন, না হে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করুন।

 

 

 

রুহানিয়াত এবং জিহাদের সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া দ্বীন বিজয় সম্ভব নয়: অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান

আইএবি নিউজ: ২৭ ফেব্রুয়ারি'১৭ ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর পূর্বের অন্যতম শাখা ডেমরা থানা কর্তৃক আয়োজিত চরমোনাই মাহফিল থেকে আগত নবীন ছাত্রদের নিয়ে ছাত্র গণজমায়ে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে তার সাংগঠনিক জীবনের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ইশা ছাত্র আন্দোলন গঠিত হবার সময় আমি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ছিলাম। কিন্তু দ্বীন বিজয়ের এই হক কাফেলায় যোগ দিতে পেরে নিজেকে এখন ধন্য মনে করছি।



প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর পূর্বের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলনই পারে একটি ছাত্রকে পরিপূর্ণ আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। অতএব ছাত্রজীবনকে আদর্শের উপর টিকিয়ে রাখতে ইশা ছাত্র আন্দোলনের বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগরীর সহ সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন। আআরো উপস্থিত ছিলেন যাত্রাবাড়ী থানা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি আলহাজ্ব ইসমাঈলসহ ইসলামী আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন ও যুব আন্দোলন ডেমরা থানার নেতৃবৃন্দ।

 

ডেমরা সংবাদদাতা: শেখ মাহবুব নাহিয়ান

Save

৫দিনের সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন দেওবন্দের ৩ শায়েখ

আইএবি নিউজ: বাংলাদেশে ৫দিনের সফর শেষে আজ ভারতে ফিরছেন মাদারে ইলমি দারুল উলুম দেওবন্দের তিন শায়েখ৷ ঢাকার হজরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে সকাল ১০টায় নয়া দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন৷ ভারতীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫মিনিটে নয়া দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে৷

উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারী শায়খুল মা'কুলাত হজরত আল্লামা মুজিবুল্লাহ সাহেব (হাফিযাহুল্লাহ), এবং ২৩ ফেব্রুয়ারী দেওবন্দের নায়েবে মুহতামিম হজরত আল্লামা আবদুল খালেক সাম্ভলী সাহেব (হাফিযাহুল্লাহ) ও শায়খে সানী হজরত আল্লামা কমরুদ্দিন আহমদ গৌরখপুরী (হাফিযাহুল্লাহ) ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশে'র আমির ও চরমোনাই পীর হজরত মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম সাহেবের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন৷ তারা সেখানে অবস্থান করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নসীহত পেশ করেন।

সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

মানবতার কল্যাণ ও শান্তি কামনায় মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হলো চরমোনাইর বার্ষিক মাহফিল। আজ সোমবার কীর্তনখোলা নদীর তীরে লাখো ভক্ত-মুরিদান এই মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।

সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে মোনাজাত শুরু হয়, শেষ হয় ৯টায়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বর্তমান চরমোনাই পীর সাহেব আলহাজ্ব মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

মোনাজাতে মহান আল্লাহর কাছে সকল পাপ ও অন্যায় থেকে মুক্তির জন্য আকুতি জানান মুসল্লিরা। দেশ-জাতি ও মানবতার কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তির প্রার্থণা করা  হয়। আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো চরমোনাই ময়দান।  এসময় চারটি বিশাল মাঠ ও আশপাশের বাড়ি-ঘরের সকল যায়গাই ছিল মুসল্লিদের দ্বারা কানায় কানায় পূর্ণ ।



আখেরি মোনাজাতের আগে ফজরের পর থেকে চলে চরমোনাই পীর সাহেবের বয়ান। এ বয়ানে আমলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে মুরিদদের ছবক দেওয়া হয়।

আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আগে থেকেই চরমোনাই ময়দানসহ আশপাশ এলাকায় নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চরমোনাই মাহফিল শুরু হয় ।

মনে করা হচ্ছে,  আখেরি মোনাজাতে ৫০ লক্ষাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। মাহফিল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ওয়েব সাইটের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের ফলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে মোনাজাতে শরিক হতে পেরেছেন।

রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বাস্তবায়নের সাধ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে রুখে দিবো: পীর সাহেব চরমোনাই

আইএবি নিউজ: গ্রীক দেবীর মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে সরকার দেশে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বাস্তবায়ন করতে চায়। আমরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও তাদের এ অপচেষ্টাকে রুখে দিবো, ইনশাআল্লাহ। ইশা ছাত্র আন্দোলন-এর ইতিহাস মসজিদ রক্ষার আন্দোলনে শহীদ হওয়ার ইতিহাস। তাই সকল প্রকার অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে ইশা ছাত্র আন্দোলনকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭) চরমোনাই বার্ষিক মাহফিলের ৩য় দিন চরমোনাই ময়দানে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন কর্তৃক আয়োজিত ছাত্র-গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) উপরিউক্ত কথা বলেন।

শায়েখ চরমোনাই আরো বলেন, হিন্দুত্ববাদী সিলেবাসের বিরুদ্ধে যেভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে মূর্তি অপসারনের জন্য রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি জি.এম. রুহুল আমীন-এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম-এর উপস্থাপনায় ছাত্র-গণজমায়েতে বিশেষ অতিথির হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর আল্লামা আবদুল হক আজাদ, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, শায়খ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া ঢাকা’র ইফতা বিভাগের প্রধান মুফতি হিফজুর রহমান, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী আন-নদভী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল কাদের ও মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

কেন্দ্রীয় সভাপতি জি.এম. রুহুল আমীন উদ্বোধনী বক্তব্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক চর্চার তীর্থস্থান সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও উল্লেখযোগ্য কলেজগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবী জানান।

ছাত্র-গণজমায়েতে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ হাছিবুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম. এমদাদুল্লাহ ফাহাদ, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক নোমান আহমাদ প্রমুখ।

শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

চরমোনাইর ওলামা সম্মেলনে সৌদি কর্মকর্তারা: মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান

আইএবি নিউজ: বরিশালের চরমোনাইয়ের বার্ষিক মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে শনিবার দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আসা ওলামা-মাশায়েখদের উপস্থিতিতে বিশাল ওলামা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা ১১টায় এই সম্মেলনে সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিরা যোগ দেন। এ সময় চারটি বিশাল মাঠের লাখ লাখ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

চরমোনাইয়ের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম আতিকুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চরমোনাইয়ের পীর সাহেবের আমন্ত্রণে মাহফিলে যোগ দিতে শনিবার সকালে হেলিকপ্টারে করে সৌদি রাজকীয় সরকারের একটি প্রতিনিধিদল চরমোনাইতে আসেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সৌদি আরবের ধর্মমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা ইবরাহীম ইবনে আবদুল আজিজ আয যায়েদ, সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ ওলামা কাউন্সিলের সদস্য ও মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সাদ বিন তুর্কি ইবন মুহাম্মাদ আল খাচলান, রিয়াদ জামিউল ইখলাসের সম্মানিত ইমাম ও খতিব মুহাম্মদ সালেহ মুহাম্মাদ আস সামেরি, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ জাইফুল্লাহ আল মাতিরী, সালেম সাইদ ইবনে সালেহ আবদুল আজিজসহ সৌদি রাষ্ট্রদূত ও অন্য কর্মকর্তারা।

বেলা ১২টায় চরমোনাই ময়দানে এলে চরমোনাইয়ের পীর সাহেব মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করীম, নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম ও আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী তাঁদের স্বাগত জানিয়ে লালগালিচা সংবর্ধনা দেন। পরে তাঁরা জামিয়ার কার্যালয়, কোরআন শিক্ষা বোর্ড অফিস ও মাহফিলের প্যান্ডেলসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইবরাহীম ইবনে আবদুল আজিজ আয যায়েদ জানান, তিনি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পক্ষ থেকে এসেছেন। তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, চরমোনাইয়ের পুরো ময়দানজুড়ে যেন নূর চমকাচ্ছে। তিনি ঈমানি এই দলের সঙ্গে থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। এখানে আসতে পেরে তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং বলেন, ‘আমাদের নীতি হলো বিশ্ব মুসলিমের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি পীর সাহেবের পরিবারকে পবিত্র পরিবার উল্লেখ করে তাঁকে মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজক এবং আসার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

সাদ বিন তুর্কি ইবন মুহাম্মাদ আল খাচলান তাঁর বক্তব্যে বলেন, পঙ্গপালের মতো অসংখ্য মানুষ দুনিয়ার কোনো উদ্দেশ্যে নয়, শুধু আল্লাহকে পাওয়ার জন্য এখানে ছুটে এসেছেন। তিনি সব মুমিনকে একটি দেহের মতো উল্লেখ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি ঈমান, নামাজ, ইলম ও মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় জোর দেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির পীর সাহেব চরমোনাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওলামা সম্মেলনে বিশ্ববরেণ্য ওলামা-মাশায়েখসহ দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম বক্তব্য দেন। বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপিঠ ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিমের প্রতিনিধি হিসেবে আসেন নায়েবে মুহতামিম আবদুল খালেক সাম্বলী, শায়খে সানী আল্লামা কমর উদ্দিন, নাজেমে তালিমাত আল্লামা ইউসুফ তাওলুভি, সাবেক নাজেমে তালিমাত আল্লামা মুজিবুল্লাহ।

মক্কা শরিফের বাসিন্দা বিশ্ববরেণ্য মাশায়েখ আল্লামা আবদুল হাফিজ মক্কী (রহ.)-এর দুই ছেলেসহ সাতজন সন্তান উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে এক ছেলে তাঁর বক্তব্যে তাঁদের মরহুম বাবার জন্য দোয়া কামনা করেন। মরহুম আবদুল হাফিজ মক্কী গত বছর মাহফিলে এসে বক্তব্য রেখেছিলেন।



মাহফিলে আরো বক্তব্য দেন ওমানের মাসকাট উলুমে শরইয়্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার খালিদ ইবনে মুহাম্মাদ সালেম আবদালি। তিনি বলেন, যারা কোরআনের বিরোধিতা করবে তারা ধ্বংস হবে। মুসলমানদের কোরআন প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

দেওবন্দের আল্লামা আবদুল খালেক সাম্বলী বলেন, যুগে যুগে কাদিয়ানিসহ বাতিলগোষ্ঠী চেষ্টা করেছে মানুষকে আলেমদের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে, কিন্তু তারা সক্ষম হয়নি। তাই আলেমদের সতর্ক থেকে দ্বীনের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

বক্তারা চরমোনাইকে বাংলাদেশ ও সারা বিশ্বের সহিহ দাওয়াতি মারকাজ হিসেবে অভিহিত করেন।

বিদায়ের আগে সৌদি মেহমান ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ সৌদি বাদশাহর পাঠানো নানা ধরনের সম্মানজনক উপহারসামগ্রী পীর সাহেব মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, অধ্যক্ষ সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানীসহ পরিবারের সব সদস্যের হাতে তুলে দেন ।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার জামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা আবদুল হক আজাদ, অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, হাফেজ মাওলানা এ টি এম হেমায়েত উদ্দিন, তেজগাঁও মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ, বরিশাল মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগের শায়খুল হাদিস মাওলানা আবু সাবের আবদুল্লাহ, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, মুফতী হেমায়েতুল্লাহ, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, জামিয়া মুহাম্মাদিয়া মোহাম্মদপুরের অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, দারুল উলুম মিরপুর ১৩-এর মুহতামিম মুফতি রেজাউল হক আবদুল্লাহ, মাদানীনগর মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা আবদুস সাত্তার (পীরসাহেব, গালুয়া), মাওলানা মুফতি মাহমুদুল হাসান ওয়ালিউল্লাহ (পীর সাহেব, বরগুনা)।

সঞ্চালনায় ছিলেন মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা নেছার উদ্দিন ও মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী।

বিকেল ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের শীর্ষস্থানীয় ওলামাসহ দেশি বিদেশি ওলামায়ে কেরাম বয়ান পেশ করেন।

মাহফিলের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রোববার বেলা ১১টায় ছাত্রদের উদ্যোগে ছাত্র-গণজমায়েত ও ২৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ৮টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এ মাহফিলের সমাপ্তি ঘটবে।

চরমোনাই মাহফিলে সৌদি আরবের শীর্ষ আলেম ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ

আইএবি নিউজ: লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও দেশ বিদেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের পদচারণায় মুখর হয়েছে উঠেছে চরমোনাই ময়দান। আজ চরমোনই বার্ষিক মাহফিলে অংশগ্রহণ করেছে সৌদি আরবে একদল শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা।

আজ সকাল ১০ টায় সৌদি আরবের অতিথিগণ হেলিকপ্টর যোগে বরিশালের চরমোনাইতে পৌঁছান।

মাহফিলে অংশগ্রহণকারী মেহমানগণ হলেন-

১. ইবরাহীম ইবন আব্দুল আজীজ সাদ আযযায়েদ, সৌদি আরবের ধমবিষয়ক মন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা।

২. সাদ বিন তুরকী ইবন মুহাম্মদ আল খাচলান, সৌর সরকারের সবোর্চ্চ উলামা কাউন্সিলের সদস্য ও মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা।

৩. মুহাম্মদ সালেহ মুহাম্মদ আস সামরী, রিয়াদ জামিউল ইখলাসের সম্মানিত ইমাম ও খতীব। 

৪. আব্দুল্লাহ জাইফুল্লাহ আল মাতিরী, সৌদি ধম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের কমকর্তা।

৫. সালেম সাইদ ইবনে সালেহ আব্দুল আযীয, সৌদি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের কমকর্তা।

৬. খালিদ ইবন মুহাম্মদ সালেম আবদালী, উসতায, মাসকাট উলুমে শরঈয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

বিদেশি মেহমানদের দায়িত্বে থাকা  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ আওয়ার ইসলামকে আগত মেহমানদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

আগত সৌদি মেহমানগণ মাহফিলে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করেন। দুপুরে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের মেহমানদারি গ্রহণ করে ঢাকার উদ্দেশে চলে আসেন।
কৃতজ্ঞতা: আওয়ার ইসলাম

চরমোনাই মাহফিলে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আইএবি নিউজ: ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিলের আজ প্রথম দিনে বাদ মাগরিব জাতীয় শিক্ষক ফোরামের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলন মাদ্রাসা ভবনের ২য় তলায় অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আব্দুস সবুর এমএসসি এর পরিচালনায় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় আহবায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আইনজীবী পরিষদের সেক্রেটারী জেনারেল এ্যাড. লুৎফর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয়

যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা, কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শিক্ষক নেতা মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য্ প্রভাষক মাওলানা আলগীর হোসাইন, কেন্দ্রীয় সদস্য এবং বরিশাল বিভাগীয় জোন জিম্মাদার উপাধ্যাক্ষ মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য প্রিন্সিপাল হুমায়ুন কবীর, সদস্য (দফতর) ভাইস প্রিন্সিপ্যাল আমজাদ হোসেন আজমী, সিলেট বিভাগের জোন জিম্মাদার মাওলানা মিয়াজুল করীম, চট্রগ্রাম মহানগর আহবায়ক এবং বিভাগীয় জোন জিম্মাদার প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা ক্বারী দিদারুল মাওলা প্রমূখ।

সম্মেলনে জেলা দায়িত্বশীলবৃন্দ শিক্ষক ফোরামের কাযর্কমকে আরো বেগবান করার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষকদের মধ্যে ফোরামের কার‌্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে সারাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ শিক্ষক এতে অংশ নেন।

সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আহবায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ব­­লেন যে, নাস্তিক্যবাদী, সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতী  বিধ্বংষী পাঠ্যক্রম সংশোধনে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম কাযর্করী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।থতিনি চক্রান্তকারীদের ‍মুখোশ উন্মোচনে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের দায়িত্বশীল, সদস্য, সমর্থকদের সর্বদায় সর্তক থাকার আহবান জানান।।­­­

বক্তব্যের ধারাবাহিকায় কেন্দ্রীয় সদস্য হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন তার বক্তব্যে বলেন ইসলামকে বিজয় করার অন্যতম ধারাবাহিকতার নাম জাতীয় শিক্ষক ফোরাম। শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড আর শিক্ষকগণ হলেন শিক্ষার প্রাণ।তাই ইসলামকে বিজয়ী করতে হলে শিক্ষার বিপ্লবের বিকল্প নেই, তাই স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সকল শিক্ষকগনকে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ।

পরিশেষে দোয়ার মাধ্যমে সম্মেলন পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

চরমোনাই মাহফিল থেকে, আশরাফ আলী সোহান

 

শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে চরমোনাই মাহ্ফিল শুরু

আইএবি নিউজ: দেশের অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম গনজমায়েত চরমোনাই’র ফাল্গুনের ৩ দিনব্যাপী বাৎসরিক মাহফিল শুরু হয়েছে। সেই সাথে বরিশালের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জুমআর নামাজ আদায় করা হয়েছে এই ময়দানে।

শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমআ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (শায়েখ চরমোনাই) এর উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। চরমোনাই ময়দানে জুমআর নামাজের খুৎবা প্রদান করেন সৌদি থেকে আগত রিয়াদস্থ মসজিদ আল এখলাস এর সম্মানিত খতীব শায়েখ মুহাম্মদ সালেম মুহাম্মদ আস শাম্মিরি।

মাহফিলের প্রথম দিনে উদ্বোধনী বয়ানে শায়েখ চরমোনাই নিয়তের পরিশুদ্ধি সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, মাহফিল ময়দানে দুনিয়া লাভের কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ এসে থাকলে তাদের নিয়ত পরিবর্তন করে একমাত্র আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য এ ময়দানে বসতে হবে। কারণ নিয়তের ওপর সকল কাজ নির্ভরশীল। তাই নিয়তকে আগে পরিশুদ্ধ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এই মাহফিল দুনিয়ার কোনো উদ্দেশ্যের জন্য করা হয় না। এটা শুধু আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও আল্লাহর পথভোলা বান্দারেরকে আল্লাহর সাথে মিলিয়ে দেয়ার জন্য আয়োজন করা হয়েছে।

চরমোনাই মাহফিলে মুসল্লিদের অবস্থানের জন্য ১০০ একর প্রসস্থ মাঠে সামিয়ানা টানানো হয়েছে। মাহফিলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ-র‌্যাব ছাড়াও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রায় কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। মাহফিলে আগত মুসল্লিদের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে হাই ভোল্টেজ জেনারেটর। আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে একটি অস্থায়ী হাসপাতাল রয়েছে।

মাহফিলের বয়ান www.charmonaivs.net/live এই ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচার করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কলরব সকলের অকুন্ঠ ভালবাসা নিয়ে তার নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে চলছে: রশিদ আহমদ ফেরদাউস

রশিদ আহমদ ফেরদৌস। একজন সমাজদরদি সাংস্কৃতিমনা মানুষ। ছোট থেকেই নিজেকে জড়িত রেখেছেন নানারকম কল্যাণকাজের সঙ্গে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে গড়ে তুলেছিলেন ইখওয়ান সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা। বর্তমানে তিনি কলরবের প্রধান পরিচালক হিসেবে নিজের বোধ ও শিল্পচেতনাকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পেশাগত জীবনে তিনি বুনইয়ান আবাসন লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে কামিল সম্পন্ন করেছেন। সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আওয়ার ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক রোকন রাইয়ান




কলরবের বর্তমান হাল হাকিকত কেমন?

