রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

রাজনীতিতে না এসে ছাত্রসমাজ বা জাতির আশা পূরণ করা সম্ভব নয়: জি এম রুহুল আমীন

গত ২৭ জানুয়ারি ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ২০১৭ সেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। গাজীপুরের কৃতি সন্তান এ মানুষটি র্দীঘ ১৪ বছর ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে ছাত্র আন্দোলনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখে সর্বোচ্চ পদটিতে এসে পৌঁছেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এ অনার্স সম্পন্ন করে এখন মাস্টার্সে অধ্যয়নরত তিনি। তার আগামী পথচলা, লক্ষ উদ্দেশ্য ও নানা বিষয়ে কথা বলেছেন আওয়ার ইসলাম টুয়েন্টিফোর ডটকম-এর প্রতিনিধি বশির ইবনে জাফর

আওয়ার ইসলাম: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কেমন আছেন ?

জি এম রুহুল আমীন: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। জ্বী, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন ?

আওয়ার ইসলাম: আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। প্রথমেই আপনার কাছে যে বিষয়টি জানতে চাইবো তা হচ্ছে, এইযে আপনি ইশা ছাত্র আন্দোলনের মতো বড় একটি সংগঠনের সর্বোচ্চ পদের জন্য মনোনীত হলেন এ অর্জনের কথা কী কখনো ভেবেছিলেন?

জি এম রুহুল আমীন: আসলে পদের জন্য কখনই ভাবা হয়নি। বিশেষ করে যখন আমার ছাত্র আন্দোলনে আসার সময়টির কথা বলি, আমি যে প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছি সেখানে আমার একজন উস্তাদ ছিলেন ‘আবু জাফর মুহাম্মদ সালেহ’ সাহেব। যিনি গাজীপুর জেলার দায়িত্বশীল ছিলেন এবং উনার মাধ্যমেই আমি এই সংগঠনের পরিচয় পাই এবং সদস্য হই। এরপর ২০০৫ সালে মরহুম পীর সাহেব র. এর গাজীপুরে একটি মাহফিল ছিলো যে মাহফিল থেকে উনার বয়ান শোনার মাধ্যমে প্রভাবান্বিত হয়ে এ সংগঠনে সক্রিয় হওয়া। এরপর থেকে শুধু কাজ করে গেছি। যেখানে যে দায়িত্ব এসেছে সেটাকেই পালন করতে চেষ্টা করেছি আর এভাবেই আজ এ পর্যন্ত আশা। তাই পদ নিয়ে কখনোই ভাবনা ছিলো না।

আওয়ার ইসলাম: অন্যান্য সংগঠন রেখে এটাকেই বেছে নিলেন। কী কারণ?

জি এম রুহুল আমীন: বিষয়টা হলো, আমার কাছে তখন মনে হয়েছে ছাত্র হিসেবে প্রত্যেককে একটি আর্দশকে সামনে রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে । যে আদর্শে আদর্শবান একজন ছাত্র তার পুরো জীবনটাকে সর্বাঙ্গে সুন্দর করে সাজাতে শিখবে এবং নিজেকে পরিশুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে ছাত্রসমাজসহ সমগ্র জাতির আশা পুরণ করবে। আর আমার সেই মনোভাব বাস্তবায়নের সবচেয়ে উপযুক্ত দল এটাকে মনে হয়েছে বিধায় ইশা ছাত্র আন্দোলন বেছে নেয়া।

আওয়ার ইসলাম: আপনার যে আকাঙ্খা বা উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনীতিতে আসা সেটা কি রাজনীতিতে না এসেও বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করেন?

জি এম রুহুল আমীন: আসলে ছাত্রসমাজ বা জাতির আশাকে পূরণ করা রাজনীতিতে না এসে সম্ভব নয়। কারণ আমি যদি শুধুমাত্র একটি গণ্ডির মধ্যে নিজেকে বেঁধে রাখি এই যেমন শুধু স্কুল-কলেজ বা মাদরাসা নিয়েই সারা জীবন ব্যস্ত থাকি তবে আমার দ্বারা একটি অংশে উন্নতি সম্ভব। আর সেটি হচ্ছে আমি পড়া এবং পড়ানোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটা অংশে খেদমত করে যাওয়া। এতে করে আমি হয়ত দুএকটা কিতাব লিখে যেতে পারবো যেগুলো ছাত্রদের বা যারা সেগুলো অধ্যয়ন করবে তাদের চাহিদা পূরণ হবে কিন্তু পুরো একটি সমাজের তথা সমাজের সর্বশ্রেণির মানুষের আশা ইচ্ছা বা চাহিদার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।



আওয়ার ইসলাম: এবার একটু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বলি, এই যে প্রতিনিয়ত আমরা দেখছি শিক্ষার হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে অথচ শিক্ষার গুণগত মান তো তেমন বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে না। এর কারণ কী?

