বুধবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৭

পাঠ্যবই বিতর্ক: সাম্প্রদায়িক কারা?

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে স্যেকুলাররা একটি শব্দ নিয়ে বেশি মাতামাতি করছে। অার তাহলো "সাম্প্রদায়িক" শব্দ।
তারা বলতে চাচ্ছে পাঠ্যপুস্তুকে নাকি 'সাম্প্রদায়িকতা' প্রতিফলিত হচ্ছে। অাসলে তারা এখানে 'সাম্প্রদায়িকতা' বলতে ইসলাম ধর্মকে বুঝাতে চাচ্ছে।
তারা যে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করতে চাচ্ছে তাহলো 'ও'-তে= "ওড়না" বিতর্ক। এটা নাকি একটি সাম্প্রদায়িক শব্দ।
এ বিষয়ে পরেই বিস্তারিত বলতেছি।

এখন অাসুন অামরা "সাম্প্রদায়িক" বলতে কি বুঝি? এবং তারা কিবুঝাতে চাচ্ছে।

দের ভাষাতেই সাম্প্রদায়িক নামে হলো একটি "সম্প্রদায়"। যেমন:-
-মুসলিম সম্প্রদায়।
-হিন্দু সম্প্রদায়।
-বৌদ্ধ সম্প্রদায়।
-খ্রিষ্ট সম্প্রদায়।
অারো অারো যারা অাছে..।

অর্থাৎ, অামি মুসলমান, অামি 'মুসলিম সম্প্রদায়'। অাপনি হিন্দু, অাপনি 'হিন্দু সম্প্রদায় '। অাপনি বৌদ্ধ, অাপনি 'বৌদ্ধ সম্প্রদায় '....।

যে সমস্ত শব্দ বা ভাষা দ্বারা ইসলামকে বুঝানো হয় বা যে সমস্ত ভাষা এবং শব্দের মাধ্যমে ইসলামী ভাবাদর্শ বুঝা যায় তারা সেগুলোকে "ইসলামীক সাম্প্রদায়িক শব্দ" বলে অাখ্যায়িত করছে। তার মানে অামরাও বলতে পারি যে সমস্ত শব্দ বা ভাষা দ্বারা হিন্দু সম্প্রদায়কে বুঝায়, সেগুলোও "হিন্দু সাম্প্রদায়িক শব্দ"।

এখন অাসি তারা পাঠ্যবইয়ের যে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করছে সেটি হলো, 'ও' বর্ণে -"ওড়না চাই"। এটাকে তারা বলতেছে "সাম্প্রদায়িক শব্দ"। অর্থাৎ, তারা বলতেছে ছোট ছোট শিশুদের কেন নারী-পুরুষের ভেদাভেদ বুঝাতে হবে "ওড়না" দিয়ে। ওড়না হলো নারীদের পোশাক। এবং তারা অারো বুঝাতে চাচ্ছে এটি নাকি ইসলামের পোশাক।(যদিও 'ওড়না' ইসলামীক পোশাক না, ইসলামী পোশাক হেজাব)
অতএব, এটি একটি "সাম্প্রদায়িকতা"।

এখন অামরা তথাকথিত সেই স্যেকুলারদের কাছেই প্রশ্ন রাখতে চাই তোমরা কি শুধু ঐ বইয়ে 'ও' বর্ণটাই দেখেছো?
ঐ একই বইতে অারো কিছু বর্ণ অাছে যেমন:-

[caption id="attachment_2742" align="alignright" width="297"] পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি পৃষ্ঠা তুলে ধরা হলো।[/caption]

'ঋ' তে- "ঋষি ঐ বসে অাছে"।
'এ' তে- "একতারা বাজে"।
'জ' তে- "জল নামে"।
'ত' তে- "তবলা বাজাই"।
'র' তে- "রথ টানি"।
এই শব্দগুলো কোন সম্প্রদায়ের?
এগুলো কি হিন্দু "সাম্প্রদায়িক শব্দ" নয়?
এতগুলো শব্দ যদি হিন্দু "সাম্প্রদায়িক শব্দ" হয়। তাহলে মাত্র একটি 'ও' বর্ণ দিয়ে "ওড়না চাই" শব্দ কেন ইসলামী "সাম্প্রদায়িক" হবে?
যদি সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে বিতর্ক করতেই হয়। তাহলে অাগে হিন্দু সাম্প্রদায়িক শব্দগুলো নিয়েই বিতর্ক করতে হবে। কিন্তু সেদিকে তাদের কোন নজর নেই।