রশিদ আহমদ ফেরদৌস: ২০০৪ সালে আইনুদ্দীন আল আজাদ প্রতিষ্ঠানটি শুরুর পর অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে একে মাঠ পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে গেছেন। গানবাজনা রেখে মানুষ যেন ইসলামি সঙ্গীতমুখী হয় সার্বক্ষণিক সেই চিন্তা লালন করেছে কলরব। এটি সূচনা করেছিলেন আইনুদ্দীন আল আজাদ রহ.। একে পরিচিত করতে তিনি দীর্ঘ সময়ও ব্যয় করেছেন। দুঃখজনক ব্যাপার হলো ২০১২ সালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি ইন্তেকাল করেন। হুট করে এমন একটা সংবাদ কলরবের জন্য বিপদজনক ছিল। এর কিছুদিন পর হুমায়ুন কবির শাবিব চলে যান কলরব থেকে। তখন থেকে কিছু ক্রাইসিস ছিল কলরবে। কিন্তু কলরবে যারা আছেন সবার বিচক্ষণতায় সেগুলো ধীরে ধীরে কাটিয়ে কলরব একটি নির্ভরযোগ্য জায়গায় এসেছে।

আজ শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বেই কলরবের সঙ্গীতের একটা শ্রোতা সবর্ত্র তৈরি হয়েছে। কলরবের রিংব্যাকটোন লাখো মানুষ ব্যবহার করছেন। এসবের দিকে তাকালে বলতেই হবে একটা বিপ্লব ঘটেছে কলরবের মাধ্যমে। অনেক গানের শ্রোতাও এখন ইসলামি গানে ফিরছেন এবং মোবাইলে ইসলামি গান রিংব্যাকটোন বানাচ্ছেন। এটি স্ট্যাবলিশ হওয়ার জন্য কলরবের অবদান অনেক বেশি।

এত স্বল্প সময়ে ব্যাপকভাবে ইসলামি সঙ্গীতের বিস্তৃত হওয়ার পেছনে কী কারণ?

রশিদ আহমদ ফেরদৌস: আমার মনে হয় এটার বিস্তৃত একটা কারণ আছে। সারা বিশ্বেই ইসলাম থেকে মানুষ দূরে সরে যাওয়ার পর যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল সেটা থেকে পুনরায় মানুষ ব্যাপকভাবে ইসলামে ফিরে আসছে। এটা কেবল সঙ্গীতের ক্ষেত্রে নয় সামগ্রিক ইসলামের উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে এখন।

এখানে কিছু রাজনৈতিক বিষয় আছে, রাশিয়ার সোভিয়েত ইউনিয়ন, সমাজতন্ত্রের পতনের মধ্যে দিয়ে আমেরিকার একক গণতন্ত্রের উত্থানের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে একটা আধিপত্য বিস্তারের যে প্রবণতা এসবে ইসলাম কোণঠাসা হওয়ার একটা দিক সবসময় ছিল। ইসলামকে কোণঠাসা করতে হবে, দাবিয়ে রাখতে হবে এই মানসিকতাটা দীর্ঘদিন থেকেই আমরা দেখে আসছি। কিন্তু এর বিপরীতে যারা ইসলামকে ভালোবাসেন, ইসলামি চেতনা লালন করেন তারা সবসময় বিষয়টি নিয়ে ফিকির করেছেন। তাদের কাজ, চিন্তা ও অবদানেই সারা বিশ্বে ইসলামের ব্যাপকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোটা আমরা ইদানিং প্রত্যক্ষ করি।

বাংলাদেশ তো ছোট্ট একটা দেশ। কিন্তু এখানে দাওয়াতি কাজ প্রচুর। প্রতিটি পাড়া মহল্লাতেই মসজিদ মাদরাসা গড়ে উঠেছে। একটা দীনি দাওয়া ও আবহ কন্টিনিউ হওয়ার কারণে ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষের ইসলাম গ্রহণ ও পালনের মানসিকতা প্রচুর বেড়েছে।

একটা প্রশ্ন অনেকেই করেন কলরব যে আদর্শে সূচনা করেছিল সেখান থেকে কিছুটা সরে আসছে, এটাকে যৌক্তিক মনে করেন কিনা?

রশিদ আহমদ ফেরদৌস: আমার মনে হয় যারা কলরবের উন্নতিকে যারা বাধাগ্রস্ত করেন তারাই এমন অভিযোগ করে থাকে। কারণ কলরব আজ যে জায়গায় রয়েছে যে ভালোবাসার উচ্চ মিনার তৈরি করেছে তা আইনুদ্দীন আল আজাদ ও তার হাতে গড়া ছাত্রদের ফসল। তারা যদি সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায় তবে প্রতিষ্ঠান এতদূর এগুতে পারতো না। সুতরাং যারা কলরবকে হিংসা করে, দেখতে পারে না এগুলো তারাই ছড়ায়।

আমি আইনুদ্দীন আল আজাদকে সঙ্গীতের শুরুর জীবন থেকে দেখেছি, আর এখন তার শিষ্যদের দেখছি এর মধ্যে কোনো ফারাক খুঁজে পাইনি। কলরব আজাদের চেতনা ও আদর্শ এবং কাজকে বুকে লালন করেই এগিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান সময়ের শ্রোতাদের যে চাহিদা কলরব কি সেটা পূরণ করতে পারছে?

রশিদ আহমদ ফেরদৌস: কলরব তার শ্রোতাদের চাহিদা পূরণে সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেটা ভালোভাবেই করে যাচ্ছে। আমার মনে হয় এখান থেকেই নিন্দুকরা কলরবের প্রতি বিষোদগার করছে। কারণ শ্রোতার চাহিদা পূরণে অনেক কিছুই যোগ করতে হচ্ছে। একটা সময় ইসলামি গান কেবল ওয়াজ মাহফিলে সীমাবদ্ধ ছিল এখন আলাদা কনসার্ট হয়, অ্যালমাব হয়, ভিডিওগ্রাফি হয়। এসব করতে গিয়ে আগের চেয়ে সবকিছুকে একটু উন্নত করতে হয়েছে। এগুলোকে অনেকেই বিপরীত মনে করছে। অথচ বিশ্বের দিকে তাকালে দেখতে পারবেন ইসলামি গান কতদূর এগিয়ে গেছে। তাদের ইন্সটুম্যান্ট, চিন্তা চেতনা, ভিডিওগ্রাফি সবই উন্নত। এগুলো কিন্তু খেয়াল করতে হচ্ছে।

আর এক সময় কলরবের গান একটা নির্দিষ্ট অঙ্গনের শ্রোতাদের মধ্যে সীমিত ছিল এখন সর্বস্তরে পৌঁছে গেছে। সার্বিকভাবে সবখানে ইসলামি সঙ্গীতকে পৌঁছানোর কাজ করছে কলরব। এবং আমি মনে করি এটাতে আমরা সফল আলহামদুলিল্লাহ।

আরেকটা বিষয় হলো, কিছু কাজ করতে গিয়ে সবারই ভুল হতে পারে। আমাদেরও হতে পারে। কেউ যদি শুভাকাঙ্ক্ষি হয়ে এগুলো ধরিয়ে দেয় অবশ্যই আমরা সেগুলোর সমাধান করার মানসিকতা রাখি।

কিছুদিন আগে ফেসবুকে কলরবের নিয়ে বেশ লেখালেখি চোখে পড়েছে, বাইরের মানুষের পাশাপাশি কলরবের ভেতরকার মানুষও সেসবে জড়িত দেখা গেছে এগুলো কেন হচ্ছে?

রশিদ আহমদ ফেরদৌস: হ্যাঁ বিষয়টা বেশ পীড়াদায়ক ছিল। এখনও রয়েছে। তবে এগুলো থাকবে না আশা করি। আসলে আইনুদ্দীন আল আজাদ চলে যাওয়ার পর তার মতো অভিভাবকের শূন্যতা এখানে কিছুটা গ্যাপ তৈরি করেছে। কলরবের উপার্জনে অনেকের চোখ পড়েছে হয়তো। এগুলো ব্যক্তিস্বার্থে কাজ করেছে। যার ফলে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল।

আলহামদুলিল্লাহ কয়েকদিন আগে একটা কমিটি হয়েছে, সেখানে সিনিয়র অনেকেই রয়েছেন ইমতিয়াজ আলাম, শাহ ইফতেখার তারিক ভাই রয়েছে। তারা একটা প্রতিবেদনও তৈরি করছেন। এটা হলে এ ধরনের সমস্যাগুলো কেটে যাবে।

আরেকটা বিষয় কলরবের সংগঠনে কোনো সমস্যা নেই। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে কোনো ঝামেলায় জড়াতে পারে এগুলো সংগঠনের ব্যাপার নয়।


কৃতজ্ঞতা: আওয়ার ইসলাম

চরমোনাইর চরমোনাই বাৎসরিক (ফাল্গুন) মাহফিলকে ঘিরে মুসল্লীদের ভীড়ে মুখরিত বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীর

চরমোনাইর বাৎসরিক (ফাল্গুন)  মাহফিলকে ঘিরে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীর এখন সারাদেশ থেকে আগত মুসল্লীদের ভীড়ে মুখরিত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষ যেনো নির্বিঘ্নে চরমোনাই’র মাহফিলে পৌঁছাতে পারে সে জন্য দেশবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলে দু‘আ করেছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি বাদ জু‘আ আমীরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব হুজুরের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে ৩ দিন ব্যাপী এ মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হবে।

১০ বর্গকিলোমিটারব্যাপী ৪টি মাঠে সামিয়ানা টানানো হয়েছে, যাতে প্রায় ৬০ লক্ষ লোক অবস্থান করতে পারবে। কিন্তু বিগত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে আখেরী মুনাজাতে সামিয়ানার বাইরেও অসংখ্য মানুষ অবস্থান করে। মাহফিলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ-র‍্যাব ছাড়াও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে। নিজস্ব প্রায় ১০০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে সবকটি মাঠের নিরাপত্তা মনিটরিং করা হচ্ছে। তিন হাজার হর্ণের মাধ্যমে সব মাঠে বয়ান শোনার ব্যবস্থা আছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৩টি হাই ভোল্টেজ অটো জেনারেটর রয়েছে। মুসল্লীদের খাবার পানি ও ওযু-গোছলের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে সবকটি মাঠে। মুসল্লীদের চিকিৎসা সেবায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল রয়েছে।

দেশের মুসল্লীদের পাশাপাশি এবারের মাহফিলে ভারত, সৌদী আরব, ওমান, দুবাই, বাহরাইন, মালয়েশিয়া, লন্ডন ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও মেহমানগণ উপস্থিত হচ্ছেন। দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট মেহমানদের জন্য রয়েছে আলাদা মেহমানখানা।

দেশ বিদেশ থেকে ঘরে বসে যাতে সবাই মাহফিলের ভিডিওসহ বয়ান শুনতে পারে সেজন্য www.charmonaivs.net/live এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার এবং www.facebook.com/mediacharmonai ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নিউজ আপডেট প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

চরমোনাই'র বার্ষিক মাহফিল শুরু আগামীকাল

আইএবি নিউজ: বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে চরমোনাই'র ৩দিন ব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ-মাহফিল আগামীকাল শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) শুরু হচ্ছে।
সোমবার সকাল ৯টায় আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি হবে। বিশ্ব ইজতেমার পর চরমোনাই মাহফিলকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইসলামী মহাসমাবেশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর পীর সাহেব চরমোনাই মাওলানা মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের সূচনা করবেন। ৩দিনে মোট ৭টি বয়ান হবে। তার মধ্যে ৫টি বয়ান করবেন আমীরুল মুজাহিদীন হযরত পীর সাহেব চরমোনাই ও ২টি বয়ান করবেন নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল করীম।

এছাড়াও মাহফিলে আগত বিদেশী উলামায় কেরামগণও মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বয়ান করবেন। তাদের মধ্যে উম্মুল মাদারিস দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান নায়েবে মুহতামিম ও সিনিয়র মুহাদ্দিস হযরত আল্লামা শায়খ আবদুল খালেক সাম্ভলী সাহেব, শাইখুল আরব ওয়াল আজম হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী রহিমাহুল্লাহ-এর খাস শাগরেদ, হযরতুল আল্লাম ইবরাহিম বলিয়াভি রহিমাহুল্লাহ-এর বিশেষ খলিফা, দীর্ঘ দিনের শায়খে মুসলিম শরিফ, দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান শায়খে সানী, হযরতুল আল্লাম শায়খ কমরুদ্দিন আহমদ সাহেব এবং দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস, শায়খুল মা’কুলাত হযরতুল আল্লাম মুজিবুল্লাহ কাসেমি সাহেব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উদ্বাধনী বয়ানের পর প্রত্যেক দিন ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর মুসুল্লীদের উদ্যেশ্যে বয়ান করবেন পীর সাহেব চরমোনাই। এছাড়া শুক্রবার জুম্মার আগে মাহফিল মাঠে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

মাহফিলের দ্বিতীয় দিন শনিবার বেলা ১১টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন এবং তৃতীয় দিন রোববার সকাল ১০টায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে তিনদিন আগে থেকে চরমোনাই মুরীদানেরা মাহফিলে আসতে শুরু করেছেন। মুসুল্লীদের জন্য মোট ৪টি মাঠে প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার প্যান্ডেল করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে সবগুলো মাঠ মুসুল্লীতে পরিপূর্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মাহফিলের আয়োজকরা। মাহফিলে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করছেন ৫ সহাস্রাধিক মুজাহিদ।

মাহফিল সফলের আহবান; বাংলা ভাষা থেকে মুসলমানি শব্দ বাদ দেয়ার চক্রান্ত চলছে: পীর সাহেব চরমোনাই

আইএবি নিউজ: বাংলা ভাষা থেকে আরবী, ফার্সী, তুর্কী প্রভৃতি মুসলমানি শব্দ বাদ দেয়ার যে চক্রান্ত চলছে, তাতে জনগণ উদ্বিগ্ন ও উৎকন্ঠিত। বাংলা ভাষাকে বাঞ্ছিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে হলে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের চরমোনাই মাদরাসায় বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামই মাতৃভাষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন ‘আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি’। অপরদিকে মহানবী সা. বলেছেন, ‘আমি আরবের শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধভাষী’।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের গৌরবের কথা শুধু বর্ণনা করে আত্মতৃপ্তি পাবার সুযোগ নেই বরং বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য আন্দোলনের যে নজির রয়েছে, সেই আদর্শ গ্রহণের মধ্যেই ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের প্রকৃষ্ট উপায়। আজ প্রয়োজন ভাষা আন্দোলনের সেই চেতনাকে উজ্জীবিত করা। অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য ভাষা সংগ্রামের অনুপ্রেরণা এবং সেই সাথে ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে। ভাষা আন্দোলন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অনুশীলনের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার মধ্যে ভাষা দিবস পালনের স্বার্থকতা।

