বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০১৭

হৃদয়ে রক্তক্ষরণ : ফিরে দেখা অতীত ১৫ মার্চ ২০১৬

আহমাদ আব্দুল কাইউম: বি-বাড়ীয়া জেলার সদর উপজেলায় ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থীসহ ১৪ মার্চ'১৬ সকালে নির্বাচনি প্রচারনায় বের হন। কাজ করতে করতে জোহর নামাজের সময় হয়ে যাওয়ায় বি-বাড়ীয়ার ভাদুঘরস্থ বড় হুজুরের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসায় জোহর নামাজ আদায় করেন। এরপর সামনে পড়ে যান মাদরাসার মুহতামিম সাহেব হুজুরসহ অন্যান্য উলামায়ে কেরাম। এমন সময় হাতপাখার মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগে থাকা জেলা নেতৃবৃন্দসহ ৮/৯জন দায়িত্বশীল হুজুরদের সাথে সাক্ষাত করতে সালাম দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলে মুহতামিম সাহেব হুজুর মুসাফাহ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, তোমরা উলামাদের কথা না মেনে প্রার্থী দিয়েছো, তোমাদের সাথে কোন কথা নাই। পীর সাহেব চরমোনাই'র পক্ষের দায়িত্বশীলগণ বিনম্রভাবে বলেন, হুজুর আমরা যেহেতু রাজনীতি করি, আমাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানতে হয়। তাছাড়া উলামাদের পক্ষ থেকে প্রার্থী থাকলে তো আমরা প্রার্থী দিতাম না, এখন যে প্রার্থী তিনি তো ঐক্যজোটের প্রার্থী। একথা বলতে দেরি এমন সময় মাদরাসার অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে থেকে এক শিক্ষক বলে উঠেন, তোদের পীর আমগো জুতা টানারও উপযুক্ত নয়। কথার এক পর্যায়ে আমাদের জেলা নেতৃবৃন্দের উপর হামলা করে সকলকে রক্তাক্ত করে ফেলে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে উদ্ধার করেন।

এঘটনা শুনে আমি ব্যক্তিগতভাবে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি। আমাদের দায়িত্বশীলগণ মজলুমের পরিচয় দিয়ে কোন পাল্টা কিছু করেননি কিংবা কাউকে কোন গালমন্দও করেননি। কিন্তু প্রশ্ন হলো কোন আলেম কি অপর কোন আলেমের উপর অন্যায় আক্রমন করতে পারেন? যা জানি তাতে রাসূল সা. এর দরবারে কোন কাফের আসলেও তো সম্মানে রাসূল সা. নিজের চাদর মোবারক বিছিয়ে দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেছেন এমন দৃষ্টাস্ত ইসলামের। কিন্তু কাল যা ঘটলো এটাকে কিভাবে নিব? যেই হযরতের সামনে এমন ঘটনা তিনি ঐ জেলার মুরব্বী আলেম। এমন ঘটনা শোনে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হলো। আন্দোলনের মুরব্বীদের নির্দেশ কোন প্রকার মুখ খোলা যাবে না। নিরবে সহ্য করতে বলেছেন। ধৈর্যধারনকারীদের সাথে আল্লাহ আছেন, এটাই আমাদের সান্তনা। আর ধৈর্যধারনের ফল ভাল হয়। আল্লাহ পাক যেন আমাদেরকে ধৈর্যধারন করবার মত তওফিক দান করেন, আমীন।