বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

জাতীয় যুব কনভেনশন : ইসলামী আন্দোলনের ডানা

এম শামসুদ্দোহা তালুকদার: বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের ডানায় আরেকটি টেকসই পালকের সংযোজন হলো। দেশের বৃহৎ ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ”এর যুবফ্রন্ট হিসেবে ”ইসলামী  যুব আন্দোলন” এর আত্মপ্রকাশ ঘটছে। ৩১ শেমার্চ ’১৭ইং তারিখ পবিত্র জুমাবার রাজধানীতে ‘জাতীয় যুব কনভেনশন’এর মাধ্যমে সেটির আনুষ্ঠানিক শুভসূচনা করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহতারাম আমির জনাব মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই। এ সংগঠনটির ছাত্র ফোরাম ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ইতিমধ্যে পঁচিশ বৎসর পুর্তি জাঁকজমকভাবে পালন করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অপর অঙ্গ সংগঠন “ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন’ খেটে খাওয়া জনতার পক্ষে কাজ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন রাজপথের বীর সেনানী, পীর সাহেব চরমোনাইর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জনাব অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এতদিন হয়তো সেরকম চিন্তা করেননি যে, তাঁদের অনুসারী যুব নেতা-কর্মীরা আলাদা সংগঠন গড়ুক। কিন্তু সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু মোকাবেলা, সাংগঠনিক প্রয়োজনীয়তা ও যুগের চাহিদা পূরণে ‘ইসলামী যুব-আন্দোলন’এর অনিবার্যতা দেখা দিয়েছে। সমাজে ইসলামী রাজনীতির চর্চাটা যতই এগিয়ে চলছে, ততোই একটি শ্রেণী ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সম্মানিত ওলামায়ে কেরামদের ব্যাপারে বেসামাল হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করার জন্যে এতদাঞ্চলে সুস্থসমাজ বিনির্মানে আলেম সমাজের ব্যাপক ভূমিকার কথা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। সে প্রেক্ষিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ”ইসলামী যুব আন্দোলন” গঠনের মধ্য দিয়ে। জাতীয় যুব কনভেনশনের মাধ্যমে যোগ্যতম আলেম, ত্যাগী নেতবৃন্দের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হবে।

বাংলাদেশের সমকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনটা এলোমেলো। এখানে জঙ্গীবাদের মরণ খেলা চলছে, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি তলানিতে ঠেকেছে, কোন কিছু স্বাভাবিক নিয়মে চলছে না, সরকারের কাঁধে নাস্তিক্যবাদ ও পৌত্তলিকতা ভর করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপার- এখানে ইসলামী মূল্যবোধের বিষয়টি উপেক্ষিত। আর তা হরণের আয়োজনও প্রায় চুড়ান্ত। প্রায় ৯২% মুসলমানদের দেশে ইসলাম-মুসলমান শতভাগ নিরাপদ থাকার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটি এখন নানা হুমকির আওতায়। পৌত্তলিক প্রেতাত্মারা আজ দেশের সুপ্রীমকোর্ট অঙ্গণেও হানা দিয়েছে। ভাস্কর্যের নামে ওখানে গ্রীক দেবী জ্যাস্টিসিয়াস এর লোকাল ভার্সন শাড়ী পড়া এক নারী মুক্তি স্থাপন করা হয়েছে। অবশ্যই এটা ধ্বংস বা অপসারণ করার নিয়ত আছে যুব-আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের। এ নিবন্ধ লেখার সময় জানা গেল, দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নামে হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি- ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের জন্য সরকারি নির্দেশনা জারী করা হয়েছে। এক কথায়- দেশ থেকে ইসলামী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে নির্বাসনে পাঠানোর অপচেষ্টা করছে কায়েমী গোষ্ঠী। কোন এক ফার্সি কবির বয়ানে তার প্রতিবিম্ব আমরা দেখতে পাই। “বরবাদে গুলিস্তা কে লিয়ে একহি উল্লু কাফি হ্যায়, আগার হার শাখ মে উ ব্যায়াঠি হো তো?’ আঞ্জামে গুলিস্তা কো কেয়া হোগা?” এর ভাবানুবাদ করলে যা দাঁড়ায়- একটি সুন্দর বাগান তছনছ করার জন্য একটি বানরই যথেষ্ঠ, কিন্তু বাগানের গাছে গাছে শাখায় শাখায় যদি বানর বসে থাকে সে বাগানের কি হাল হতে পারে? আসলেই ভেবে দেখুন!