তিনি আরো বলেন, জনগণ তাদের সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে বাংলাভাষা বিকৃতির অনৈতিক পরিবেশের পীড়ন অনুভব করছেন। নৈতিক চেতনা ও আদর্শবোধ দুর্বল ও অনুশীলনহীন করার যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তাতে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব নয়।

চরমোনাই পীর বলেন, বাংলাভাষাকে একটি সুনির্দিষ্ট ধারায় প্রবাহিত করা সহজসাধ্য হবে না। কেননা বাংলা ভাষাকে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধারা প্রতিষ্ঠায় সকল মত ও পথের অনুসারী মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাভাষার নিজস্ব ধারা গঠনের কর্মসূচী বাস্তবায়নের যাত্রা অবারিত করার ক্ষেত্রে সকল দল ও মতের মানষেরই অনুগত থাকার পরিবেশ সৃষ্টি করা অপরিহার্য।

পাশাপাশি পীর সাহেব চরমোনাই ২৪, ২৫, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ চরমোনাইর বার্ষিক মাহফিল সফলের জন্য দেশের ঈমানদার জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

চরমোনাই মাহফিল নিয়ে আমার ভাবনা

১৯৮৮ সাল। ক্লাশ ফাইভে পড়ি। আমার আব্বাজান রহ. সে সময়ে চরমোনাই‘র অগ্রহায়ন অথবা ফাল্গুনের মাহফিলে নিয়ে গেলেন। মাদারীপুর জাফরাবাদ গ্রাম থেকে ট্রলারযোগে দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে রাতে চরমোনাইতে নোঙ্গর করি। নামতে নামতে কানে আসে লা ইলাহা ইল্লাহর জিকির। নরম ও করুণ সুরে জিকেরের আওয়াজ এতই সুমধুর লাগছিল, মনে হয় মাওলার নুরের খেলা জমে উঠছে। কিছুক্ষণ পরে এশার নামাজ আদায় হল। খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে গেলাম। রাত গভীর হল........কানে কানে কে যেন ডাকছে, উঠুন বা তাড়াতাড়ি ওঠ......তাহাজ্জুদ পড়। উঠলাম.......কিছুক্ষণ পরেই লম্বা ও মায়াবী সুরে মুয়াজ্জিন আজান দিলেন। আজানে চোখের পানি ধরে রাখা যাচ্ছিল না। শেষ না হতেই মাওলা পাকের জিকির লা.... ইলাহা... ইল্লাহ। কিযে মধুর টান জিকিরে..না শুনলে বুঝানো যাবে না। নামাজ হল, ভোর হল, কেমন যেন হেদায়েতর দোর খুলল। পীর সাহেব চরমোনাই রহ. বয়ান শুরু করলেন। সম্ভবত কওমী মাদরাসার সামনে তৎকালিন জোড়া পুকুরের পাশে বসে বয়ান শুনছি। বয়ানের এক পর্যায়ে উজানীর ফয়েজ চরমোনাইতে নাকি লাগে..যা হবার তাই। ওরে কান্নাকাটি আর পাগলদের লাফালাফি, যা কঠোর হৃদয়ের মানুষকেও মমের মত নরম করে তুলে। এক আল্লাহর পাগল আমার পাশ দিয়ে দৌড় দিয়ে সোজা পুকুরের কাদার ভিতরে পড়ে গেলেন, তার মাথাসহ বুক পর্যন্ত কাদার মধ্যে গেথে রইল। আমার মনে হল লোকটি মারাই যাবে। অনেক্ষণ পর স্বেচ্ছাসেবক ভাইয়েরা এসে তাকে ওঠালেন। দেখি তখনও সে জিকির করছে। আশ্চর্য হলাম, এতক্ষণে কেমন করে কাদার মধ্যে রইলেন। যাক দেখেতে দেখতে তিন দিন চলে গেলেন। আখেরী মোনাজাত হল। চললাম দেশের পানে।

সেই ছোট্ট ময়দান আজ অনেক বড়! অনেক বড়!! যে বড় এর কোন শেষ নেই। যে ময়দানে মাওলার ভয়ে ও মহব্বতে এত বেশী চোখের পানি পড়ে মাঠ ভিজে যায়, যা অন্য কোন দরবারে বা মাঠে ভিজে কিনা আমার জানা নেই। তবে এ দেশে অনেক নামী-দামী বড় বড় দরবার আছে, কিন্তু চরমোনাই‘র মাহফিল বা দরবাবের তুলনা আমার কাছে একটাই..সেটা..............।

চরমোনাই আজ একটা সাইনবোর্ড। শুধু সা্ইনবোর্ড  বললে ভুল হবে, এটা মহা এক সাইনবোর্ড। বাংলার নয় শুধু, সারা বিশ্বে আজ চরমোনাই‘র পরিচিতি। দিন যাচ্ছে আকর্ষণ বাড়ছে। চল দেখি চরমোনাই, দেখি কেমন এক অদ্ভুদ জায়গা। কেন মানুষ ছুটে যায়? কেন তারা মাওলার পাগল হয়? কেন তারা সাহসী যোদ্ধা হয়? সংগ্রামে-রাজপথে তাদের কেন এত বিচরণ? শত বাঁধা আর কাদা ছুড়াছুড়ির মধ্যেও কেন এগিয়ে চলছে? কেনই বা তাদের এত জনবল তৈরী হচ্ছে? কেনই বা যেখানে পীর সাহেব চরমোনাই বা বাংলার বাঘ হযরত মুফতি সাহেব সফরে যান সেখানে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম হয়? কেনই বা তাদের কথায় এত চুম্বক? কেন? কেন? কেন?

কেন? এর মাঝে আমার অনভুতি ৩টি :

অনভুতি-১ : এই দরবারের যারাই আছেন বা ছোহবতে থাকেন-বেশী বেশী জিকিরের কারণে তাদের অন্তরে আল্লাহ ও তার রাসুলের মহব্বত এবং ভয়ে চোখের পানি বেশী। যার কারণে তাকওয়ার পরিনতি খুলুছিয়াতও বেশী।

অনুভুতি-২: এই তরিকার পূর্বসূরী বড় বড় আল্লাহ ওয়ালা বুজুর্গদের নেছবত ও তাদের অনুসরণ লক্ষনীয়।

অনুভুতি-৩: পীর সাহেব চরমোনাই খানকার পীর হয়েও ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালনে রাজপথে মিছিল, সমাবেশ ও সংগ্রামে আছেন। আছেন আর্তমানবতার খেদমতে। আছেন তা‘মুরুনা বিল মারুফ ও ওয়াতান হাওনা আনীল মুনকারের প্রকাশ্য ঈমানী দায়িত্ব পালনে।

আমার জোরাল অনুভুতি-৩ এর কারণেই হয়ত আজ চরমোনাই উচ্চতার স্বর্ণ শিখরে এগিয়ে যাচ্ছে।

অনেক হক্কানী ও নামী-দামী পীর বা খানকা দেশে আরো আছে....কিন্তু তারা তারাই আছে..........। সারা বাংলাদেশে এককভাবে এবং হাজার বাঁধার মাঝেও চরমোনাই ছুটছে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার আলোকে একটি মিশন বাস্তবায়নের পথে।

চরমোনাই‘র মাহফিল হল চোখের পানিতে সিক্ত এক মাঠ যেখানে পদার্পন করলে বা বিচরণ করলে আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবত নেয়ার সুযোগ হয়। আমি মনে করি আমাদের ব্যক্তিগত দাওয়াতে ১০০ দিনে যে ফলাফল তৈরী না হয়, একজন লোককে চরমোনাই‘র মাঠে নিয়ে গেলে আর সেখানে তিন দিন রাখতে পারলে তার চেয়ে বেশী ফায়দা বা উপকার হয়। অর্থাৎ হেদায়েতের নেয়ামত তাড়াতাড়ি নছিব হয়। এ জন্যই  মরহুম শায়েখ রহ. বলতেন, চরমোনাই‘র মাঠের বরকতই আলাদা।

দোয়া চাই আমীরুল মুজাহিদীন পীর সাহেব চরমোনাই দা.বা এবং এই তরিকা বা আন্দোলনের সকল মুরব্বীদের জন্য। যাদের মেহনত ও একাগ্রতাই উম্মতের কাঙ্খিত কামনা বাস্তবায়নের পথ সহজ হতে পারে।

 

মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী

কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

পীর সাহেব-এর আমন্ত্রণে চরমোনাই'র পথে দেওবন্দের আরো দুই শায়েখ: আল্লামা খায়রাবাদি'র বিশেষ চিঠি

আইএবি নিউজ: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম সাহেব দামাত বারাকাতুহুমের বিশেষ আমন্ত্রণে ৪দিনের সফরে আজ বাংলাদেশে আসছেন ভরতের দারুল উলুম দেওবন্দের দুই শায়েখ।
১৷ উম্মুল মাদারিস দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান নায়েবে মুহতামিম ও সিনিয়র মুহাদ্দিস হযরত আল্লামা শায়খ আবদুল খালেক সাম্ভলী সাহেব হাফিযাহুল্লাহ।

২৷ শাইখুল আরব ওয়াল আজম হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী রহিমাহুল্লাহ-এর খাস শাগরেদ, হযরত আল্লামা ইবরাহিম বলিয়াভি রহিমাহুল্লাহ-এর বিশেষ খলিফা, দীর্ঘ দিনের শায়খে মুসলিম শরিফ, দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান শায়খে সানী, হযরত আল্লামা শায়খ কমরুদ্দিন আহমদ সাহেব হাফিযাহুল্লাহ।

শায়খদ্বয় ভারতীয় সময় আজ বেলা ১টা ৪০মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউ দিল্লির ইন্দিরাগান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ত্যাগ করার কথা রয়েছে৷ বিকেল ৪টা ২০মিনিটে ঢাকার শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করবেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, শায়খদ্বয়কে স্বাগত জানাতে শেখ ফজলে বারী মাসউদের তত্ত্বাবধানে পীর সাহেব চরমোনাই'র একটি প্রতিনিধি দল বিমান বন্দরে উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে পীর সাহেব চরমোনাই'র আমন্ত্রণে অনুষ্ঠেয় (২৪, ২৫, ২৬ ফেব্রুয়ারী) ফাল্গুনের মাহফিলে যোগ দিতে গত রবি বার ঢাকায় পৌঁছেছেন দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস, শায়খুল মা'কুলাত হযরত আল্লামা মুজিবুল্লাহ কাসেমি হাফিযাহুল্লাহ।

অপর দিকে বাংলাদেশ সফরে থাকা দেওবন্দের নাজেমে তা'লিমাত (শিক্ষা সচিব) ও সিনিয়র মুহাদ্দিস, হযরত আল্লামা মুফতি ইউসুফ তাওলাভী সাহেব হাফিযাহুল্লাহও চরমোনাই মাহফিলে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন মুফতি আবদুল আজিজ কাসেমি।

হযরতদের খেমতের তদারকিতে থাকা মুফতি হেমায়েত উল্লাহ কাসেমি সাহেব জানিয়েছেন, দেওবন্দের হযরতগণ আগামী কাল বিকেলে চরমোনাই মাহফিলের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। উলামা, তলাবা মজলিস ও আম মজলিসসহ কয়েকটি পর্বে হযরতগণের বয়ান করার কথা রয়েছে৷

মুফতি হেমায়েত উল্লাহ সাহেব জানান, দেওবন্দের মুফতিয়ে আজম হযরত আল্লামা মুফতি হাবিবুর রহমান খায়ারাবাদি সাহেবকেও পীর সাহেব এক বছর আগ থেকেই বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন৷ হযরতও যাওয়ার কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু আল্লামা খায়রাবাদি সাহেব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় এবং ডাক্তার কর্তৃক সফর করতে বারণ করায় হযরত এবার চরমোনাই মাহফিলে আসতে পারবেন না৷

এ দিকে হযরত আল্লামা খায়রাবাদি সাহেবের সাথে সাক্ষাত করলে তিনি জানান, 'পীর সাহেব এক বছর আগেই আমাকে চরমোনাই মাহফিলে দাওয়াত করেছিলেন। আমারও যাওয়ার এরাদা ছিলো কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় ভারত বাংলাদেশের সব সফর স্থগিত  করতে হয়েছে। ডাক্তারগণ কঠোরভাবে সফর থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে৷ আল্লাহ পাক সুস্থ রাখলে আগামী বছর চরমোনাই যাওয়ার ইচ্ছে আছে৷'

হজরত মুফতি খায়রাবাদি সাহেব অসুস্থতার বিষয়টি জানিয়ে চরমোনাই পীর সাহেব বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন। যা হযরত আল্লামা আবদুল খালেক সাম্ভলী সাহেব বহন করে নিয়ে যাবেন।

সূত্র মতে, মাহফিল শেষে দেওবন্দের তিন শায়খ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী দিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন৷




হাওলাদার জহিরুল ইসলাম

দেওবন্দ থেকে

 

তিনশো আসনে প্রার্থী দিবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে : ১৯৮৩ সালের ১৩ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে দলটি। প্রতিষ্ঠাকালে নাম ছিলো ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন। ২০০৮ সালে দলটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে নিবন্ধিত হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা আমীর ছিলেন মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. এবং প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন ব্যরিস্টার কুরবান আলী। পরবর্তীতে ব্যরিস্টার কুরবান আলী দলচ্যূত হলেও আজীবন দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ফজলুল করীম রহ.। তার মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

১৯৯১ সালে ইসলামী ঐক্যজোটের অংশিদার হয় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে চারদলীয় জোটে অংশগ্রহণের প্রশ্নে ইসলামি ঐক্যজোট ত্যাগ তারা। ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট নামে নির্বাচনী জোট করে এরশাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে। নির্বাচনে ঐক্যফ ফ্রন্ট ১৪টি আসন লাভ করলেও ইসলামী আন্দোলনের কোনো আসন ছিলো না।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে। এবারও তারা কোনো আসন লাভ করে নি। তবে মোট ভোটের ০.৯৪ ভাগ লাভ করে। যা দলীয় ভোটের বিবেচনায় ৫ম এবং জামাতে ইসলামী ব্যতীত অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর মধ্যে শীর্ষ। ২০১৫ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে বিরত থাকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।

অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর অবস্থান দিনদিন দুর্বল হওয়ায় ইসলামি রাজনীতিতে ইসলামী আন্দোলন এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলেই ধারণা করা হয়। এ অবস্থান কাজে লাগিয়েই আগামী নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য প্রত্যাশা করছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। নব গঠিত ইসি, আগামী জাতীয় নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের আশা-প্রত্যাশা, প্রস্তুতি ও ইশতেহার নানা বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি। আলাপচারিতার চুম্বকাংশ পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন আতাউর রহমান খসরু।

ইসি গঠনে ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যাশা পূরণ হয় নি। দলটি মনে করে, তাদের প্রস্তাবনা বিবেচনা করলে আজ ইসিকে নিয়ে সচেতন মহলে বিতর্ক হচ্ছে তা হতো না। তবে দলের যুগ্ম মহাসচিব মনে করেন, ‘বর্তমান ইসিকে মূল্যায়ন করার জন্য যথেষ্ট সময় এখনো পার হয় নি। ইসিকে মূল্যায়ন করতে হলে আরও কিছু সময় প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তাছাড়া ইসি নিরপেক্ষ হলেই নির্বাচন নিরপেক্ষ তা কিন্তু নয়। এর সাথে আরও অনেক কিছু জড়িত। যেমন, নির্বাচনকালীন সময়ে কারা সরকার পরিচালনা করবে, সে সরকারের আচরণ কেমন হবে, প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করছে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসি যদি নিরপেক্ষও হয় আর প্রশাসন ও সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব প্রশাসন ও সরকারেরও।’

নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দলটি আরও কিছু সময় নিবে। নতুন ইসি ও সরকারের কাযক্রম পযবেক্ষণ করছে দলটি। পরিবেশ পরিস্থিতি ইতিবাচক মনে হলে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিবে তারা। তবে আপাতত ইতিবাচক ভাবনায় কাজ করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে। এ ব্যাপারে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা নির্বাচনমুখী একটি দল। সাধারণত আমরা সব ধরণের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকি। নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি দলে রয়েছে।’

কেমন প্রস্তুতি রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী তৎপরতা আমাদের দলে সারা বছরই চলে। তাই নতুন করে খুব বেশি কিছু আমাদের করা লাগবে না।’

কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব নিশ্চয় অন্য কোনো নির্বাচন থেকে ভিন্ন? ‘আসলে আমরা তো প্রার্থী কেনাবেচা করি না। আমাদের প্রার্থীও প্রস্তুত থাকে। অন্যান্য প্রস্তুতিও থাকে।’

তবে কী গত জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীরাই এবার নির্বাচন করবেন? ‘না, না। আমাদের তৃণমূল থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় একাধিক প্রস্তাব আসে। তারপর আমাদের নির্বাচনী সেল যাকে উপযুক্ত মনে করেন তাকে মনোনয়ন দেন। এবং সে প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’

