শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

লংমার্চে বাধা মেনে নিয়েছি কিন্তু পরবর্তী কর্মসূচীতে বাধা দিলে সহ্য করা হবে না: ইসলামী আন্দোলন কুমিল্লা জেলা



গত ১৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারের মুসলিম হত্যা বন্ধের দাবিতে সরকার শান্তিপূর্ণ লংমার্চে বাধা প্রদানের প্রতিবাদে গতকাল বিকাল ৩টায় কুমিল্লা টাউন হল ময়দানে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অত্র সংগঠন ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

 

অত্র সমাবেশে ইশা ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা জেলা উত্তরের সভাপতি এনাম বিন ইবরাহীম বলেন, গত বিক্ষোভে সূরা নিসার একটি আয়াত তিলাওয়াত করেছিলাম। আমরা মাজলুম, আমাদের জন্য সাহায্যকারী পাঠাও। সরকার লংমার্চে বাধা দিয়ে ১৮ তারিখে পণ্ড করে দেয়। ১৮ তারিখে সরকারের বাধার কারণে মাজলুমের সাহায্যকারীর পরিবর্তে বরং আমরা মাজলুম হয়ে গেছি। যেহেতু মোরা মাজলুম বনে গেছি সেহেতু রাব্বে কারীমের নিকট আমরা দু'আ করতে পারি যেনো জালিমশাহী সরকারের তরিৎ পতন ঘটে। বহু দিন ধরে সরকারকে অনুনয় করে আসছি মিয়ানমারের মুসলিমদের পক্ষে কথা বলতে। কিন্তু তা না করে অং সান সুচির মনোরঞ্জন করছেন। আপনি মিয়ানমারের মুসলিমের পক্ষে কথা বলবেন বিধায় চরমোনাই পীরের লংমার্চে বাধা দিলেন। আর যদি হঠকারিতা করেন তাহলে বাংলার তৌহিদী জনতা ছেড়ে দেবে না। বাংলা আমার জন্মভূমি, মাতৃভূমি। এখানে আমরা আমাদের অধিকারের কথা বলবো, এতে যদি বাধা দেন তাহলে আপনার কালো হাত ভেঙ্গে ফেলা হবে।



ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা মহানগরের সেক্রেটারি মাও. কেফায়েত উল্লাহ আরশাদী বলেন, ১৮ তারিখে লংমার্চে সরকার বাধা দেয়। আমরা মনে করি সরকারের লংমার্চে বাধা দেয়ার নেপথ্যে দুটি কারণ। ১. সরকারের ভয়। ২. গভীর ষড়যন্ত্র।

সরকারের ভয়টা হলো-

না জানি চরমোনাই পীর আমার বিরুদ্ধে গদি ছিনিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে।

গভীর ষড়যন্ত্রটা হলো-

সরকার আমাদেরকে লংমার্চে বাধা দিয়ে শাপলা চত্ত্বের ইতিহাস সূচনা করতে চেয়েছিল। পীর সাহেব চরমোনাই তৌহিদী জনতাকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঠেলে না দিয়ে পল্টনে জড়ো হতে বলেন। ঐ দিন পীর সাহেব চরমোনাই বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।

আরেকটি চক্রান্ত চলছে নায়েবে আমীরকে ঘিরে। সেটা হলো নায়েবে আমীরকে হত্যার ষড়যন্ত্র। বিগত সময় যেমন কলরবের প্রতিষ্ঠাতা আইনুদ্দিন আল আজাদকে অত্যন্ত সুনিপুনভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ঠিক তেমনি নায়েবে আমীরকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে কুচক্রীকারীরা। প্রশাসন ভাইদের নিকট আকুল আবেদন যে আপনারা সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারকে বলে দিতে চাই, আমাদের আমীর ও নায়েবে আমীরের কিছু হলে বাংলার তৌহিদী জনতা আপনাকে ছাড় দিবে না।

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা জেলা পূর্বের সেক্রেটারি ও কারা নির্যাতিত নেতা এম.এম. বিলাল হোসাইন বলেন, পীর সাহেব চরমোনাই-এর নেতৃত্বে মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে ১৮ তারিখে লংমার্চে যাত্রা করেছিলাম। প্রথমদিকে অনুমতি থাকলেও তা পরে প্রত্যাহার করে নেয়। লক্ষ লক্ষ জনতা যখন রাজপথে তখন সরকার বাধা দেয়। আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী তাই বলে দূর্বল ভাববেন না। আপনি ইসলামী শক্তির উত্থান দেখে আপনার নাস্তিকপক্ষ ভয় পেয়েছে।এদেশের গুটিকয়েক নাস্তিক আপনাকে বাচাতে পারবে না।

 

এরপর বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন স্থান যেমন- কান্দিরপাড়, মনোহরপুর, রাজবাড়ী, রাজগঞ্জ, মোগলটুলী, শিল্পকলা, প্রেসক্লাব, স্টেডিয়াম মার্কেট, জিলা স্কুল রোড হয়ে পুবালী চত্ত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।