হালে বাংলাদেশের অবস্থাটা হয়েছে এমনই। আপনি একটি ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন তা কিন্তু নয়, ইস্যুর পর ইস্যু হাজির। এখানে যতসব ইসলাম বিরোধী ইস্যুর চাষ হয়। কবির পংক্তি মতে এখানে বানরের সংখ্যা এত বেশি যে, বাংলাদেশ নামক মাতৃভূমিটাই আজ হুমকির সম্মুখীন। এদেশে ইসলামী তাহযীব-তমুদ্দুন বলতে অবশিষ্ট কিছু রইল না!

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আজ উপলব্ধি করছেন বাংলাদেশ নামক বাগানটায় ইসলামের পতাকা উড্ডীন করা এবং তা জারী রাখতে চাইলে অসংখ্য যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজন, বিশেষ করে যুব শ্রেণীর মাঝে সেটা ব্যাপক হারে দরকার বিধায় ইসলামী যুব আন্দোলনের অদ্যকার বাস্তবতা। বাতিলের সমুদয় চক্রান্ত রুখে দেয়ার দায়িত্ব পালন করবে ইসলামী যুব-আন্দোলন। ইসলামী যুব-আন্দোলন আগামীতে ইসলামী রাজনীতির ইতিহাসের একটি অধ্যায় অবশ্যই দখল করে নিবে, ইন্শাআল্লাহ্।

সাম্প্রতিককালে সমগ্র বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ্ বিশেষ করে বাংলাদেশের মুসলমানেরা আল্লাহ্দ্রোহী, ইহুদী-খ্রিষ্ট চক্রের নানা ষড়যন্ত্রের শিকার। এর মোকাবেলায় হাক্কানী পীর-মাশায়েখগণ এ দেশের সরল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ইমান-আকীদা সংরক্ষণ ও তাদের মাঝে হেদায়েতের আলো প্রজ্জ্বলিত রাখবার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ১৯৮৭ইং সালের ১৩ই মার্চ ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন’ নামে ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দলের গোড়াপত্তন করেন মরহুম পীর সাহেব সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম রহ.। তিনি বাতিলের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে গেছেন। সত্যিই তিনি রাজনৈতিক ময়দানে আলেমদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে গেছেন। আজ একই লক্ষ্যে ডায়নামিক নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন মুহতারাম আমীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব, চরমোনাই। সহ-নেতৃত্বে আছেন ‘যুগের রাহ্বার’ খ্যাত সিনিয়র নায়েবে আমির জনাব সৈয়দ মুহাম্মাদ ফায়েজুল কারীম। তাঁদের সুযোগ্য নেতৃত্বের ফলে আজ ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে যারা তামাশা করছে তারাও সমীহ করতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁরা রাজপথে ইসলামী ও গণমুখী আন্দোলনের মাধ্যমে গাফেল সরকারকে বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন- ওহে! নাস্তিকবান্ধব শক্তি, তোমাদের ইসলাম নিয়ে মশকরা করার দিন শেষ হতে চলছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, কুরআন সুন্নাহ থেকে দূরে সরে থাকার কারণেই মুসলমানেরা সবচেয়ে লাঞ্চনা- বঞ্চনার শিকার। এ হারানো গৌরব ফিরে পেতে হলে পবিত্র কুরআন সুন্নাহর উপর আমল বাড়াতে হবে, সকলকে ইসলামের সুমহান আদর্শের পতাকাতলে ফিরে আসতে হবে। মরহুম পীর সাহেব হুজুর রহ. দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, নীতি ও আদর্শের সাথে আপোষ করে ইসলামকে বিজয়ী করা যাবে না। তাই তিনি নেতৃত্ব পরিবর্তনের চেয়েও নীতির পরিবর্তনের আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন। তিনি সরাসরি জিহাদী অনুপ্রেরণা নিয়ে সারা দেশ ঘুরে বেড়িয়ে আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ‘নেতা নয় নীতির পরিবর্তন চাই’ এটিকে জনপ্রিয় শ্লোগানে পরিণত করেছেন ।

নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে আপোষহীন থেকে আদর্শ রাজনীতি প্রবর্তন ও গুণগত মান পরিবর্তনে ইসলামী যুব-আন্দোলনের নব গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ আগামীতে রাজপথে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করি। ইসলামী যুব-আন্দোলনের আহ্বায়ক কমিটির দু’কান্ডারী তৃণমূল থেকে উঠে আসা। উভয়েরই রয়েছে রাজপথের অভিজ্ঞতা এবং তাঁরা সাংগঠনিক প্রজ্ঞায় সমৃদ্ধ। আহ্বায়ক জনাব কে.এম আতিকুর রহমান, সদস্য সচিব মুহাম্মদ নেসারউদ্দিন উভয়েই ইশা ছাত্র আন্দোলনের যথাক্রমে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ আলেম ও ত্যাগী নেতাকর্মীর সম্মিলন ঘটতে যাচ্ছে এ মিশনে। তাদের ঈমানী চেতনা অত্যন্ত ধারালো বটে, এর ঝলক দেখা যাবে বাতিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে, উত্তপ্ত রাজপথে আর চরমোনাই মাহফিলের ময়দানে।

দেশের সর্বশ্রেণী ও পেশার মানুষদেরকে ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হলে তাদেরকে আদর্শ ও নৈতিকতার ছবি দেখাতে হবে। তাঁদেরকে ব্যক্তি জীবনে সুন্নতের হুবহু পাবন্দি ও আচার-আচরণে অত্যন্ত সরলতা বজায় রাখতে হবে। তাদের কথা-বার্তায় যথেষ্ঠ নমনীয়তার ছাপ থাকবে। মনে রাখতে হবে, সদ্যজাত এ সংগঠনটির নেপথ্য মূলে রয়েছে, আধ্যাত্মিক প্রেরণা আর লা-ই লাহা ইল্লাল্লাহর শক্তিমান দর্শন। আমরা জানি, একটি ভালো বা পবিত্র কথা একটি ভালো বৃক্ষের মত, যা পবিত্র কুরআনের বাণী। এরশাদ হচ্ছে- ‘একটি ভালো কথা তথা পবিত্র বাক্য পবিত্র বৃক্ষের মত, তার শিকর মজবুত এবং শাখা আকাশের দিকে উত্থিত, সে পালনকর্তার নির্দেশে অহরহ ফল দান করে।’ (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২৪-২৫)।

নেতৃত্ব পর্যায়ে যেসব বাক্যে পবিত্রতা ও সত্যকথন থাকেএমন কথাবার্তার রেওয়াজ থাকলে তৃণমূলেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ব্যবহারিক আচরণে সন্তুষ্ট থাকবে সাধারণ মানুষ। যার ফলাফল হবে নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। অনুরূপভাবে মন্দ বা নোংরা কথা যাতে অসত্যের মিশেল মূলত: তাতে ধোঁকাবাজির উপকরণ থাকে। এদেশের জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি করা সাধারণ রাজনীতিবিদদের পুরোনো অভ্যাস। তাদের থেকে যুব-আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা এড়িয়ে চলবেন। রাজনীতিতে ধোঁকাবাজি বিলুপ্ত করতে চাইলে গণমানুষের সাথে অমূলক কথা, মিথ্যা আশ্বাস বা ভিত্তিহীন প্রতিশ্রুতি দেয়া যাবে না। এটা যে কত বড় মারাত্মক ব্যাপার তা এআয়াতের মাধ্যমেই আন্দাজ করা যায়। এরশাদ হচ্ছে- ‘এবং নোংরা বাক্যের উদাহরণ হল- নোংরা বৃক্ষের ন্যায়, যাকে ভূমি থেকে উপড়ে ফেলা হয়, যার কোন স্থায়িত্ব নেই।’ (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত-২৬)।আর এ প্রসঙ্গে প্রিয় নবীর অসংখ্য সতর্কবার্তা রয়েছে, তিনি (স:) বলেছেন- ‘ভাষার ফসলই  মানুষকে জাহান্নামে উপুড় করে নিক্ষেপ করবে’ (তিরমিযি)। তিনি (স.) আরো বলেছেন-“প্রকৃত মুসলিম সে, যার মুখ (ভাষা) ও হাত (কর্ম) থেকে মুসলমানেরা নিরাপদ থাকে” (সহীহ বুখারী)।