নির্বাচনী জোটের ব্যাপারে বেশ সতর্ক দলটি। আপাতত নির্বাচনী কোনো জোটের ইচ্ছে নেই। বিভিন্ন দল নির্বাচনী জোটের ঘোষণা দিলেও সে ব্যাপারে আগ্রহবোধ করছে না ইসলামী আন্দোলন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, যারা জোটের রাজনীতিতে অভ্যস্ত তারা এখনি জোটের জন্য ব্যস্ত হয়ে গেছেন। আমরা শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। আমরা আদর্শের রাজনীতি করি। কেউ যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সহযোগী হতে চাই তাহলে তার সাথে আমরা জোটভূক্ত হবো অথবা যুক্ত করবো। ক্ষমতার অংশিদার হওয়ার জন্য আদর্শ বিসর্জন দিয়ে জোট করবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

কিন্তু বার বার নির্বাচন করেও উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য না থাকলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয় না? ‘আমাদের কর্মীদের মধ্যে কোনো হতাশা নেই। আমাদের কোনো পর্যায়ে কোনো হতাশা নেই। আমরা রাজনীতি করি ইবাদত হিসেবে। সারা জীবন নামাজ আদায় করে কেউ যদি দুনিয়া কিছু না পায় তাহলে যেমন সে হতাশ হয় না। তেমন আমাদের কোনো হতাশা নেই।’

এ ক্ষেত্রে মানুষের সমালোচনাকেও গুরুত্ব দিতে নারাজ এ নেতা। তিনি মনে করেন, ‘মানুষ রাজনীতিকে বৈষয়িক বিষয় মনে করে বলেই নির্বাচনের জয় পরাজয়কে সবকিছু মনে করে।’

তবে সব মুরিদ দলকে ভোট দেয় না বিষয়টি স্বীকার করে দলের যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘মরহুম চরমোনাই পীর সাহেব বলতেন এবং বর্তমান পীর সাহেবও বলেন যারা ভোট দেয় না, তারা মুরিদ দাবী করলেও প্রকৃত মুরিদ তারা নয়। প্রকৃত মুরিদ সবাই দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেয়।’

এবারও দলটি তিনশো আসনে প্রার্থী দিবে এবং তিনশো আসনেই জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে নির্বাচন করবে। দলের সব প্রার্থী ও সব আসনকে সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করে দলটি। তাই দলের কাছে বিশেষ টার্গেটের কোনো আসন নেই। তবুও সম্ভাবনাময় আসনগুলো নিয়ে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দল বিশেষ উদ্যোগী হতে পারে।

পুরাতন কৌশলেই নতুন করে এগুতে চায় ইসলামী আন্দোলন। দলের যুগ্ম মহাসচিবের দাবি তারা আদর্শের রাজনীতি করে বলে তাদের নির্বাচনী কৌশল বারবার পরিবর্তন হয় না। ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী কৌশল ইসলাম। আমরা ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এ জনগণের মাঝে প্রচার করছি। এটাই আমাদের নির্বাচনী কৌশল। আমাদের কৌশলে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসবে না। 

নির্বাচনী ইশতেহারেও ব্যাপক কোনো পরিবর্তন আসবে না। গত নির্বাচন এবং তার পূর্বে যে ইশতেহার ছিলো মৌলিকভাবে তাই থাকবে। সাথে সমসাময়িক কিছু বিষয়ের সংযোজন হবে। সামান্য কিছু সংস্কার হবে।

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। তারপরও ইসলামী দলগুলো নির্বাচনে ভালো ফলাফল করতে পারছে না কেনো? উত্তরে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য না থাকার কারণ হলো বাংলাদেশের মানুষ ধর্মের ব্যাপারে আবেগী হলেও তাদের সামনের ধর্মের সঠিক উপস্থাপন হচ্ছে না। তারা মনে করে, ধর্মে রাজনীতি নেই, রাষ্ট্র নেই। ইসলাম অন্যান্য ধর্মের মতো রাষ্ট্র নিরপেক্ষ। আমরা যারা ইসলামের দাওয়াত দেই তারা খণ্ডিত ইসলামের দাওয়াত দেই। বরং কেউ কেউ যারা পূর্ণাঙ্গ ইসলামের কথা বলে অর্থাৎ গণবিপ্লবের মাধ্যমে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাদের সমালোচনা করি।

এছাড়াও আমাদের দেশের মিডিয়াগুলো ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা জনমত তৈরিতে সহযোগিতা করছে না। বরং কোনো ক্ষেত্রে বিরোধিতা করছে।

তিনি মনে করেন, ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের চিন্তা ভালো তবে সব ইসলামি দলের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দাবী অবাস্তব। তার মতে, সব ইসলামি দল ঐক্য হতে পারে না। কারণ, বিভিন্ন মতাদর্শ ও বিভিন্ন শক্তির এজেন্টা বাস্তবায়নের জন্যও ইসলামের নামে অনেক দল হয়েছে। তাদের সাথে জোট করা সম্ভব কীভাবে?

তারপরও সব মিলিয়ে আগামী দিনে ইসলামি দলগুলোর ভালো অবস্থান তৈরি হবে এবং তারা নির্বাচনে ভালো ফলাফল করবে এমনই প্রত্যাশা মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের।

কৃতজ্ঞতা: আওয়ার ইসলাম

আমি চরমোনাই যেতে চাই

মুফতী সালাহুদ্দীন মাসউদ: আমার এক ওস্তাদ বলতেন, চরমোনাই পীর চোখে পানি দিয়ে কাঁন্দে। নাকের পানি দিয়ে চোখ মুখ মুছে কাঁন্দার ভান করে।

ওস্তাদের কথার গুরুত্ব থাকাটাই স্বাভাবিক। নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতাম। তখন মরহুম পীর সাহেব হুজুর জীবিত ছিলেন। বগুড়ার আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে হুজুর আসবেন শুনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

সত্যি কথা বলতে, নাকের পানি দিয়ে চোখ-মুখ মোছার সেই নাটক দেখতেই গিয়েছিলাম। বাকিটা ইতিহাস।

হুজুরের বয়ান শুনে নিজেকে স্থীর রাখতে পারিনি। হাজারো মানুষের মতো আমিও হাউমাউ করে কেঁদেছি। আল্লাহর আযাবের ভয়, হাশরের ময়দানের ভয়াবহতা সম্পর্কে অনেক পড়েছি, শুনেছি। কোনোদিন ভেতরে এমন তুফান অনুভব করিনি।

তিনি নাকের পানি দিয়ে কাঁদেন আর মুখের থুথু দিয়ে চোখ ভিজিয়ে কাঁদার নাটক করুন আর যাই করুন, সেটা আমার দেখার বিষয় নয়; তাঁর বয়ান শুনে আল্লাহর ভয়ে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছে, এখনও ওঠে; তাই আমি বারবার ছুটে যাই চরমোনাই। পীর সাহেবরা যেখানে আসেন, ছুটে যাই। আমি জানি, আমার কবরে আমাকে যেতে হবে। আমার হিসেব আমাকেই দিতে হবে। চোখের পানি ঝরানো ছাড়া আল্লাহর দরবারে মুক্তি নেই।

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে চোখের পানির বিকল্প নেই।আমি আল্লাহর ভয়ে কাঁদতে চাই। আমি গোনাহগার বান্দা। আমি একাকী ঘরে দুআ করতে গেলে এক ফোটা চোখের পানি ফেলতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠি। চরমোনাই ময়দানে তিন দিন অবস্থান করে যে পরিমান চোখের পানি উৎসর্গ করতে পারি, সারা বছরে সেই তুলনায় তিল পরিমানও চোখের পানি ফেলতে পারি না।

তাই আমি চরমোনাই যাই। এ বিষয়ে আমি আর কোনো ওস্তাদের কথা শুনবো না। আমি  আল্লাহর ভয়ে কাঁদতে চাই। আমি চরমোনাই যেতে চাই।

 

তরুণ লেখক ও সম্পাদক ও শিক্ষক 

বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর নাম বাতিলের সিদ্ধান্ত দূরভিসন্ধি: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

আইএবি নিউজ: ঢাকা সিটির বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বিভিন্ন ইসলামী মনিষীদের নাম বাতিল করার সিদ্ধান্তকে দূরভিসন্ধি বলে আখ্যায়িত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গোলাপ শাহ রহ. এর পাশের সড়ক যা হাফেজ্জী হুজুর সড়ক নামে পরিচিত। যে সড়কটি চকবাজার পর্যন্ত পৌছেছে সেই সড়কের নাম থেকে বিশ্ববরেণ্য বুজুর্গ ও আল্লাহর ওয়ালী হযরত হাফেজ্জী হুজুরের নাম বাতিলের সিদ্ধান্ত দূরভিসন্ধি।

তিনি বিবৃতে বলেন, এই চক্রান্ত থেকে সরে আসতে হবে। অন্যথায় আল্লাহর ওলীদের বদদোয়ায় তাদের ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে। সড়কটির নাম হযরত হাফেজ্জী হুজুর সড়ক থাকলে কারো কি কোন ক্ষতি হবে? না হলে তা বাতিলে এত মরিয়া কেন, জাতি জানতে চায়।

তিনি আরো বলেন, তৎকালীন সময়ে যারা হুজুরের নামে সড়কটির নামকরণ করেছিলেন তারা অত্যন্ত যৌক্তিক কারণেই নামকরণ করেছিলেন। এখন যারা বুজুর্গ আলেম-ওলামাদের নাম মুছে দিতে চায় তারাই ইতিহাস থেকে মুছে যেতে পারেন। মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ বলেন, মসজিদের নগরী ঢাকাতে আলেম বা বুজুর্গ ব্যক্তিদের নামে নামকরণটাই স্বাভাবিক। মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর সড়কটির নাম বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেই সকলের জন্য মঙ্গল হবে।

জীবন দিয়ে হলেও সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি অপসারণ করবই: ইশা ছাত্র আন্দোলন ঢা. ম. পশ্চিম

আইএবি নিউজ: আজ ২২শে ফেব্রুয়ারি'১৭ রোজ বুধবার বাদ মাগরিব ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন তেজগাঁও থানা শাখার উদ্যোগে তেজগাঁও নীমতলী মসজিদে শাখা সভাপতি মুহাম্মদ সাব্বির খান-এর সভাপতিত্বে ইশা ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ মাহবুব আলমের পিতার মৃত্যুতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আনুষ্ঠিত হয়। উক্ত শোক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগর সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ মনোয়ার  হুসাইন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, মৃত্যু সকলের অবধারিত। আজকে যারা ক্ষমতার বলে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে লেডি জাস্টিসের মূর্তি স্থাপন করেছে তাদেরও মরতে হবে। মূর্তি অপসারণের আন্দোলনে যারা শরিক হবে তারা শহীদী মর্যাদা লাভ করবে। আমরা শাহাদাতের তামান্না রাখি। মরলে শহীদ বাচলে গাজী-তে আমরা বিশ্বাস করি। জীবন দিয়ে হলেও সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে এই গ্রিক দেবী থেমিসের মূর্তি অপসারণ করবই, ইনশা আল্লাহ্।



তিনি আরো বলেন, ইশা ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ মাহবুব আলম ভাইয়ের পিতা অত্যন্ত ধার্মিক ও নিষ্ঠাবান মানুষ ছিলেন। তিনি খুব সাধারণ ও সরল মানুষ ছিলেন অন্যায় অবিচার ও ধর্মহীনতার ব্যাপারে ছিলেন আপোসহীন। তার মৃত্যুতে জাতি এক দিকপাল হারিয়েছে। আমরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকাহত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সাথে সাথে কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন মরহুমকে স্বীয় দয়ায় ক্ষমা করে দেন এবং জান্নাতুল ফেরদাউসের সুউচ্চ স্থান দান করেন ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন থানা সহ সভাপতি আনোয়ার হুসাইন, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ নেসার উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, আলিয়া মাদ্রাসা বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুর রহীম প্রমুখ

চরমোনাই মাহফিল: একটি দ্বীনি পাঠশালা

মাওলানা মুহাম্মাদ শামসুদ্দোহা তালুকদার: দ্বীনের পরিপূর্ণ ধারনা পেতে হলে আধ্যাত্মিক নেতার নিকট যেতে হবে”- এ বিষয়ে নানা কথা-বার্তা প্রচলিত থাকলেও শুধুমাত্র কুরআন-হাদিস ব্যক্তিগতভাবে অধ্যয়ন করে গোটা দ্বীনকে জানা ও অনুসরণ করার পথটা মসৃণ হয় না। এ বিতর্কের অবসানেই তো মায্হাবের উৎপত্তি হয়েছে। মায্হাব উপেক্ষা করা মানে দ্বীনের ধারনা থেকে অসম্পূর্ণ থাকা। মাযহাব না মানা এখন একটা ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে।

পাক-ভারত উপমহাদেশ ওলী-আল্লাহ্, পীর-বুযুর্গতে ভরপুর। ধর্ম প্রচারকদের পদচারণা এ অঞ্চলে অধিক থাকায় ধার্মিক (প্রাকটিসিং) মুসলমানদের সংখ্যাও বেশি। বাগদাদ, ইয়েমেন তথা আরব থেকে ধর্ম প্রচারকগণ প্রাচ্যে ইসলামকে ছড়িয়ে দিতে নিরবচ্ছিনভাবে সফর করতেন। সেটা সাহাবী-তাবেয়ীদের সময়কাল থেকেই। বঙ্গদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা পেয়েছে সফরকারী ওলী-আল্লাহদের মাধ্যমেই। যার প্রমাণ এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যমান। বর্তমান সময়ে আলোচিত ‘ত্বরীকা’ হিসেবে প্রায় সর্বজনের নিকট জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্যতায় এগিয়ে রয়েছে ‘চরমোনাই ত্বরীকা’। এটির মূলে রয়েছে চিশতিয়া সাবেরিয়া ত্বরীকার আকাবীরগণ। জনশ্রুতি রয়েছে, চরমোনাই দরবারের দাদাপীর সৈয়দ মুহাম্মাদ এছহাক রহ. এর পূর্ব পুরুষ আরব অঞ্চল থেকে বাঘের পিঠে সাওয়ার হয়ে বরিশাল অঞ্চলে দ্বীন প্রচারে এসেছিলেন। দাদাপীর রহ.এরপূর্ব পুরষগণ বর্তমান চরমোনাই ইউনিয়নের পশুরীকাঠিতে বসতি স্থাপন করেন। সেখান থেকে দাদাপীর রহ. চরমোনাইতে (শ্বশুরবাড়ি এলাকায়) এসে দ্বীনের আঞ্জামে লিপ্ত হন। প্রতিষ্ঠা করেন আহসানাবাদ রশিদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা। তিনি কুমিল্লার উজানীর ক্বারীইব্রাহীম রহ. থেকে খেলাফত প্রাপ্ত হয়ে পথভোলা বান্দাদেরকে মারেফাতের দীক্ষা প্রদান শুরু করেন।

আমার শৈশব কেটেছে চরমোনাইতে, নানাবাড়ি দরবারের সন্নিকটে হওয়ায় মাহফিল দর্শন সেসময় থেকেই। মাহফিল দেখার আকর্ষণে চরমোনাই ছিল স্বপ্নের জায়গা। দাদাপীর রহ. এর মুরীদ, আমার বাবার সাথে গিয়ে তাঁর সাক্ষাত করেছি বটে,এখন অবশ্য তাঁর চেহারাবয়ব মনে নেই। তবে সেকালের মাহফিলের আকার-প্রকার এখনও চোখে ভাসে। কয়েক ডজন হ্যাজাক লাইট মাহফিল চত্বর আলোকিত করত। প্রতি মাহফিলে মাইকের (হর্ণ) সংখ্যা কয়টা বৃদ্ধি পেল তা গুনে দেখতাম। প্রথম গণনায় এক ডজনের বেশি মাইকের কথা এখনও মনে আছে। হ্যাজাকের পরিবর্তে আনা হলো ডায়নামোর মাধ্যমে টিউবলাইট জ্বালানো। অন্তত: ৪০/৪২বছর পূর্বে সে সময়ে মাইক (হর্ণ) ও টিউবলাইট গণনা করাই ছিলো আমার মাহফিল কেন্দ্রিক শিশুতোষ আগ্রহ। দরবারের প্রচারবিমুখতা নীতির কারণে চলতি আয়োজনের তথ্যাদি উল্লেখকরা হলো না, সেক্ষেত্রে দর্শক হিসেবে আপনি সঠিক একটি আন্দাজ পেতে পারবেন।