জি এম রুহুল আমীন: আমাদের সরকার যে শিক্ষাবান্ধব তারা নিজেরা এটা প্রমাণ করতে চাচ্ছেন। আর এজন্য শিক্ষার হার যত বেশি দেখাতে পারবে ততো হয়ত তারা বহিঃবিশ্বে দেখাবে যে আমাদের গণতন্ত্রটা একটা সুসংহত গণতন্ত্র। এর মাধ্যমে আমরা শিক্ষার উন্নয়ন করছি এবং দেশে শিক্ষার হার বাড়াচ্ছি। অথচ বাস্তবিক পক্ষে জাতি কিন্তু শিক্ষিত হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা এখন আর মেধা খরচ করে পড়াশোনা করে না। কেনই বা করবে! নেট ঘাটলেই পরীক্ষার আগে পাওয়া যাচ্ছে প্রশপ্নপত্র। আর এই প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েই আজ এ প্লাসের এতো ছড়াছড়ি। এভাবেই পাসের হার বাড়ছে এবং কাগজে কলমে জাতি শিক্ষিত হচ্ছে। এজন্যই গুণগত মান বাড়ছে না আর যতদিন এরকম চলবে ততোদিন বাড়বেও না।

আওয়ার ইসলাম: আজ শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার বড়ই অভাব লক্ষ্যণীয়। সম্প্রতি স্কুল শিক্ষার্থীদেরও দেখা যাচ্ছে বড় বড় অপরাধে জাড়াচ্ছে, বিভিন্ন গ্যাং তৈরি করে অপরাধকাণ্ডে জড়াচ্ছে। এর কারণ কী আর কিই বা তার প্রতিকার?

জি এম রুহুল আমীন: আসলে আমাদের দেশের স্কুল-কলেজগুলোতে নৈতিক শিক্ষা নাম দিয়ে তাদের নৈতিকতাকে একটি পুস্তকেই সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমাদের শিক্ষকরা এখন শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই পড়াচ্ছেন কোচিং প্রাইভেট খুলে বসছেন যত্রতত্র অথচ নৈতিকতা শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে উদাসিন। আরেকটি বিষয় হচ্ছে আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোই এসব শেখাচ্ছে। এরা বিভিন্ন নাটক টেলিফিল্ম এমনভাবে উপস্থাপন করছে যা শিক্ষার্থীদের আর্দশ ও নৈতিকতা থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। সুতরাং এদের যদি আমরা আর্দশ ও নীতিবান করে গড়ে তুলতে চাই তবে শুধুমাত্র পাঠ্য বইয়ে নৈতিকতাকে সীমাবদ্ধ না রেখে অভিভাবক, শিক্ষক সবাইকে সচেতন হয়ে নিজ সন্তানের নৈতিকতার বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আওয়ার ইসলাম: ছাত্র রাজনীতি কতটা উপকার বয়ে আনে একজন শিক্ষার্থীদের জন্য এ ব্যাপারে অভিভাবক মহলে বেশ ভাবনা রয়েছে। এর কারণ কী?

জি এম রুহুল আমীন: এ ভাবনাটা এসেছে মূলত কিছু রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠা ছাত্র সংগঠনগুলোর অপকর্মের কারণে। এসব রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যাপারে কোন জোড় দিচ্ছে না বরং নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করছে। অথচ ছাত্রদের রাজনীতির মূল বিষয়ই যদি হতো সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের চরিত্রগঠনে সচেতন হওয়া বা নিজের জীবনকে আর্দশবান করে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে আদর্শ সমাজ গঠন করা তবে এমন ভাবনাটা আসতো না।

আওয়ার ইসলাম: একটি দলের নেতা এবং কর্মীদের পারষ্পরিক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

জি এম রুহুল আমীন: নেতা এবং কর্মীদের মধ্যে যদি পারষ্পরিক সুসম্পর্ক না থাকে তাহলে কিন্তু কখনোই জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব না এবং এই সুসম্পর্ক বজায় না থাকার দরুন নেতা এবং কর্মীদের মাঝে বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। আজকে যারা ইসলামের আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছে তারাই নেতা হওয়ার জন্য বা পদ পাওয়ার জন্য মারামারি কাটাকাটি করে।

আওয়ার ইসলাম: আপনাদের সংগঠন নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

জি এম রুহুল আমীন: অতীত থেকেই আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা চাই আর্দশ ও শিক্ষিত এমন একটি দল জাতিকে উপহার দিতে যারা সমাজের সব স্তর থেকে অন্যায় ও অজ্ঞতা দূর করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে।

আওয়ার ইসলাম: শিক্ষার্থীদের প্রতি অপনার কোন কথা….

জি এম রুহুল আমীন: শিক্ষার্থীদের প্রতি বলবো, আমরা আমাদের মহান প্রতিপালকের আদেশে তাঁর জমিনে তাঁর প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি। এজন্য ছাত্রাবস্থায়ই নিজেকে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। নিজেদের আমল আখলাক সুন্দর করার এটাই সময়। সেই সাথে পড়াশোনায় মনযোগী হয়ে জাতিকে যোগ্য ও খোদা ভীরু নেতৃত্বদানের লক্ষ্যে ইশা ছাত্র আন্দোলনের পতাকা তলে আসার আহবান জানাচ্ছি।

আওয়ার ইসলাম: আমাকে সময় দেয়ার জন্য আওয়ার ইসলাম টুয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

জি এম রুহুল আমীন: আপনাকেও ধন্যবাদ ।

ধন্যবাদ: আওয়ার ইসলাম