প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স:) এর পবিত্র চরিত্র মাধুরী ও উত্তম নীতিবোধ ছিল- সেকালের সকল শ্রেণির মানুষের নিকট অতি আকর্ষনীয়। স্বয়ং আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর পূর্ববর্তী নবী রাসুলদেরকেও দাওয়াত দানের ক্ষেত্রে সুবচন ও সুন্দর আচরণের ব্যাপারে গুরুত্ব দিতেন।হযরত মুসা আ. ও তদীয় ভ্রাতা হারুন আ. কে ফেরাউনের নিকট দাওয়াত প্রদানের সময় কেমন আচরণ করতে হবে, সে ব্যাপরেও দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এরশাদ হচ্ছে- “তোমরা যাও ফেরাউনের কাছে, সে বিদ্রোহী হয়ে গেছে। তার সাথে কোমলতার সাথে কথা বলবে যাতে করে সে উপদেশ গ্রহণ করে, কিংবা ভীত হয়ে যায়”(সূরা ২০, আয়াত: ৪৩-৪৪)।

ইসলামী আন্দোলনের নিয়ম-নীতি ও কর্ম পদ্ধতি প্রণীত আছে বটে, সেটার অনুসরণসহ নিজস্ব আচরণবিধি পালনের মধ্য দিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রমে সফলতা আসবে নিঃসন্দেহে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের যুব-সংগঠনগুলো বর্তমানে তস্করে পরিণত হয়েছে। এ অপ্রিয় সত্যটা দেমাগে রেখে যেন ইসলামী যুব আন্দোলনের সাংগঠনিক তৎপরতা পরিচালিত হয়। চলনে-বলনে আর চরিত্রে যুব আন্দোলনের নেতাকর্মীরা তাকওয়ার লেবাসে আকীর্ন থাকবে এটা কিন্তু সবাই প্রত্যাশা করে। এদেশের সবাই জানে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, উন্নত আচার-আচরণ ও সুবচনের মাধ্যমেই দেশ-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। চরমোনাই তরিকার কোটি কোটি অনুসারীদের নিকট পীর সাহেব চরমোনাই ‘আইডল’ হিসেবে অভিষিক্ত। তাঁরা ঠিকই পয়গম্বরদের উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন এবং নিরলস মেহনতের সাথে তাঁরা দাওয়াত, তাবলীগ ও জেহাদের খেদমত চালিয়ে যাচ্ছেন, একমাত্র এদেশে তাগলিবে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য।

ইসলামী যুব আন্দোলন এর নেতা-কর্মীদেরকে মূল নেতৃত্বের যোগ্য শীষ্য হতে হবে। ফলে সাধারণ মানুষকে ডাকিবা মাত্র তারা সাড়া দিবে। আর রাজপথ ভরে উঠবে বিভিন্ন ইস্যুতে আর নির্বাচনের ঋতুতে। আপামর জনতাও হাতপাখার অনুকূলে প্রচারণায় নামবেন। অত:পর তাদের ভোটের মাধ্যমে বাক্সটা স্ফীত হবে, ইনশাআল্লাহ্। আল্লাহর জমীনে ইসলামকে গালিব করাতে হলে ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে হতে হবে ‘উসওয়াতুন হাসানার’ যোগ্য উত্তরসূরী এবং মাওলা পাকের কুদরতি রঙ-এ নিজেদেরকে রাঙাতে হবে। ওগো রাব্বে কারিম! ইসলামী যুব আন্দোলনকে আপনি কবুল করে নিন।

 

লেখক: ফ্রিল্যান্স কলামিস্ট ও ইসলামী গবেষক