চরমোনাই মাহফিলের প্রসারতা বৃদ্ধি পায় মূলত: মরহুম পীর সাহেব সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করিম রহ.-এর জীবদ্দশায়। তাঁর ওয়াজের মোহনীয়তায় তন্ময় হয়ে থাকত পথহারা বান্দারা। তাঁর কণ্ঠের সুরেলা ধ্বণি ছিলো মহান আল্লাহর প্রদত্ত বিশেষ নিয়ামত। তাঁর বয়ানের সময় হাউমাউ করে ক্রন্দন করত হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতা। মাত্র একবার তাঁর বয়ান শুনে অনেকেই হেদায়েতের দিশা পেয়েছেন। কুরআন-হাদিসের আয়াত ও উদ্ধৃতি যখন তিনি নিজস্ব ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করতেন তখনকার পরিবেশ হয়ে উঠত স্বর্গীয় আলোকচ্ছটায় বর্ণিল। স্বয়ং আল্লাহর বিশেষ অনুকম্পা ছাড়া এমন বয়ান কারও দ্বারা সম্ভব হতে পারে না। আল্লাহ্ভোলা মানুষকে স্বীয় মাওলার সাথে সংযোগ ঘটানোর ক্ষেত্রে তাঁর ওয়াজের ধরনটা ছিল চিত্তাকর্ষক। যা পবিত্র কুরআনের নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মহান আল্লাহর বাণী- “তুমি তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে বিতর্ক করবে উত্তম পন্থায়” (সূরা-নাহল, আয়াত-১২৫)। এ আয়াতের অন্তর্নিহিত ভাবধারার সাথে হুবহু মিল রেখেই মরহুম পীর সাহেব চরমোনাই রহ. তাঁর দাওয়াতি কার্যক্রম আজীবন পরিচালনা করে গেছেন। প্রতিটি বয়ানে তাঁর সহজ-সরল আকুতি ছিল- বাবারা! তোমাদের হাত-পা ধরেও বলছি, কুরআনের কথা সত্য মনে তা বিশ্বাস কর। কবরের আযাব ও জাহান্নামের আগুনকে ভয় কর। অতএব, প্রস্তুত হয়ে কবরে যাও। যদি সত্য হয়ে থাকে তোমরা বেঁচে গেলে, আর মিথ্যা হলেও তো ক্ষতি নেই! তুমিও বেঁচে গেলে, আমিও বেঁচে গেলাম।

মরহুম পীর সাহেব রহ. ছিলেন তাঁর সময়কালের সেরা মেধাবীও চৌকস ব্যক্তিত্বের অধিকারী। বহুমাত্রিক দক্ষতার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ের শিরোমণি হয়ে আজও তিনি বেঁচে আছেন লাখো মুমিনের হৃদয়ে। ‘সৈয়দ’ বংশের কৃষ্ণকায় মানুষটির মাঝে মাওলার নূর যেন অবারিত ছিলো। স্বীয় পিতার থেকে খিলাফত লাভের পূর্ব পর্যন্ত ছিলেন সে সময়ের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও মুফাসসির। আবার ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি ছিলেন সফল। একজন আলেম হিসেবে ব্যবসা করে সফলতা লাভ করার নজির গড়ে ছিলেন তিনি। সে সময়ে নিজ এলাকায় তিনি অন্যতম ধনী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। চরমোনাই পীরের সমালোচকরা এ তথ্যটি আমলে নিবেন আশাকরি।

একজন ডায়নামিক আধ্যাত্মিক নেতার বদৌলতে আজ চরমোনাই দরবার সমহিমায় দাড়িয়ে আছে। তিনি কিতাবী ও আমলী আলেম তৈরির উদ্দেশ্যে চরমোনাইতে আলিয়ার পাশাপাশি কওমিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করেছেন। হালে আলিয়া ও কওমিয়া শাখার ব্যাপকতা ঈর্ষনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিবছর অধ্যয়ন শেষে এখান থেকে শতশত মাওলানা, মুফতি ও হাফেজ ফারেগ হয়েই ইসলামের খেদমতে নিজেদেরকে নিয়োজিত করছেন। তিনি অশিক্ষিত ও সাধারণ শিক্ষিতদের মাঝে কুরআনের আলো পৌঁছেদিতে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ড স্থাপন করেছেন। দেশের সকল গ্রামে একটি করে কুরআনের মাদ্রাসা স্থাপনই যার মূল লক্ষ্য। ছহীহ্ভাবে ক্বিরাত না পড়লে নামাযই তো হয়না, সেক্ষেত্রে নামাজ বা ইবাদাত কবুল করাতে হলে কুরআনকে ছহীহ্শুদ্ধভাবে শেখার বিকল্প নেই। ঠিক এ উদ্দেশ্যেই তিনি সর্বজনীন কুরআন শিক্ষার উপর জোর দেন। তাঁর মৌলিক দায়িত্ব ছিলো-আল্লাহ্ভোলা মানুষকে সচেতন করতে দেশের সকল প্রান্তে ছুটে গিয়ে ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে কলেমাগো মুসলমানদেরকে জাগিয়ে তোলা।

চরমোনাই ত্বরীকার প্রাথমিক ছবক ‘আওয়াজের সাথে যিকির করা’ এদেশের মুসলামনদের মাঝে ভালোভাবেই ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বিষয়টা এমন-আওয়াজ করে যারাই যিকির করেন তারাই যেন চরমোনাই মুরীদ। বাংলাদেশের এমন কোন মাসজিদ আছে কী? যার মুক্তাদি কেউ না কেউ চরমোনাইয়ের মুরীদ নন! এটাই চরমোনাই ত্বরীকার সফলতা এবং মাওলা পাকের কবুলিয়তের লক্ষণ। আর এ সফলতার কাহানী ছড়িয়ে পড়েছে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে মদীনাওয়ালার বাড়িতে। আল্লাহর শোকর প্রতি মাহফিলেই স্বচক্ষে অবলোকন, ফয়েজ ও বরকতের জন্য দারুল উলুম দেওবন্দ ও মক্কা-মদীনা থেকে সম্মানিত মেহমানগণ ছুটে আসেন চরমোনাইয়ের ময়দানে।

দ্বীনি ইলম শিক্ষা ও দাওয়াতি কার্যক্রমে মরহুম পীর সাহেব সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম রহ. ছিলেন দক্ষিণ বাংলার সফল আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। নিজে সুন্নাতের হুবহু পাবন্দি ছিলেন এবংতাঁর বয়ানের মাধ্যমে সবাইকে ফরজ ওয়াজিবের পাশাপাশি সুন্নাত অনুসরণ ও পালনের দাওয়াত দিতেন। এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আপোষহীন। ঠিক এ কারণেই তাঁর অনুসারীদের দেখলেই সহজেই চিহ্নিত করা যায় যে এরা চরমোনাই মুরীদ। সুন্নাতকে যারা উপেক্ষা করবে তাদেরকে তিনি পূর্ব ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন যে- “তারা আমার মুরীদ না। তারা আমার মুরীদ না। তারা আমার মুরীদ না।”

বর্তমানে ১০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে চরমোনাই ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম-এর নেপথ্য নায়ক ছিলেন তিনি। তবে তবে তাঁর মৃত্যুর পরে খিলাফত প্রাপ্ত দু’ ছেলে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ও মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বাবার উপযুক্ত সন্তানের মর্যাদা ধরে রেখেছেন। আমিরুল মুজাহিদীন হিসেবে পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পিতার যেন হুবহু ছায়াচিত্র। তিনি পিতার ন্যায় বয়ানের মাধ্যমে এক মোহনীয় মূর্ছণা তৈরি করে যাচ্ছেন। তাঁর বয়ানের গভীরতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা (তা’ছীর) অবিকল বাবার মতোই। নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফায়জুল করিম পিতার অন্যতম যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে অনুসারী, জনসাধারণ এমনকি আলেম মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলছেন। তাঁর দেমাগে কত সংখ্যক ও কত বড়বড় হাদিস মওজুদ আছে সে ব্যাপারে গবেষণা হতে পারে। পিতার বয়ানের সৌন্দর্য্য ও নূর উভয়ের কণ্ঠ থেকে লক্ষ লক্ষ অনুসারীদের উদ্দেশ্যে যখন বের হয় তখন উপস্থিত দর্শক শ্রোতা হতবিহ্বল হয়ে পড়ে এবং তাদের মাঝে এক আবেগঘন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ফলে তাঁরা মাওলার সাথে সম্পর্ক তৈরি করার মাধ্যম হিসেবে চরমোনাই ত্বরীকাকে বেছে নেয়। তাঁদের বয়ানে যে মাধুর্য ও নূরাণী জৌলুস থাকে তা মাওলা পাকের বিশেষ অনুগ্রহ ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।

 

লেখক : কা‌মিল (ডবল), এম.এ (ঢ‌া.‌বি)

ইসলামী গ‌বেষক ও কলামিস্ট

শহীদদের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে অপসংস্কৃতি বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: ইশা ছাত্র আন্দোলন ঢা. ম. পশ্চিম

আইএবি নিউজ: ২১শে ফেব্রুয়ারি'১৭ রোজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টায়  ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর পশ্চিম-এর উদ্যোগে নগর কার্যালয়ে নগর সভাপতি জি এম বায়েজীদের সভাপতিত্বে অমর একুশে আলোচনা সভা ও নগর কমিটির শপথ গ্রহণ প্রোগ্রা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় নগর সভাপতি জি এম বায়েজীদ বলেন, আজ আমরা শহীদদের ত্যাগ ও প্রাণ উৎসর্গের কথা ভুলে গেছি। তারা যে ভাষাকে রক্ষা করার জন্য জীবন দিয়েছেন আমরা সে ভাষার মর্যাদাহানী করছি।বাংলা ভাষায় ইংরেজি শব্দ ব্যবহার আশঙ্কা জনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলা ভাষা হারাচ্ছে তার আসল সৌন্দর্য ও প্রকৃত মাধুর্য। শহীদদের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমাদেরকেই অপসংস্কৃতি বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণের মূর্তি অপসারণের ব্যাপারে সরকারকে শিগগিরই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলার তৌহিদী জনতা জীবনের বিনিময়ে হলেও এ মূর্তি উৎখাত করবে।



সভা শেষে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর পশ্চিম -এর ২০১৭ সেশনের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা এবং শপথ গ্রহণ করা হয়।

● সভাপতি- জি এম বায়েজীদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

● সহ-সভাপতি- দেলোয়ার হুসাইন (ইফতা, কাওমিয়া মাদরাসা)

● সাধারণ সম্পাদক- মু. নূরুল ইসলাম (নর্দান ইউনিভার্সিটি)

● সাংগঠনিক সম্পাদক- মু. মনোয়ার হুসাইন (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি)

● প্রশিক্ষণ সম্পাদক- মু. হুমায়ুন কবীর (সরকারি বাঙলা কলেজ)

● প্রকাশনা সম্পাদক-মু. সফিউল ইসলাম (মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ)

● অর্থ সম্পাদক-মু. মিজানুর রহমান (শাহ আলী কামিল মাদরাসা)

● দফতর সম্পাদক- মু. নাজির আহমেদ তালুকদার (মুসলিম এইড ইনস্টিটিউট)

● বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক- মু. আবু হানিফ (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)

● কাওমিয়া মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক- মু. রায়হান আহমাদ (তাকমীল, কাওমিয়া মাদরাসা)

● আলিয়া মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক- মু. মাকসুদুল হক তাজিম (মদীনাতুল উলূম বালক কামিল মাদরাসা)

● কলেজ বিষয়ক সম্পাদক- মু. আলমগীর হুসাইন (মকবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ)

● স্কুল বিষয়ক সম্পাদক- মু. সাব্বির খান (ফেডারেল হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ)

● ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক- মু. খলীলুর রহমান  (তাকমীল, কাওমিয়া মাদরাসা)

● সাহিত্য ও সংস্কৃতি বি. সম্পাদক- মু.আবদুর রহীম (নেছারিয়া দাখিল মাদরাসা)

● সদস্য- মু. আব্দুল মুকীত (প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়)

● সদস্য- মু. আবদুল ওয়াদুদ (তাকমীল, কাওমিয়া মাদরাসা)।

 

বার্তা প্রেরক:

সফিউল ইসলাম

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক

মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

ইশা ছাত্র আন্দোলন নোয়াখালী জেলা (উত্তর) শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত

আইএবি নিউজ: গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারী রোজ মঙ্গলবার বাদ মাগরিব ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নোয়াখালী জেলা (উত্তর) শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মুহা. সাখাওয়াত উল্লাহ'র সভাপতিত্বে জেলা কার্যালয়ে জেলা দায়িত্বশীলদের 'শপথ গ্রহণ ও পরিচিতি সভা' অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অথিতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলা সভাপতি মাও. নজীর আহমদ সাহেব, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারী মাও. কামাল উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাও. মাসউদুর রহমান সহ বিভিন্নস্তরের নেতৃবৃন্দ।

সভায় ইশা ছাত্র আন্দোলনের সংগ্রামী জেলা সভাপতি ২০১৭ সালের জেলা দায়িত্বশীলদের শপথ বাক্য পাঠ করান। নিম্নে জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রদত্ত হলো।

সভাপতি: মুহাম্মাদ সাখাওয়াত উল্লাহ

সহ-সভাপতি: মুহাম্মাদ সাদ্দাম হোসাইন

সাধারণ সম্পাদক: মুহাম্মাদ তাজুল ইসলাম মাসুম

সাংগঠনিক সম্পাদক: মুহাম্মাদ আবদুল ওহাব

প্রশিক্ষন সম্পাদক: মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলিল

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: মুহাম্মাদ উসমান গণী

অর্থ সম্পাদক: মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ

দপ্তর সম্পাদক: মুহাম্মাদ আবদুর রাজ্জাক

কাওমী মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক: মুহাম্মদ মাহমূদুল হাসান

আলিয়া মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক: মুহাম্মাদ হারুনুর রশিদ

কলেজ বিষয়ক সম্পাদক: মুহাম্মাদ ইবরাহীম

স্কুল বিষয়ক সম্পাদক: মুহাম্মাদ হাসান আহমদ

ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক: মুহাম্মাদ ইকরাম উল্লাহ

সাহিত্য ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক: মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম

সদস্য: মুহাম্মাদ দিদারুল ইসলাম।

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি: আব্দুল ওয়াহাব

ইশা ছাত্র আন্দোলন হালিশহর থানা শাখার থানা সম্মেলন'১৭ অনুষ্ঠিত

আইএবি নিউজ: আজ ২১ই ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় আই-ব্লক হালিশহর আইএবি মিলনায়তনে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর হালিশহর থানা শাখার "থানা সম্মেলন"২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের বিপ্লবী সভাপতি  মুহা. নিজাম উদ্দীন। থানা সভাপতি মুহা. নাজমুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে উক্ত সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হালিশহর থানার সভাপতি জনাব মুহা. ফোরকান হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন থানা, ওয়ার্ড এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলবৃন্দ।

সম্মেলন শেষে প্রধান অতিথি ২০১৬ কমিটি বিলুপ্ত করে ২০১৭ সেশনের জন্য নতুন কমিটিতে সভাপতি- মুহা. নাজমুল ইসলাম, সহ-সভাপতি- মুহা. ইব্রাহিম খলিল ও সাধারণ সম্পাদক- মুহা.আব্দুর রহিম এর নাম ঘোষণা করেন।

 

সংবাদদাতা: এমডি নাজিম

ইশা ছাত্র আন্দোলন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার কমিটি গঠন সম্পন্ন

আইএবি নিউজ: ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আয়োজনে গত ২০ ফেব্রুয়ারি'১৭ ইং সোমবার বিকাল ৩টায় ভাদুঘর ফাটাপুকুরস্থ পালকি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা সম্মেলন ২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের জেলা সভাপতি শেখ ইহতেশাম বিল্লাহ আজিজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ আহমদের উপস্থাপনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর যুগ্ম মহাসচিব, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য

রাখেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাত্রনেতা জি.এম. রুহুল আমীন, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বামুক জেলা ছদর আলহাজ্ব সৈয়দ আনোয়ার আহমদ লিটন, সাবেক সেক্রেটারি ও জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য, মাওলানা গাজী নিয়াজুল করীম, সেক্রেটারি, জনাব মোহাম্মদ ওবাইদুল হক, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক, মাওলানা সামছ আল ইসলাম ভূইয়া প্রমুখ।

সম্মেলন শেষে প্রধান অতিথি নীতিমালা অনুযায়ী ২০১৬ ইং সেশনের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ২০১৭ ইং সেশনের সভাপতি হিসেবে মু. ইবরাহীম খলিল, সহ-সভাপতি, মু. ইউনুছ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক, আবু হানিফ নোমান এর নাম ঘোষণা করে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

 

বি-বাড়িয়া সংবাদদাতা: আবু হানিফ নোমান

ইশা ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুর জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত: সভাপতি রিয়াজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসেন

আইএবি নিউজ: ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ২১ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার শহরের বিপনীবাগ পার্টি হাউজে আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা এবং জেলা সম্মেলন ২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ রিয়াজুর রহমানের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক শেখ রায়হান মুহাঃ আকতার ও অর্থ সম্পাদক এস এম মহিউদ্দিনের যৌথ পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ।

তিনি বলেন, মাতৃভাষা বাংলা আল্লাহর দেয়া দান। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনও নিজ-ভাষাভাষিদের কাছে যখন কোন নবী পাঠিয়েছেন তাঁকেও সে ভাষা দিয়েই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। কাজেই ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকেও মাতৃভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। যারা আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়ে ভিন্ন ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল ওরা জালিম।

