সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০১৭

ইসলামী আন্দোলনের কর্মসুচী পালন করতে দেয়নি পুলিশ: মহানগর নেতা মাওলানা ফখরুলসহ আটক ১৫

আইএবি নিউজ: গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবীতে জ্বালানী মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পেশ পূর্ব জমায়েত ও বিক্ষোভ মিছিল করতে দেয়নি পুলিশ। রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরের পূর্ব নির্ধারিত এই কর্মসুচী পালনে গতরাতে নিষেধ করে দেয় পুলিশ। কিন্তু কর্মসুচীতে আসা দলীয় নেতাকর্মীদের পুলিশ বিনা উস্কানীতে কেবলমাত্র দাড়িয়ে থাকার অপরাধে সংগঠনের ঢাকা মহানগর সহ-দফতর সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলামসহ ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করে পল্টন থানায় নিয়ে যায়। প্রতিবাদে পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, জনগণের পক্ষে কথা বলাই কি আমাদের অপরাধ? গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ করার কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে সরকার ফ্যাসিবাদের পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, দফায় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করে দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে। সরকার সিস্টেম লস বন্ধ করতে পারেনি, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ করতে পারেনি। তিতাসসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতিকে বৈধতা দিতেই জনগণকে এর খেসারত দিতে হচ্ছে। এভাবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করে যত লাভ করবে সরকার এরচেয়ে কোটি গুন বেশি সরকারকে খেসারত দিতে হবে। তিনি অবিলম্বে নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান।

সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, ইসলামী যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক কেএম আতিকুর রহমান, আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, ডা. শহিদুল ইসলাম, মুফতি মাসউদুর রহমান চাঁদপুরি, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, শ্রমিকনেতা সৈয়দ ওমর ফারুক, মাওলানা নাযীর আহমাদ শিবলী, ডা. মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, জনগণ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু সরকার নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের প্রতি নজর না করে দফায় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। অবিলম্বে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। তিনি বলেন, সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন করে জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত মুসল্লিদের নামায নষ্ট করার চক্রান্ত করছে।

দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসুচী পালন করতে না দিয়ে সরকার নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সরকার অবৈধ বলেই জনগণের পক্ষে কথা বলতে দিচ্ছে না। সরকার যদি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচীতে বাধা দেয় তাহলে কঠিন কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবো।  তিনি শিক্ষা আইন ও শিক্ষানীতি বাতিলের দাবী জানিয়ে গ্রিক মূর্তি অপসারণ দাবি করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, সরকার শান্তিপূর্ণ কর্মসুচীতে পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করছে। এভাবে গ্রেতার করে, মামলা দিয়ে জনরোষ ঠেকানো যাবে না। সর্বত্র সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি গ্রেফতারকৃত নিরীহ ও নিরাপরাধ নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, সরকার দাগী ও চোর-ডাকাতদের গ্রেফতার করতে পারে না। তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার করুন। জনগণের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করলে জনগণ নিরবে বসে থাকবে না। পীর সাহেব চরমোনাই নির্দেশ দিলে যে কোন কঠোর কর্মসুচী দিতে বাধ্য হব।