রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

জঙ্গী দমনে প্রশাসন ও মিডিয়ার তেলেসমাতি



আশকোনাতে "জঙ্গি দমন" অভিযান এতো গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যেক পত্রিকায় ও টিভি মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে যে, মনে হতে পারে এই জঙ্গীরা আজকালকেই হয়তো দেশ দখল করে ফেলতো! তাদের হত্যা করে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে।

 

এবং মিডিয়া ও সরকারের কর্তাব্যক্তিদের উচ্ছাস দেখলে মনে হবে, এই অভিযান আমাদের মহাগৌরবের কাজ।

 

কিন্তু বাস্তবতা কি?

 

এরা আক্ষরিক অর্থেই এদেশের মুলধারা বহির্ভুত একদল উম্মাদ। যাদের শক্তি-সামর্থ ও জন সমর্থন একেবারেও নাই বললেই চলে।

 

আচ্ছা, ধরে নিলাম যে, এরা সত্যিকারেই শক্তিশালী হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। সেক্ষেত্রেও এদের নিয়ে এতো মিডিয়া হুলুস্থুল দেয়ার কি?

 

আমার ক্যান্সার হয়েছে, আমার মরনব্যাধী এইডস হয়েছে এটা কি ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জানানোর বিষয়?

 

এখন সারা বিশ্বের মানুষ ভাববে যে, বাংলাদেশে জঙ্গীরা গিজগিজ করে। এদেশের নারীরাও আত্মঘাতি হয়, এদেশের প্রধান বিমানবন্দরের আশেপাশে জঙ্গীরা ওৎপেতে থাকে!!

 

দেশের নেতিবাচক ভাবমুর্তি তৈরী হচ্ছে এই হুলুস্থুল দেয়ার মাধ্যমে। মাথামোটা উগ্রবাদীরা এটাই চাইছে। যারা দেশপ্রেমে গদগদ হয়ে এই যৎসামান্য কান্ডে মহাহুল্লোড় করছেন তারা আদতে উগ্রবাদীদের উদ্দেশ্য পুরণেই সহায়তা করছেন।

 

এইডস এর চিকিৎসা গোপনে হওয়াই ভালো। হ্যাঁ, আপনি যদি এইডসকে দেখিয়ে পশ্চিমাদের ভিক্ষা মাগতে চান যেমনটা আমরা রাস্তাঘাটে দেখি যে, হাতে-পায়ে বিভৎস ক্ষত দেখিয়ে একদল ভিক্ষা করে, সরকারও যদি এই উগ্রবাদ দেখিয়ে পশ্চিমা ভিক্ষা চায় তাহলে এটাকে নিয়ে আরো হুলুস্থুল দিন।

 

আর দেশের ভালো চাইলে সংগোপনেই অপারেশন করুন।