তিনি বলেন, ভাষার জন্য শাহাদাতবরণকারী সালাম, জব্বার, বরকত, রফিকরা স্বীয় জীবন বিলিয়ে দিয়ে বাংলাভাষা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। কিন্তু আজ বাংলা ভাষার সর্বত্র চর্চা হচ্ছে না। অন্তত বাংলাদেশেতো সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলন করা প্রয়োজন ছিল। আমাদের দেশের শাসক শ্রেণীর দুর্বলতার কারণে ভিনদেশী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে দেশ। আমাদেরকে ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন জর্জরিত করেছে। নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চার পরিবর্তে ভিনদেশী সংস্কৃতির আমদানী করা হচ্ছে। গ্রীক দেবীর মূর্তিও মুসলমানের সংস্কৃতি নয়, এটা ভারতীয় সংস্কৃতি। মূর্তির সংস্কৃতি রুখে দিতে হবে। মূর্তি অপসারণের দাবীতে আগামী মার্চ মাস থেকে চাঁদপুরে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্র সংসদ পূণরায় চালু করার দাবীতে আগামী মার্চ মাস থেকে চাঁদপুরে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন, অধ্যক্ষ বরাবর স্বারকলিপি প্রদান সহ বিক্ষোভ সমাবেশ এর কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।



শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, সরকার দলের মন্ত্রীরা মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক মনে করে মূর্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেরা ঈমানহারা হচ্ছে এবং দেশবাসীকেও ঈমানহারা বানাচ্ছে। নব্য নাস্তিক-মুরতাদ ও নবীর দুশমনসহ সকল ষড়যন্ত্রকারী শক্তিকে রুখে দিতে হবে। ভাষা আল্লাহরই দান। মুখের ভাষাকে যারা কেড়ে নিতে চেয়েছিল তারা আসলেই মানবতার শত্রু। এই মানবতার শত্রুদের যেভাবে বাংলার দামাল ছেলেরা পরাজিত করে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠা করেছিল, তেমনিভাবে মহানবীর দুশমন নব্য নাস্তিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা নুরুল আমিন, সেক্রেটারি জননেতা শেখ মুহাঃ জয়নাল আবদীন, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা কে এম ইয়াসিন রাশেদ সানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা বেলাল হোসাইন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওঃ গাজী নাসির উদ্দিন, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক শাহ্ জামাল গাজী সোহাগ, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম চাঁদপুর জেলা শাখার আহবায়ক অধ্যক্ষ গাজী মুহাম্মদ হানীফ, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আফসার উদ্দীন, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক নেছার উদ্দীন, চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার সভাপতি সাংবাদিক মোঃ মহসিন হোসেন, সদর উপজেলা সভাপতি মোঃ আবুল বাসার, হাজীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকি, মতলব (দঃ) উপজেলা সভাপতি আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম সহ জেলা ও থানা শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি ২০১৬ সেশনের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ২০১৭ সেশনের নতুন কমিটিতে সভাপতি মুহাম্মদ রিয়াজুর রহমান, সহ-সভাপতি শেখ রায়হান মোঃ আকতার ও সাধারণ সম্পাদক পদে মুহাম্মাদ মহসিন হোসেন এর নাম ঘোষণা করে সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী শপথবাক্য পাঠ করান।

ভাষার শহীদদ এবং দেশবাসীর জন্য বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করে আগামী ২৪/২৫/২৬ চরমোনাই বার্ষিক (ফাল্গুন) মাহফিলে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মেলন সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

 

চাঁদপুর প্রতিনিধি: সাংবাদিক মহসিন হোসেন

ভাষা আন্দোলনের ন্যায় ইসলামবিরোধী চক্রান্তের মোকাবেলা করতে হবে: অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ

আইএবি নিউজ: আমাদের দেশের শাসক শ্রেণীর দূর্বলতার কারণে ভিনদেশী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে বলে মন্তব্য করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে জর্জরিত আমাদের দেশ। তিনি বলেন, নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চার পরিবর্তে ভিনদেশী সংস্কৃতির আমদানী করা হয়েছে। মাতৃভাষা বাংলা আল্লাহর দেয়া দান। ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকেও মাতৃভাষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, কিন্তু সালাম, জব্বার, বরকত, রফিকরা নিজ জীবন বিলিয়ে দিয়ে বাংলাভাষা রক্ষা করেছেন।  তারপরও আজ বাংলা ভাষার সর্বত্র প্রচলন হচ্ছে না। অন্তত বাংলাদেশে তো সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলন করা প্রয়োজন ছিল।

আজ মঙ্গলবার বিকালে ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। পুরানা পল্টনস্থ অফিস মিলনায়তনে সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, নগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, আলহাজ্ব আব্দুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, ছাত্রনেতা জিএম রুহুল আমীন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, ইসলামী আইনজীবী পরিষদের সেক্রেটারী জেনারেল এ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান শেখ, আলহাজ্ব মনির হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব.) এইচ এম খান, শহিদুল ইসলাম কবির, নুরুজ্জামান সরকার, আব্দুর রব পাটোয়ারি প্রমুখ।

অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমদ বলেন, গ্রীক দেবীর মূর্তিও মুসলমানের সংস্কৃতি নয়, এটা ভারতীয় সংস্কৃতি। মূর্তির সংস্কৃতি রুখে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারের দলের মন্ত্রীরা মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক মনে করে মূর্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেরাও ঈমানহারা হচ্ছে এবং দেশবাসীকেও ঈমানহারা বানাচ্ছে। অবিলম্বে মূর্তির সংস্কৃতি থেকে সরকারকে বের হয়ে আসতে হবে। অন্যথায় মুর্তি পক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার টিকে থাকতে পারবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, ভাষার জন্য জীবনদানকারীরা সকলেই মুসলমান। মুসলমানদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য ইসলামী রীতিনীতি অনুযায়ী দোয়া-দরুদ করতে হবে। বর্তমানে যেভাবে ভাষা সৈনিকদের স্মরণ করা হচ্ছে এতে তাদের আত্মা শান্তি পাবে না বরং কষ্ট পাবে। শান্তির জন্য সূরা ফাতিহা, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি করতে হবে।

অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেন, বাংলা ভাষার জন্য যারা মায়াকান্না করছে তারা এবং তাদের স্বজনরা বাংলার পরিবর্তে ভিনদেশী ভাষা চর্চা নিয়ে ব্যস্ত। দেশের উচ্চ আদালতেও ভিনদেশী ভাষায় রায় লেখা হয়। ভাষা আন্দোলন না হলে স্বাধিকার আন্দোলন হতো না এবং দেশও স্বাধীন হতো না। তিনি বলেন, ইসলামকে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী বলে গাল দেয় তারা কখনো মুক্তিযোদ্ধা নয়, প্রকৃত মুত্তিযোদ্ধারা আল্লাহর নাম নিয়েই যুদ্ধ করতেন।

সভাপতির বক্তব্যে বীল মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ইসলামকে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপরীত আখ্যা দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার শ্লোগান দেয়, তারা জ্ঞানপাপি। স্বাধীনতাযুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ছিল না। ভাষা আন্দোলন শিক্ষা দেয় সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে লড়াই করার। বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে সেই সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরো যারা জীবন দিয়েছে তাদের পরিবারকে যথাযথ মর্যাদা দেয়া হয়নি। ভাষা শহীদদের মুসলিম রীতি-নীতি বাদ দিয়ে ভিনদেশী সংস্কৃতির মাধ্যমে স্মরণ করে তাদের আত্মাকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। আলোচনা শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন মহাসচিব।

ইশা ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আইএবি নিউজ: ২০ ফেব্রুয়ারী’১৭ ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা সম্মেলন আইএবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ এর সিনিয়র মুহাদ্দিস রঈসুল মুফাচ্ছিরীন, শাইখুল হাদিস আল্লামা শামছুল ইসলাম সাহেব, হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন, সভাপতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলে ইশা ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সেক্রেটারী জেনারেল কেএম আনিছুজ্জামান খান, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক নোমান আহমাদ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, যে রাজনীতিতে দ্বীন নেই, সেই রাজনীতি রাজনীতিই নয় বরং দূর্নীতি। বামপন্থী, শাহাবাগীরা রাজনীতি ও ইসলামকে আলাদা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে যে ধর্মহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার। তিনি ছাত্র রাজনীতির কর্মীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, ইসলামী রাজনীতির কর্মীরা রাতে তাহাজ্জুদ পড়বে আর দিনের আলোয় বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে, মিছিল মিটিং এর মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাবে। তিনি সরকার প্রশাসনকে হুশিয়ারি জানিয়ে বলেন, আলেম-ওলামাদের এ দেশে মূর্তি স্থাপন করে সরকার কি বুঝাতে চায়? হাজী ক্যাম্পের সামনে থেকে জনতা যেভাবে মূর্তি অপসারণ করেছিল, প্রয়োজনে আবারও সেই তৌহিদী জনতা ময়দানে নামবে।

সম্মেলনে এক পর্যায় বক্তব্য রাখেন হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন। তিনি বক্তব্যে বলেন সংবিধানের ধারা মোতাবেক কুরআনের অনেক আয়াত বাতিল বলে গণ্য, আর সেই হিসেবে আমরা কোথায় অবস্থান করছি। তাই ছাত্রদের প্রতি আহবান থাকবে যুগে যুগে বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে ছাত্ররা, তাই এদেশে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার দূর্বার আন্দোলনের জন্য চাই যোগ্য নেতৃত্ব।



সম্মেলনের প্রধান বক্তা নোমান আহমাদ ইশা ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার ২০১৬ সেশনের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ২০১৭ সেশনের কমিটিতে সভাপতি জোবায়ের আহমদ, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবীর ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল্লাহ মাহবুবকে মনোনীত করে শপথ পাঠ করান।

যে রাজনীতিতে দ্বীন নেই সেটা রাজনীতি নয় দূর্নীতি: আল্লামা শামছুল ইসলাম

আইএবি নিউজ: ২০ ফেব্রুয়ারী'১৭ ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা সম্মেলন আইএবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ এর সিনিয়র মুহাদ্দিস রঈসুল মুফাচ্ছিরীন, শাইখুল হাদিস আল্লামা শামছুল ইসলাম সাহেব, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলে ইশা ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সেক্রেটারী জেনারেল কেএম আনিছুজ্জামান খান, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক নোমান আহমাদ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, যে রাজনীতিতে দ্বীন নেই, সেই রাজনীতি রাজনীতিই নয় বরং দূর্নীতি। বামপন্থী, শাহাবাগীরা রাজনীতি ও ইসলামকে আলাদা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে যে ধর্মহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার। তিনি ছাত্র রাজনীতির কর্মীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, ইসলামী রাজনীতির কর্মীরা রাতে তাহাজ্জুদ পড়বে আর দিনের আলোয় বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে, মিছিল মিটিং এর মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাবে। তিনি সরকার প্রশাসনকে হুশিয়ারি জানিয়ে বলেন, আলেম-ওলামাদের এ দেশে মূর্তি স্থাপন করে সরকার কি বুঝাতে চায়? হাজী ক্যাম্পের সামনে থেকে জনতা যেভাবে মূর্তি অপসারণ করেছিল, প্রয়োজনে আবারও সেই তৌহিদী জনতা ময়দানে নামবে। সম্মেলনের প্রধান বক্তা নোমান আহমাদ ইশা ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার ২০১৬ সেশনের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ২০১৭ সেশনের কমিটিতে সভাপতি জোবায়ের আহমদ, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবীর ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল্লাহ মাহবুবকে মনোনীত করে শপথ পাঠ করান।

বার্তা প্রেরক : মাহমুদুল হাসান

ইশা ছাত্র আন্দোলন নরসিংদী জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্পন্ন

আইএবি নিউজ: আজ ২১ ফেব্রুয়ারি'১৭ সকাল ১০টায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নরসিংদী জেলা শাখার কমিটি গঠন উপলক্ষে শহরস্থ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর জেলা কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইশা ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি এইচ এম জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন এর জেলা সেক্রেটারি জনাব আশরাফ উদ্দিন ভুইয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলার ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওঃ আলমগীর হোসেন ভুইয়া। সভা শেষে প্রধান অতিথি নবগঠিত কমিটির দায়িত্বশীলদেরকে শপথ পাঠ করান। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি: মুহা. জয়নুল আবেদীন, সহ-সভাপতি: গাজী মুহা. হেমায়েত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক: শেখ মুহা. আমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক: মুহা. মোবারক হোসাইন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক: মুহা. মাহদি হাসান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: মুহা. আনিসুর রহমান, অর্থ সম্পাদক: মুহা. আশরাফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক: মুহা. মাহদি আল হাসান, কওমি মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক: মুহা. রফিকুল ইসলাম, আলিয়া মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক: গাজী মুহা. মাজহারুল ইসলাম, কলেজ বিষয়ক সম্পাদক: মুহা. আমির হোসাইন আল-হামজা, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক: মুহা. মিজানুর রহমান, ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক: মুহা. মোস্তফা কামাল, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক: মুহা. শেখ সাদী, সদস্য: মুহা. আশরাফ আলীকে মনোনীত করা হয়।

ইশা ছাত্র আন্দোলন ডবলমুরিং থানা শাখার থানা সম্মেলন'১৭ অনুষ্ঠিত

আইএবি নিউজ: আজ ২১ই ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় দেওয়ানহাট আইএবি মিলনায়তে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর ডবলমুরিং থানা শাখার "থানা সম্মেলন২০১৭" অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় শুরার অন্যতম সদস্য চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্র আন্দোলন এর সাধারণ সম্পাদক মুহা. নুরুল বশর আজিজী।



থানা সভাপতি মুহা. নাজিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে উক্ত সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক ও ডবলমুরিং থানা আন্দোলন এর সভাপতি হাফেজ মুহা. মিজানুর রহমান।

আরো উপস্থিত ছিলেন থানা, ওয়ার্ড এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলবৃন্দ।

সম্মেলন শেষে প্রধান অতিথি ২০১৬ সেশনের কমিটি বিলুপ্ত করে ২০১৭ সেশনের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। সভাপতি: মুহা.মনির হোসাইন, সহ-সভাপতি: হোসাইন মোহাম্মদ সায়েম ও সাধারণ সম্পাদক: মুহা. আব্দুল কাদেরকে মনোনীত করা হয়।

 

ডবলমুরিং সংবাদদাতা: এমডি নাজিম

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ডবলমুরিং থানা শাখার থানা সম্মেলন'১৭ অনুষ্ঠিত

আইএবি নিউজ: আজ ২১ই ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় দেওয়ানহাট আইএবি মিলনায়তে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর ডবলমুরিং থানা শাখার "থানা সম্মেলন২০১৭" অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় শুরার অন্যতম সদস্য চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্র আন্দোলন এর সাধারণ সম্পাদক মুহা. নুরুল বশর আজিজী।

থানা সভাপতি মুহা. নাজিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে

উক্ত সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক ও ডবলমুরিং থানা আন্দোলন এর সভাপতি হাফেজ মুহা. মিজানুর রহমান।


আরো উপস্থিত ছিলেন থানা, ওয়ার্ড এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলবৃন্দ।

সম্মেলন শেষে প্রধান অতিথি ২০১৬ সেশনের কমিটি বিলুপ্ত করে ২০১৭ সেশনের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। সভাপতি: মুহা.মনির হোসাইন, সহ-সভাপতি: হোসাইন মোহাম্মদ সায়েম ও সাধারণ সম্পাদক: মুহা. আব্দুল কাদেরকে মনোনীত করা হয়।

 

 

ডবলমুরিং সংবাদদাতা: এমডি নাজ

ইশা ছাত্র অান্দোলন লক্ষ্মীপুর জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র অা‌ন্দোলন- ২০১৭ সেশ‌নের লক্ষ্মীপুর জেলার পুর্ণাঙ্গ ক‌মি‌টি ঘো‌ষিত হলো আজ।সা‌থে সা‌থে নত‌ুন বছ‌রের নতুন নেতৃ‌ত্বের শপথ পাঠ করান সংগ্রামী  সভাপ‌তি। 

পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা:

১-সভাপতি: নোমান সিদ্দিকী

২-সহ-সভাপতি: ইমরান হোসাইন

৩-সাধারন সম্পাদক: নুরুল আলম

৪-সাংগঠনিক সম্পাদক: রাশেদুল ইসলাম

৫-প্রশিক্ষণ সম্পাদক: মাঈনুদ্দিন চিশতী

৬- প্রচার ও প্রকাশনা বি. সম্পাদক: পারভেজ হোসাইন

৭-অর্থ সম্পাদক: তানভীর হোসাইন

৮-দপ্তর  সম্পাদক: হা. মুহা. ইসমাইল

৯- কওমী মাদ্রাসা বিষয়ক সম্পাদক: সিদ্দীকুর রহমান

১০-আলিয় মাদ্রাসা বিষয়ক সম্পাদক: মোফাচ্ছেল খান

১১-কলেজ বিষয়ক সম্পাদক: ইসমাইল হোসাইন রাসেল

১২-স্কুল বিষয়ক সম্পাদক: এস.এম. রাসেল

১৩-ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক: আলী আজগর

১৪-সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক: মুহা. মনির হোসাইন

১৫-সদস্য: মুহা. হাবিবুর রহমান 

নতুন ক‌মি‌টির দায়িত্বশীল‌দের বিপ্লবী শুভেচ্ছা ও অাভিনন্দন।

সংবাদদাতা: মুহা. পারভেজ

চরমোনাই মাহফিলের উদ্দেশ্যে দেওবন্দের আল্লামা মুজিবুল্লাহ এখন ঢাকায়

মাদারে ইলমি দারুল উলুম দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস, শায়খুল মা’কুলাত হজরত আল্লামা মুজিবুল্লাহ কাসেমি সাহেব (হাফিযাহুল্লাহ) ৮দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। রোববার ভারতীয় সময় বেলা ১টা ৪০ মিনিটে নয়া দিল্লি থেকে ইন্ডায়ান এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় আসেন বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকার শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে হজরতের অবতরণ করেন তিনি।