ইসলামপন্থীরা পর্যন্ত এই সকল বিষয়ে কোন আপত্তি তোলেনি। আমরা স্যেকুলারদের সমস্যা তো বুঝতে পারি, স্যেকুলার পোশাকের আড়ালে ইসলাম বিদ্বেষের অনেক পুরোনো অসুখ, এটা সারার নয়। অাসলে তারা সাম্প্রদায়িকতার নামে ইসলামের মূল ধারাকে ব্যাহত করতে চাচ্ছে। যেটা তাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব হবে না। অাসলে তারা "সাম্প্রদায়িকতা" বলতে ইসলামীকেই বুঝাতে চাচ্ছে। অামরা অারো দেখি যে, “ বিবিসির আকবর হোসেন লিখেছেন, "পাঠ্য-পুস্তক নিয়ে যে বিতর্ক হচ্ছে তার দু'টো দিক রয়েছে। প্রথমত: বইতে ভুল এবং দ্বিতীয়ত: এমন কিছু ধর্মীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেটি শুধু মুসলমানদের জন্যই প্রযোজ্য।" আকবর হোসেন কি একটু জবাব দেবেন, এটা চতুর্থ শ্রেনীর বাংলা বইয়ে অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভজনের "নেমন্তন্ন" দেয়া হচ্ছে, যেখানে প্রসাদ খাওয়া হবে। মিলাদের দাওয়াত নয়, যেখানে তবারক বিতরণ করা হবে। ভজন, প্রসাদ ভোজন এগুলো কাদের জন্য প্রযোজ্য?
নাকি হিন্দু অভিজ্ঞতা থেকে যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় ঢুকবে সেগুলো স্যেকুলার আর মুসলিম ঐতিহ্য থেকে যেসমস্ত বাক্য বাংলা ভাষায় ঢূকবে সেগুলোকে “সাম্প্রদায়িক” বলতে হবে? ঘৃণা সাজাতে হবে? বলাই বাহুল্য, ইসলামপন্থীরা এই কবিতা নিয়ে আপত্তি তোলেনি। ভেবে দেখুন, এই অখাদ্য ঘৃণাজীবি স্যেকুলারদের চাইতে ইসলামপন্থীরা কতটা উদার। ”
মুনশি দা ভালোই উত্তর দিয়েছেন এখানে ।  উনার পোষ্টটি একটু দীর্ঘ তাই এখানে কপি করলাম না তবে লিংকে গিয়ে পড়ুন সত্যিই অনেক মজা পাবেন । http://goo.gl/tZScFY

এরমকভাবে অারো অনেকগুলো বিষয় অাছে। যেগুলো বিশ্লেষণ করতে গেলে দেখা যাবে "মুসলিম সাম্প্রদায়িকতা" থেকে হিন্দুসহ অন্যান্য "সাম্প্রদায়িকতা" প্রাধান্য পেয়েছে।

এবার একটু বিবেচনা করে বলুন, অাসল সাম্প্রদায়িক কারা? এবং বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কারা বিনষ্ট করছে? মুসলমানরা যদি সাম্প্রদায়িক গুষ্ঠি হতো তাহলে অন্য কোন সম্প্রদায়ের কোন বিষয় বা লেখাই পাঠ্যপুস্তকে প্রবেশ করতে পারতো না।

তাই স্যেকুলারিষ্টদের বলি বেশি বাড়াবাড়ি করলে কিন্তু অাখের ঘোচানোর সময় পাবে না।
অামাদের একটা গ্রাম্য প্রবাদ অাছে, "বেশি খাইতে গেলে অল্পের লাগ পায়না।"

লেখক : মনির হোসাইন

সাংগঠনিক সম্পাদক

ইশা ছাত্র অান্দোলন, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ।

 

 

 

Save

Save