শনিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০১৭

শুধু সিলেবাস সংশোধন নয়, শিক্ষানীতি ও শিক্ষাআইন ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে ঢেলে না সাজালে আন্দোলন : পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর, হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, সরকার বাংলাদেশের মুসলমানদের ওপর হিন্দুয়ানি সিলেবাস চাপিয়ে দিয়েছিল। তওহীদী জনতার প্রতিরোধ-সংগ্রামে বাধ্য হয়ে সরকার কিছুটা সংশোধন করেছে। কিন্তু নাস্তিক্যবাদী জাতীয় শিক্ষানীতি ও শিক্ষাআইন এখনো বহাল রয়েছে। যতদিন পর্যন্ত এ শিক্ষানীতি ও শিক্ষাআইন পরিপূর্ণভাবে ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে ঢেলে সাজানো না হবে ততদিন পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এদেশের কোটি কোটি তওহীদী জনতাকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করে যাবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, সরকার কিঞ্চিৎ সংশোধনী এনে তওহীদী জনতার মূল দাবি থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেবার চেষ্টা করছে। ষোল কোটি মুসলমানের দেশে ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন-সুন্নাহের শিক্ষা সর্বস্তরে বাধ্যতামূলক করতে হবে। আজ (শনিবার) মাহফিলস্থলে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত হলরুমে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ ও আইম্মিা পরিষদ চট্টগ্রাম আয়োজিত ওলামা-মাশায়েখ সুধী সমাবেশ এবং জাতীয় শিক্ষক ফোরাম চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত শিক্ষক প্রতিনিধি সমাবেশে পীর সাহেব চরমোনাই উপরোক্ত কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই রোহিঙ্গা মুসলমানদের দীর্ঘ দিনের সমস্যা সমধানে সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গারা আমাদের স্বজাতি, মুসলমান ভাই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার একটি হিন্দুপ্রধান রাষ্ট্র ভারত আমাদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও সেনাসহযোগিতা দিয়ে সহযোগিতা করেছিল। কিন্তু একটি মুসলিম রাষ্ট্র হয়ে প্রতিবেশী রোহিঙ্গা মুসলমানরা স্পেনের মুর মুসলমানদের ভাগ্যবরণ করতে যাচ্ছে। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদেরকে সে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না। রোহিঙ্গারা সে দেশের নাগরিক না হলে আরাকানে মিয়ানমারের দখলদারিত্ব বৈধ নয়। অবিলম্বে আরাকানে মিয়ানমারের দখলদারিত্ব অবসানে সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সিলেবাস সংশোধন করায় নাস্তিক্যবাদীরা ক্ষেপে গেছে। এদের আস্ফালন আর মেনে নেওয়া হবে না। সর্বস্তরের ওলামা-মাশায়েখকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে সর্বত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি অবিলম্বে ওলামায়ে কেরামের মতামতের ভিত্তিতে কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ চট্টগ্রামের লালদিঘি ও পলোগ্রান্ডে দুই দুইটি দীনী মাহফিল চলছে। উভয় মাহফিলে লাখ লাখ তওহীদী জনতার উপস্থিতি প্রমাণ করে এ দেশ মুসলমানদের, এদেশের মানুষ এখনো হক্কানি ওলামা-মাশায়েখকে ভালোবাসে, তারা ইসলামের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। চরমোনাই ও হেফাজতে ইসলাম আপন বাবা-মায়ের দু’ভাই। এ দেশে ওলামায়ে কেরামকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হাইকোর্ট চত্বর থেকে গ্রিক মূর্তি সরিয়ে ফেলতে আহ্বান জানান।

ওলামা-মাশায়েখ নেতা মাওলানা শেখ আমজাদ হোসাইন ও শিক্ষক নেতা কারী দিদারুল মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশসমূহে বক্তব্য পেশ করেন, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ড. আ ফ ম খালেদ হোসাইন, আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী, ড. বেলাল নুর আজীজ, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রভাষক মুফতী হুমায়ুন কবীর খালবী, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ তৈয়ব, মাওলানা হাসান মুরাদাবাদী, মাওলানা মুফতী দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, মাওলানা নেসার উদ্দীন, মুফতী ইবরাহীম আনোয়ারী প্রমুখ।