এদিকে বাংলাদেশে হজরতের মেজবান মুফতি হেমায়েত উল্লাহ কাসেমি জানিয়েছেন, ‘আল্লামা মুজিবুল্লাহ সাহেব রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বেশ ক’টি বড় মাদরাসার দীনি প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করবেন। পরে তিনি আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে’র আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম সাহেবের আমন্ত্রণে বিদেশি মেহমান হিসেবে চরমোনাইর আগামী ফাল্গুনের মাহফিলে অংশ গ্রহণ করবেন৷’

দেওবন্দে হজরতের শাগরেদ মুহাম্মদ আবদুল হাই সূত্রে জানা গেছে, হজরত চরমোনাই মাদরাসার ৩ দিনব্যাপী মাহফিলে উলামা, তলাবা ও আওয়ামদের পৃথক পৃথক বয়ান পেশ করবেন৷ মাহফিল শেষে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি হদরত দেওবন্দের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন৷

দেওবন্দ থেকে

হাওলাদার জহিরুল ইসলাম

চরমোনাই মিশন মানুষকে দ্বীনের পথে আহবান আর ইসলামী আইন বাস্তবায়ন

মহান রাব্বুল আলামীন যুগে যুগে নবী-রাসূল (সা.) প্রেরণ করেছেন দ্বীনের দাওয়াত মানুষের নিকট পৌঁছে দেয়ার জন্য। রাসূল সা. হচ্ছেন সর্বশেষ নবী। বর্তমান জামানায় উলামায়ে কেরাম ও সকল মুসলমানের দায়িত্ব দ্বীনের দাওয়াত অন্যদের নিকট পৌঁছে দেয়া।

বাংলার জমিনে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার কাজ করছেন উলামায়ে কেরামসহ অন্যান্য ইসলামপ্রেমিক সৈনিকেরা। এর মধ্যে এমন একজন হচ্ছেন শায়েখ চরমোনাই। যিনি মানুষের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার জন্য ছুটে বেড়ান বাংলার টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত।

শায়েখ চরমোনাই এমন কিছু মিশন চালু করেছেন যার মেহনতের মাধ্যমে দ্বীন ভোলা মানুষ দ্বীনের ছায়াতলে সমবেত হচ্ছে।

মরহুম সৈয়দ এছহাক (শায়েখ চরমোনাই রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির উদ্যোগে মসজিদে মসজিদেএক্সুগত মাসিক ইজতেমা, হালকায়ে জিকির ও তালিম হচ্ছে। শহর-গ্রামে-গঞ্জে মহল্লায় মহল্লায় ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে মানুষকে দ্বীনের পথে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শায়েখ চরমোনাই’র মাহফিলে যারা উপস্থিত হন অধিকাংশই বয়ান শুনে চোখে পানি আসে, অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হয়। যার ফলে মাত্র ১ ঘন্টার বয়ান শুনে অসংখ্য মানুষ আল্লাহর রহমতে হেদায়েত প্রাপ্ত হওয়ার নজীরও রয়েছে শত শত।ভচক্র চ

মরহুম মাওলানা ফজলুল করীম (শায়েখ চরমোনাই রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত কুরআএক্সএক্সদবন শিক্ষা বোর্ড-এর উদ্যোগে ৬৮ হাজার গ্রামে ৬৮ হাজার মাদরাসা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মাদরাসা চালু হয়ে গিয়েছে। মাদরাসাগুলোতে ছোট শিশুদেরকে পঞ্চম শ্রেণি সমমান জেনারেল শিক্ষার পাশাপাশি👿কুরআন হাদিসসহ ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষাদান করা উউহচ্ছে। বিভিন্ন মাসজিদে মুয়াল্লিমের মাধ্যমে বয়স্কদের জন্য কুরআন শিখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সামাজিক জীবন এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে কিভাবে ইসলাম কায়েম করা যায়, সে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে মরহুম মাওলানা ফজলুল করীম (শায়েখ চরমোনাই রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে একটি রাজনৈতিক দল। এই দলের কার্যক্রম চলছে সমাজের সকল সেক্টরে। সংগঠনের বর্তমান আমীর মুফতী সৈয়দ মু. রেজাউল করীম (শায়েখ চরমোনাই)-এর নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে চলছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। ছাত্রদের জন্য রয়েছে ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন’। শ্রমিকদের জন্য রয়েছে শ্রমিক সংগঠন, আইনজীবীদের জন্য আইনজীবী সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন, এছাড়া রয়েছে অন্যান্য সংগঠহন।

দ্বীন প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে এগিয়ে চলছে সকল কার্যক্রম। “দ্বীনের পতাকা উড়বে এই জমিনে, হবেই হবে দ্বীনের বিজয়,” ইনশাআল্লাহ।

 

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

একুশের চেতনায় ইসলামবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে: অধ্যক্ষ মাও. ইউনুছ আহমাদ

আইএবি নিউজ: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, মাতৃভাষা বাংলা আল্লাহর দেয়া দান। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনও নিজ-ভাষাভাষিদের কাছে যখন কোন নবী পাঠিয়েছেন তাঁকেও সে ভাষা দিয়েই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। কাজেই ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকেও মাতৃভাষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। যারা আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়ে ভিন্ন ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল ওরা জালিম।

তিনি বলেন, ভাষার জন্য শাহাদাতবরণকারী সালাম, জব্বার, বরকত, রফিকরা নিজ জীবন বিলিয়ে দিয়ে বাংলাভাষা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। কিন্তু আজ বাংলা ভাষার সর্বত্র প্রচলন হচ্ছে না। অন্তত বাংলাদেশে তো সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলন করা প্রয়োজন ছিল।

অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ বলেন, একুশের চেতনায় চলমান সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমাদের দেশের শাসক শ্রেণীর দুর্বলতার কারণে ভিনদেশী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে দেশ। আমাদেরকে ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে জর্জরিত করেছে। নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চার পরিবর্তে ভিনদেশী সংস্কৃতির আমদানী করা হচ্ছে। গ্রীক দেবীর মূর্তিও মুসলমানের সংস্কৃতি নয়, এটা ভারতীয় সংস্কৃতি। মূর্তির সংস্কৃতি রুখে দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকারের দলের মন্ত্রীরা মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক মনে করে মূর্তি পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেরাও ঈমানহারা হচ্ছে এবং দেশবাসীকেও ঈমানহারা বানাচ্ছে। নব্য নাস্তিক-মুরতাদ ও নবীর দুশমনসহ সকল ষড়যন্ত্রকারী শক্তিকে রুখে দিতে হবে। ভাষা আল্লাহরই দান। মুখের ভাষাকে যারা কেড়ে নিতে চেয়েছিল তারা আসলেই মানবতার শত্র“। এই মানবতার শত্র“দের যেভাবে বাংলার দামাল ছেলেরা পরাজিত করে বাংলাভাষা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তেমনিভাবে মহানবীর দুশমন নব্য নাস্তিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে।

সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পুরানা পল্টনস্থ অফিস মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা এবিএম জাকারিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা, মাওলানা বাছির উদ্দিন মাহমুদ, মাওলানা এইচ এম সাইফুল ইসলাম, নূরুজ্জামান সরকার, ছাত্রনেতা সাইফ মুহাম্মদ সালমান, শ্রমিকনেতা নকীব বিন হুসাইন প্রমুখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেন, বাংলা ভাষার জন্য যারা মায়াকান্না করছে তারা এবং তাদের স্বজনরা বাংলার পরিবর্তে ভিনদেশী ভাষা চর্চা নিয়ে ব্যস্ত। দেশের উচ্চ আদালতেও ভিনদেশী ভাষায় রায় লেখা হয়। বড় দুটি দলের নামও বাংলা নয় বরং ভিনদেশী ভাষায়। যারা ভাষার জন্য আমাদের উপর জুলুম নির্যাতন করেছে তাদের দোসর এবং বর্তমান তাগুতি শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, ভাষা ও স্বকীয়তা ও ঐহিত্য হারিয়ে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ভাষা আন্দোলন শিক্ষা দেয় সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে লড়াই করার। বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে সেই সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরো যারা জীবন দিয়েছে তাদের পরিবারকে যথাযথ মর্যাদা দেয়া হয়নি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ভাষা শহীদদের মুসলিম রীতি-নীতি বাদ দিয়ে ভিনদেশী সংস্কৃতির মাধ্যমে স্মরণ করে তাদের আত্মাকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে।

আলোচনা শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।

 

ইসলামী হুকুমত চাইলে ইশা ছাত্র আন্দোলনে আসুন: শাইখ ফজলুল করীম মারুফ

আইএবি নিউজ: ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শাইখ ফজলুল করীম মারুফ ইসলামী হুকুমত প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি যার অনুসারী হতে চান হোন। আপনি চরমোনাই এর মুরিদ, শর্ষিনার মুরিদ, ফুলতলির মুরিদ বা অন্য কারো এতে কোন সমস্যা নাই। আপনি শার্ট প্যান্ট পরিধান করেন, লুঙ্গি পাঞ্জাবী বা জুব্বা তাতে কোন সমস্যা নাই। আপনি মিলাদ পড়েন বা তারাবীর নামাজ আট রাকাত পরেন কোন সমস্যা নাই। আপনি যা আছেন তাই থাকুন। শুধু আপনি যদি সুশাসন চান, আপনি যদি ইসলামী হুকুমত চান তাহলে আপনাকে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর পতাকা তলে স্বাগতম। আমরা আপনাদের সবাইকে সাথে নিয়ে ইসলামী হুকুমতের জন্য আন্দোলন করছি।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ইশা ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলা ও মহানগরের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে শাইখ ফজলুল করীম মারুফ ইসলামের ভিতরকার ‍বিভেদকে দুরে সরিয়ে রেখে সর্বস্থরের ছাত্রদের সাথে নিয়ে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটা জোড় লড়াই করারও আহবান জানান।

তিনি বলেন, ইশা ছাত্র আন্দোলন শুধুমাত্র কোন রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠনের নাম নয়। বরং এটা একটা ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের নাম। ইশা ছাত্র আন্দোলনের আন্দোলন হল ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এছাড়াও তিনি সর্বস্থরের ছাত্রদের প্রতি ইশা ছাত্র আন্দোলনে যোগদানের আহবান জানান।

তিনি বলেন, আপনি ইশা ছাত্র আন্দোলনে আসুন, ইশা ছাত্র আন্দোলনকে জানুন, বুঝুন। দেখুন আমরা কি করছি। যদি দেখেন আমরা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, ফাকা বুলি আউড়িয়ে আপনার ক্যারিয়ার নষ্ট করছি বা আপনাকে দিয়ে জঙ্গি তা'লিম দিচ্ছি তাহলে আপনি শুধু এই সংগঠন ছেড়ে চলে যাবেন তা নয় বরং আমাদেরককে র‍্যাব পুলিশে ধরিয়ে দিবেন। আর যদি দেখেন আমরা আপনার মঙ্গলের জন্য বলছি, দেশ, জাতি ও মানবতার পক্ষে বলছি তাহলে আমাদের সাথে থাকবেন, ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবেন।

ইশা ছাত্র আন্দোলন সিলেট মহানগরের সভাপতি মু. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে ও সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক শিহাবুদ্দীনের পরিচালনায় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পীর সাহেব চরমোনাইয়ের রাজনৈতিক উপদেষ্টা আশরাফ আলী আকন, কেন্দ্রীয় সদস্য মুয়াজ্জম হোসেন খান, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ডাঃ রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজসহ ইসলামী আন্দোলন শ্রমিক আন্দোলন, যুব আন্দোলন ও ইশা ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয়-স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

 

সিলেট প্রতিনিধি: শেখ আজিজুর রহমান মাসুম

মেয়ে হয়েও কেন আমি চরমোনাই তরীকাকে ভালবাসলাম

চির শাশ্বত বানী, "আল্লাহ যাকে চান তাকে হেদায়েত দেন"। কারো হেদায়েত পাওয়া ও ইসলামের উপর নিজের জীবনকে পরিচালিত করে আল্লাহ পাকের প্রিয় বান্দা-বান্দী হওয়া সম্পূর্ণটাই মহান আল্লাহ পাকের করুণা ও রহমতের উপর নির্ভর। তাই মহান আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া, তিনি আমাদের গোটা পরিবারকে দ্বীনের সু্শীতল ছায়াতলে নিবিষ্ট করে নিয়েছেন।

বাংলাদেশে হাজারো ফেতনা ফ্যাসাদের মাঝে, বাতিল ফেরকার ভীরে চিশতিয়া ছাবেরিয়া তরীকা আল্লাহ পাকের এমন রহমত যে, এই তরীকার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে জিকির পৌছেছে। এই তরীকার শায়েখদের শত ত্যাগ, অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে লক্ষ লক্ষ পথভোলা আল্লাহর বান্দা আল্লাহ ওয়ালায় পরিণত হয়েছে। যারা দুনিয়াতেও বাদশা, আখেরাতেও বাদশা। দাওয়াত, তালীম, তাসকিয়ায়ে নফস, জিহাদ এই চারটি মিশনকে সামনে রেখে চলার কারণে ১০০% হক দল হিসেবে ফতোয়া দিয়েছেন বিশ্ববরেণ্য হক্কানী আলেম ওলামাগণ।

আমাকে অনেকেই  প্রশ্ন করে, আমি কিভাবে চিশতিয়া ছাবেরিয়া তরীকার অন্তর্ভুক্ত হলাম? যদি এক কথায় উত্তর দিতে হয় তাহলে বলবো, এই তরীকা তথা চরমোনাই আমার রক্তে মিছে আছে। কথাটি  বলার কারণ, আমার আব্বু বিয়ের আগেই কুতুবুল আলম সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম রহ. এর কাছে বায়াত গ্রহণ করেন এবং নিজের জীবনকে পুরোপুরিভাবে পরিবর্তন করে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে পরিচালিত করার মাধ্যমে গোটা পরিবারকে পরিপূর্ণ ইসলামের গণ্ডিতে নিয়ে আসেন। ছোট বেলা থেকেই দেখেছি শায়েখ রহ. এর প্রতিটি কথাবার্তা আব্বু মেনে চলতেন। শায়েখের রহ. এর প্রতি আব্বুর ছিল অগাধ শ্রদ্ধা ও সীমাহীন মোহাব্বত। বর্তমান শায়খদ্বয়ের কাছেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আব্বুকে দুনিয়াবি মোহে আকৃষ্ট  ও বাতিলের সাথে কখনোই আপোষ করতে দেখেনি। মাঝে মাঝে শায়েখ রহ. এর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আব্বু আবেগআপ্লুত হয়ে পড়তেন। তিনি সবসময় চেয়েছেন, চিশতিয়া ছাবেরিয়া তরীকার নিয়ামতকে হাসিল করার মাধ্যমে নিজেকে একজন খাছ মুরিদ হিসেবে গড়ে তুলতে। তাই শায়খ রহ. আব্বুকে অনেক মোহাব্বত করতেন। বর্তমান শায়েখদ্বয়ও মোহাব্বত করেছেন। আব্বু মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত একজন নিবেদিতপ্রাণ হয়ে এই তীকার একনিষ্ঠ খাদেম হিসেবে নিজেকে ব্যাপ্ত রেখেছেন। আমি নিজেকে ভাগ্যবতী ও গর্বিত মনে করি, কারণ আমার নামসহ আমাদের তিন ভাইবোনের নাম শায়েখ রহ. রেখেছিলেন। আর তাই জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখেছি, আমার পরিবার থেকে আর দশটা পরিবারের কথাবার্তায়, আচার আচারনে, ন্যায়-নীতিতে বিস্তর ব্যবধান। এমনকি আমার আত্মীয়- স্বজনের সাথেও আমার পরিবারের পার্থক্য সহজেই অনুমান করা যায়। আমাদের পরিবার থেকে মেহনতের ফলে, আলহামদুলিল্লাহ ধীরে ধীরে আমার আত্মীয় স্বজনের অনেকেই এই তরীকার উসিলায় নিজেদের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। আমার যেই বড় ফুপা, আম্মু সামনে যেতো না বলে, রাগ করে আমাদের বাসায় আসতো না, এখন তিনি এই তরীকার মাধ্যমে পুরোপুরি নিজেকে বদলে ফেলেছেন, দ্বীনের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে, খেলার ছলে, খাওয়ার সময়, এমনকি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সবসময় টেপ রেকর্ডারে আমাদের প্রানপ্রিয় শায়েখ কুতুবুল আলম সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম রহ. এর বয়ান ছেড়ে রাখা হতো। বয়স কম থাকার কারণে হয়ত তখন কিছুই বুঝা সম্ভব ছিল না কিন্তু "বরিশালের পূর্ব কোণে, চরমোনাইয়ের ময়দানে" এই গজলটি ঠিকই গুনগুন করা হতো সারাদিন। এ যেনো অন্যরকম ভালোলাগা।  ধীরে ধীরে বুঝার ক্ষমতাও বাড়তে লাগলো, সাথে ভালো লাগাটাও। যেনো হৃদয়ে একটু একটু করে স্থান করে নিচ্ছে চিশতিয়া ছাবেরিয়া তরীকা। তখন বুঝতে শুরু করলাম এই কথাগুলো কোন সাধারণ কথা নয়, যেনো কোন পবিত্র মুখ বয়ান করছে, তাই তো এত তাছির, অন্তরে দাগ কেটে দেয়। যে কথাগুলো ইসলামের কথা, যে কথা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার পথকে সহজ করে দেয়। আর তাই তো শায়েখ রহ. ইন্তেকালের সময় অশ্রু জলে ভেসেছিলাম পুরো পরিবার। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে আমরা যোগ্য শায়েখ পেয়েছি, যিনি শায়েখ রহ. এর আদর্শ ও স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন। শায়েখ রহ. এর অপূর্ণ কাজ বা মিশনকে পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন করাই যেনো বর্তমান শায়খদয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

