মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

ভোটাধিকার হলো মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার; এটি নিশ্চিত করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান



ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২০ তমে জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে আজ। সকাল ১০ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। আগামী কাল দলটির কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হবে এ সম্মেলন। সম্মেলনে ৫৫ জন বিদেশি অতিথি যোগ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক সম্মেলনের আয়োজন করল দলটি।

গত দুই মাস ধরেই মানুষের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা চলছে। কে হবেন সভাপতি কে সেক্রেটারি। কে বাদ পরবেন আর কে অন্তর্ভূক্ত হবেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে। এসব দরকষাকষির মধ্যে আছে অনেক প্রত্যাশাও। নাগরিক চাহিদার যোগান বৃদ্ধিসহ নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করা, জীবনের মানোন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে পথে ঘাটে। সৌহার্দপূর্ণ এক সম্পর্ক সূচনার সুযোগ পেয়েও বিএনপি কেন সম্মেলনে গেল না সেটি সমালোচনাও তুঙ্গে। কিংবা এই সম্মেলনে দেশ বিদেশের হাজারো মানুষ আমন্ত্রিত হলেও আলেম বা ইসলামি কোনো দল আমন্ত্রিত হয়নি, তা নিয়েও ছুটছে আলাপের গাড়ি। এসব বিষয়ে বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন রোকন রাইয়ান

গাজী আতাউর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন ঐতিহাসিক রূপ নিয়েছে যা অতীতে আর দেখা যায়নি। এ সম্মেলন উপলক্ষে যে আয়োজন, আলোকসজ্জা ও উৎসবের আমেজ লক্ষ করছি সেটি দলটির জন্য সুখকর। তবে এসবে মানুষের চাওয়া ও দেশের উপকার হচ্ছে কিনা এগুলো বিবেচ্য।

মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্যতম হলো ভোটাধিকার। যে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে দেশের ক্ষমতায় পাঠাতে চায়। অন্ন বস্ত্রের মতো এ অধিকার গুরুত্বপূর্ণ। এমন মৌলিক কিছু অধিকার থেকে মানুষ যেন বঞ্চিত না হয় সেটা সরকারকে সবসময় মাথায় রাখতে হয়। একটি কাউন্সিল পরবর্তী সময়ে নতুন করে পরিকল্পনা করে এগুনোর প্রেরণা। আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই নতুন কমিটিতে নতুন পরিকল্পনায় এগুবে। তাদের কাছে আমরা মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের দাবি করতে পারি।

সম্মেলনের প্রত্যাশা সম্পর্কে তিনি বলেন, সম্মেলন পরবর্তী প্রত্যাশাগুলো যদিও সীমিত নয় তবে এই মুহূর্তে  বলা যায় দেশের জনগুরুত্বপূর্ণ  ইস্যুগুলোতে দলটি যদি আরো গুরুত্ব দেয় এবং মানুষ অধিকার নিশ্চিত করতে পারে সেটাই হবে সফলতা। এই মুহূর্তে  একটি বিষয় মানুষের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। সেটি হলো সুষ্ঠু বিচার। ক্রসফায়ার নামক যে বিষয়টি আছে তাতে সরকারকে আরো সংযমী হতে হবে। কারণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানুষের অধিকার। তো ভালো হোক মন্দ হোক মানুষ বিচার প্রত্যাশা করে। বিচারের পর যে সিদ্ধান্ত আসে তা মানতে কোনো সমস্যা থাকে না কারো। এই দিকগুলোতে সচেতনতা সবার কাম্য।

বিএনপি সম্মেলনে যায়নি বিষয়টি কেমন জানতে চাইলে গাজী আতাউর রহমান বলেন, সম্মেলনে যোগ দিলেও যে খুব বেশি ফায়দা হতো এমনটা নয়। একটা সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক উপর থেকে আমরা লক্ষ্য করতাম কিন্তু ভেতরে ভেতের সেই আগের সম্পর্কই জিইয়ে থাকত। আমরা তাদের সম্পর্কে  বেশ ভালোই জানি।

‘ইসলামি দলগুলো কেন আমন্ত্রণ পায়নি’ প্রশ্নে গাজী আতাউর রহমানের উত্তর- আওয়ামী লীগের বিদেশ নির্ভরতা প্রচুর। তারা মনে করেন না দেশের দলগুলোর সঙ্গে সখ্যতা, সাক্ষাৎ প্রয়োজন আছে। এড়িয়ে যাওয়ার কারণ এমন হতে পারে।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে নির্বাচন তো হবেই। তবে সেটা কবে নাগাদ এবং গ্রহণযোগ্য উপায়ে হবে কিনা দেখার বিষয়। এজন্য একটু দেরিতে হলেও সর্বজন গ্রহণীয় একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করা উচিত।

সূত্র : আওয়ার ইসলাম