রবিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০১৭

আখেরি মুনাজাতে দেশ, জাতি ও উম্মাহর সমৃদ্ধি কামনার মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হলো চট্টগ্রামের ৩দিনব্যাপী মাহফিল

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রান্ড ময়দানে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত চরমোনাইয়ের নমুনায় তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির আজ পীর সাহেব হুজুর চরমোনাইর আখেরি মুনাজাতের মাধ্যদিয়ে শেষ হলো।

মাহফিলের শেষদিনের বয়ানে হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) ভক্ত-মুরীদদের উদ্দেশ্যে বিশেষ নসীহতে বলেছেন, ইসলাম পরিপূর্ণ, জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের আলোকে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তি-পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সবকিছুকে আল্লাহর প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। মানুষের হক, ধন-সম্পদ আত্মসাৎ, সরকারি কর্মচারি হলে দুর্নীতি, চাকরির দায়িত্বে অবহেলা, ফাঁকিবাজি এবং ব্যবসায় ও বেচাবিক্রিতে ভেজাল, ওজনে কম দেওয়া থেকে সতর্ক করে দিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আল্লাহর হক কান্নাকাটি আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দ্বারা মাফ পাওয়া যাবে, কিন্তু বান্দার হকে কোনো ক্ষমা নেই।

আজ (রোববার) বাদ ফজর আখেরি মুনাজাতের পূর্ব বয়ানে মিথ্যা কথা, মানুষের গিবত, পরনিন্দা, লোভ, কৃপণতাসহ যাবতীয় আত্মিক রোগ থেকে ভক্ত-মুরীদদেরকে বেচে থাকার জন্য নির্দেশানা দেন। যুবকদের উদ্দেশ্য পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ধর্মীয় ও জাগতিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে দেশগঠনে এগিয়ে এসো। মাদকতা, ইভটিজিং, যৌতুক, সন্ত্রাস ও লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করেছে। পীর সাহেব চরমোনাই এ সকল অন্যায়-অবিচার থেকে নিজের সন্তান ও দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য ভক্ত-মুরীদদের প্রতি নির্দেশনা দেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, রাজনীতিতে কেউ নিয়ে এসেছেন নৌকা, কেউ নিয়ে এসেছেন ধানের শীষ। ৪৫ বছরে যারা ক্ষমতায় গিয়েছেন তাদের অধিকাংশই দুর্নীত, সন্ত্রাসীদের লালন, জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন। পীর সাহেব বলেন, ভোট শুধু একটি সিল মারার নাম নয়। ভোটের মাধ্যমে প্রার্থীদের চুরি-দুর্নীতিরও সমর্থন করা হয়। কাল কিয়ামতের ময়দানে এই ভোটেরও হিসেব হবে উল্লেখ করে পীর সাহে বলেন, আজীবন নামায-রোজা ও আট-দশবার হজ করেও শেষবিচারের দিনে শুধুমাত্র দুর্নীতিবাজদেরকে সমর্থনের কারণে চুরি-ডাকাতির আসামী হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

মাহফিলে অন্যান্য ওলামায়ে কেরামের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, হযরত আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী, ঐতিহ্যবাহী কৈয়গ্রাম মাদরাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা হুসাইন আহমদ, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ড. আ ফ ম খালেদ হোসাইন, ড. বেলাল নুর আজীজ, হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ আবুল খায়র মুহাম্মদ ইসহাক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রভাষক মুফতী হুমায়ুন কবীর খালবী, মাওলানা নুরুল করীম বেলালী, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ তৈয়ব, মাওলানা মুফতী দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, মাওলানা বোরহানউদ্দীন আল-বারী, শেখ মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা হাবীবুর রহমান আতিকী ও মাওলানা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

এ দিকে আজ (রোববার) বাদ ফজর ইজতিমায়ী জিকির ও পীর সাহেব চরমোনাইয়ের সর্বশেষ বয়ানের পর মাহফিলের আখেরি মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই। আখেরি মুনাজাত উপলক্ষ্যে মাহফিলে অবস্থানরত মুসল্লী ছাড়াও ভোর থেকে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ তওহীদী জনতার ঢল নামে। মুনাজাতে পীর সাহেব চরমোনাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিপীড়িত মুসলিম বিশেষত রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে সাহায্য কামানা করেন এবং দেশ, জাতি ও উম্মাহকে এক ও নেক হয়ে সমৃদ্ধ হতে দোয়া করেন।