কিন্তু স্বভাবগত ভাবেই আমি অন্ধভাবে, না জেনে কোন বিষয়কে বা কাউকে অনুসরণ করার পক্ষপাতি ছিলাম না। হক ও বাতিল ফেরকার ব্যাপারে পড়াশুনা করলাম, বুঝার চেষ্টা করলাম, একজন মুসলমান হিসেবে আসলে নির্ভুল হক পথ আমার জন্য কোনটি? আসলেই কি চিশতিয়া ছাবেরিয়া তরীকা সেই তরীকা, যে তরীকা

আমাকে প্রকৃত মোমিন হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর পাকের রহমতে চিশতিয়া ছাবেরিয়া তরীকায় ন্যূনতম কোন ভুল খুঁজে পাই নি, বরং এই তরীকার বিশুদ্ধতা খুঁজতে যেয়ে ভালোলাগাটা বেড়েছে দ্বিগুণ।

চরমোনাইর মাফহিলে যাওয়ার সময় হলেই দেখেছি আব্বুর চোখে মুখে আনন্দ, উচ্ছাস। মাহফিল থেকে যখন ফিরে আসতেন তখন নানা প্রশ্নে আব্বুকে ব্যস্ত করে তুলতাম। মাহফিল কেমন  হয়েছে মাহফিল কেমন হয়েছে? কত মানুষ হয়েছে? শায়েখ কি বয়ান করেছেন, ক্যাসেট কিনে এনেছে কিনা? কত প্রশ্ন? তখন কল্পনা করতাম চরমোনাই মাহফিলটা কেমন হয়? মানুষগুলো মাহফিলে কি করে? ইশ, যদি মাহফিল দেখতে পারতাম, বয়ান শুনতে পারতাম কিন্তু তা কেবল কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, ৪ বছর ধরে অনলাইনে চরমোনাই মাহফিল লাইভ দেখতে পারি। এখন মাহফিল এলেই অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করি, কখন আমাদের প্রাণপ্রিয় শায়েখদের বয়ান শুনবো , নিজেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পথ তরান্বিত করবো। পাপি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করবো।

যে বাতি স্বয়ং মাওলা জ্বালায়, সে বাতি নিভানোর ক্ষমতা কারো নেই। আল্লাহ চিশতিয়া ছাবেরিয়া তরীকার নেয়ামত পৌঁছে দিন বিশ্বময়।

 

ফাতিমা খাতুন

নারায়ণগঞ্জ

আমার দেখা চরমোনাই মাহফিল

কেন চরমোনাই মাহফিলে যাবেন?

আমাদের সৌভাগ্য যে মুসলিম বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইসলামী মহাসম্মেলনের দুইটিই এদেশে। প্রমটি টঙ্গির তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত ইজতেমা। আর দ্বিতীয়টি বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত চরমোনাই বার্ষিক মাহফিল।

 

চরমোনাই মাহফিলের বিশেষত্ব

চরমোনাইর বার্ষিক মাহফিল বছরে দুবার ফাল্গুন ও অগ্রহায়ণে অনুষ্ঠিত হয়। ফাল্গুনের মাহফিলটি চারটি ময়দানে আয়োজন করা হয়, এবার প্রথম পাঁচটি ময়দানে আয়োজন করা হবে। দেশের সমগ্র অঞ্চল থেকে ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিদের আগমন ঘটে। ফাল্গুনের মাহফিল লক্ষ লক্ষ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়, অথচ সেখানে আইন শৃঙ্খলার জন্য কোন প্রশাসনিক ফোর্সের প্রয়োজন হয় না, যা নজিরবিহীন। চরমোনাই বার্ষিক মাহফিল আমার দেখা একমাত্র জায়গা যেখানে মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির সকল সেক্টরের নিজস্ব পরিচালনা কমিটি রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকগণ সর্বক্ষণ মাহফিলের সেবা  নিশ্চিত করে থাকেন। প্রথামিক চিকিৎসার জন্য রয়েছে অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা পরিচালিত ২০০ শয্যাা বিশিষ্ট হাসপাতাল, জরুরী প্রয়োজনে রয়েছে এম্বুল্যান্স। মাহফিলের লাইট, মাইক পরিচালনার জন্য রয়েছে অভিজ্ঞ টিম। সার্বক্ষনিক অনালাইন নিউজ আপডেটট করতে রয়েছে চরমোনাই মিডিয়া সেল। সরাসরি মাহফিলের বয়ান লাইভ করতে রয়েছে চরমোনাই ভিএস (www.chormonai.vs.net)। হারানো মাল বা ব্যক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য রয়েছে হারানো ক্যাম্প। মাহফিলের আওতাভূক্ত দোকানদারগণ যেনো অস্বাস্থ্যকর খাবার বা হারাম পন্য বিক্রয় করতে না পারে সেজন্য রয়েছে স্পেশালটিম। মাহফিলে অপরাধ বা চুরি দমনের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা বিভাগ এবং অস্থায়ী কারাগার। আর এসকল কাজগুলো পরিচালনা করে থাকেন বাংলাদেশ মুজাহদি কমিটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইশা ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের দায়িত্বশীল ও কর্মীগণ।

 

শরিয়ত মোতাবেক পরিচালিত

চরমোনাইর মাহফিল সম্পূর্ণ শরিয়ত মোতাবেক পরিচালতি হয়ে থাকে। সেখানে দেশ ও বিদেশের বরেণ্য ওলামায়ে কেরামগণ বয়ান করে থাকেন। কোন প্রকার বিদ'য়াতী বা শরিয়ত পরিপন্থি কাজ সেখানে করা হয় না। মাহফিলে নারীদের কোন অনুমতি নেই। তবে স্থানীয় কোন আত্মীয়ের বাড়ি থাকলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার।

 

বরকতী ময়দান

চরমোনাইর মাহফিল একটি বরকতী ময়দান। আমার মতো বাংলাদেশের লাখো তরুণ তার প্রমাণ। সেখানে হাজারও পথভ্রষ্ট পেয়েছে সঠিক পথের দিশা। সে ময়দান মুখরিত হয় আল্লাহ পাকের জিকিরের দ্বারা। লাখো আল্লাহ পাকের আশেক বান্দাদের চোখের পানি সে ময়দানকে আল্লাহ হেদায়েতের জরিয়া হিসাবে কবুল করে নিয়েছেন। এ ময়দান শুধু আত্মশুদ্ধির ময়দান নয়, এ ময়দান বাতিলের বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানও।

 

পরিশেষে একটা কথাই বলব, চরমোনাই দাওয়াত বা প্রশংসা করার জন্য নয়, শুধুমাত্র রাসূল সা. একটি হাদীসের উপর আমল করার জন্য দাওয়াত দিলাম, "বাল্লিগু আন্নি, ওলাও আয়াত" অর্থাৎ একটি মাত্র আয়াত হলেও অন্যের কাছে পৌঁছে দাও। যারা চরমোনাইর বিরোধিতা করেন, তাদের বলব একবারে জন্য চরমোনাইর মাহফিলে আসুন, তারপর বিরোধিতা করুন। অনেকে মনে করতে পারেন চরমোনাইর দালালী করছি, কিন্তু না কসম খোদার আপনিও এসে দেখুন এ ময়দানের বরকত কি! তখন আপনিও উপলব্ধি করতে পারবেন।

 

সাব্বির আহমাদ

স্নাতক, সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

সাংগঠনিক সম্পাদক: আএইবি, সোনারগাঁও পৌরসভা

রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক মনে করলে ঈমান থাকবে না: অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ

সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক আখ্যায়িত করে তা অপসারণের আন্দোলনকে সমালোচনা করে দেয়া সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, ন্যায় বিচারের প্রতীক মূর্তি হতে পারে না। আল্লাহ ও তার নাযিল করা কুরআন হচ্ছে ন্যায় বিচারের প্রতীক। আল্লাহ ন্যায় বিচারের সকল পদ্ধতি পবিত্র কুরআনে লিপিবদ্ধ করেছেন। কারণ মূর্তির বাক শক্তি ও বোধ শক্তি নেই। কাজেই মূর্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনকে স্বাধীনতা বিরোধী আখ্যা দেয়া কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক মনে করলে ঈমান থাকবে না, সে মুশরিক হয়ে যাবে।

মহাসচিব বলেন, মূর্তি মুসলমানের কোন সংস্কৃতি নয়, এটা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি। ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে মূর্তি বানানো বা সংরক্ষণ ও সম্মান করা হারাম। ইসলাম এসেছে মূর্তি ভাঙ্গার জন্যই। কাজেই ৯২ ভাগ মুসলমানের চিন্তাচেতনা বিরোধী মূর্তি স্থাপন কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। অবিলম্বে মূর্তি অপসারণ না করলে সর্বত্র আন্দোলন গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, এদেশে সব ধর্মের লোক বাস করে বলে মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতিবাদ করে মহাসচিব বলেন, যার যার ধর্ম পালনে কোন মুসলমান বাধা দেয়নি। কাজেই ৯২ ভাগ মুসলমানদের চিন্তাচেতনা বিরোধী মূর্তি চাপিয়ে দেয়া যাবে না। ন্যায় বিচারের প্রতীক হিসেবে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে তাহলে কি অতীতে ন্যায় বিচার হয়নি। মূর্তির প্রতি কারো ভালোবাস থাকলে সে ব্যক্তিগতভাবে তার ঘরে কিংবা তার নিজস্ব আঙ্গীনায় স্থাপন করলে কারো কোন আপত্তি থাকার কথা নয়।

তিনি পাঠ্যসুচি পরিবর্তনে মন্ত্রীর আপত্তির প্রতিবাদ করে বলেন, সিলেবাস হওয়া উচিত বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর চিন্তাচেতনা অনুযায়ী। কিন্তু কারা রাতের আধারে সিলেবাসে মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করতে সিলেবাস পরিবর্তন করেছিল তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। হিন্দুধর্মের লোকেরা হিন্দুধর্ম, খ্রিষ্টানধর্মের লোকেরা খ্রিষ্টধর্ম এবং বৌদ্ধধর্মের লোকের বৌদ্ধধর্মের ভিষয়াদি শিখবে এতে কারো আপত্তি নেই। কিন্তু ৯২ ভাগ মুসলমানদের উপর তা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে মেনে নেয়া হবে না। কাজেই সংস্কৃতিমন্ত্রীকে মনে রাখতে হবে তার সরকার দেশবাসীর কাছে নির্বাচনী ইশতেহারে শরীয়াহ বিরোধী আইন করবে না বলেই ক্ষমতায় এসেছে। এখন শরীয়াহ বিরোধী কাজ করে তার সপক্ষে সাফাই গেয়ে নিজের ঈমান বিসর্জন দিবেন না। অবিলম্বে তওবা করে প্রকৃত ঈমানদার হোন, অন্যথায় মূর্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে, অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
সূত্র: ইনসাফ

ইশা ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুর জেলা শাখার সম্মেলন ২১ ফেব্রুয়ারি

চাঁদপুর সংবাদদাতা, মহসিন হোসাইন: আগামীকাল ২১ ফেব্রুয়ারি'১৭ রোজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় শহরের বিপনীবাগ পার্টি হাউজে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জেলা সম্মেলন ২০১৭ অনুষ্ঠিত হবে। এসময় সংগঠনের ২০১৭ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। জেলা সম্মলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত থাকবেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ। 

উক্ত আলোচনা সভা ও জেলা সম্মেলনে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুর জেলা শাখা, থানা, ইউনিয়নসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের যথা সময়ে উপস্হিত থাকার জন্য আহবান করেছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রায়হান মুহাম্মাদ আকতার। তিনি সম্মেলন সফলের জন্য সকলের দোয়া ও সহযোগীতা কামনা করেছেন।

পৃথিবীতে রাসূল সা. এর আগমন মূর্তি ও বাদ্যযন্ত্র ধ্বংসের জন্য: পীর সাহেব চরমোনাই

দেবিদ্বার উপজেলা সংবাদদাতা: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, মূর্তি ও বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করার জন্যই পৃথিবীতে রাসূল (সা.) এর আবির্ভাব হয়েছিল। কাজেই সর্বোচ্চ বিচারাঙ্গন থেকে গ্রিক দেবির মূর্তি অপসারণ করে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ও তার নাযিল করা কুরআন হচ্ছে ন্যায় বিচারের প্রতিক। শুধু তাই নয়, ন্যায় বিচারের সকল পদ্ধতি পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা লিপিবদ্ধ করেছেন। আল্লাহর রাসূল (সা.) উক্ত বিধান পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি আফসোস করে বলেন, আমেরিকার সুপ্রিমকোর্ট ফটকে শ্রেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হিসেবে রাসূল (সা.) এর নাম লেখা থাকলেও ৯২ ভাগ মুসলমানের বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্টে ন্যায় বিচারের প্রতিক মাটি বা ধাতবের তৈরি মূর্তি থাকতে পারে না। কারণ মূর্তির বাক ও বোধ শক্তি নেই।
পীর সাহেব চরমোনাই শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে স্থানীয় বাস টার্মিনালে আয়োজিত বিশাল ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকিরে প্রধান মেহমানের বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আলহাজ ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এমপি।
মুরাদনগর বড় মাদরাসার শাইখুল হাদিস আল্লামা আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে মাহফিলে বয়ান করেন কোরআন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা জয়নাল আবেদীন, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, আলহাজ মাওলানা মুজাম্মিল হোসাইন ফারুকী, মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ আল ফরিদী, মাওলানা হাফিজ আহমদ ও মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক। অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান, মুজাহিদ কমিটির ছদর আলহাজ আনোয়ার হোসেন, আন্দোলন নেতা হাফেজ মাওলানা সুলাইমান, আলহাজ আবুল হোসেন আবু ও সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফ প্রমুখ। চরমোনাই পীর বলেন, আত্মশুদ্ধি না থাকায় মানুষের নৈতিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাধ্যমেই জননিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। রাসূল সা. এর আদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণ না থাকায় সমাজে দিন দিন অশান্তি বেড়েই চলছে। দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তি ফিরে পেতে হলে সকলকে রাসূল (সা.) এর আদর্শের অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, জাতিকে নৈতিকতাহীন করার পেছনে ঈমান ও ইসলাম বিধ্বংসী শিক্ষা আইন ও সিলেবাসই বেশি দায়ী। জাতিকে চরম ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে ঈমান ও ইসলাম বিধ্বংসী সিলেবাস সংশোধন প্রয়োজন। তিনি প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০১৬ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

বাঙ্গরা থানা ইশা ছাত্র আন্দোলনের সম্মেলন

আইএবি নিউজ, দেবিদ্বার  উপজেলা সংবাদদাতা: ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা শাখার সম্মেলন বৃহস্পতিবার বিকেলে চাপিতলা অজিফা খাতুন উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম। থানা সভাপতি শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন মুরাদনগর উপজেলার সভাপতি হাফেজ মাওলানা সুলাইমান, ছাত্রনেতা মুহাম্মদ এনাম বিন ইবরাহিম, মুজাহিদ কমিটির ছদর আলহাজ আনোয়ার হোসেন। সম্মেলন শেষে শরিফুল ইসলামকে সভাপতি, মেহেদী হাসান রানাকে সহ-সভাপতি ও আমান উল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন বাঙ্গরা বাজার থানা কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ইশা ছাত্র আন্দোলন জামালপুর জেলা শাখার বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন

আইএবি নিউজ, নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৭ইং রোজ শনিবার সকাল বাজারস্থ আইএবি মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সভাপতি মুজাম্মেল হক এর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক মাসুম মুশফিক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দীয় অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ মুস্তাকিম বিল্লাহ্। উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আন্দোলনের সভাপতি ডাঃ সৈয়দ ইউনুস আহমাদ। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি মুফতি মোস্তাফা কামাল, শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা যুব আন্দোলনের সদস্য সচিব, মাও. সাইফুল্লাহ্, মাও.হাফিজুর রহমান প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন শাখা থেকে আগত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে ২০১৭ সেশনের জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভাপতি মুজাম্মেল হক, সহ-সভাপতি মাসুম মুশফিক,  সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম।