শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা বন্ধে বিশ্বব্যাপী মুসলামনদেরকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে : অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ

 ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, গত ১৮ ডিসেম্বর মিয়ানমার অভিমুখে লংমার্চে বাধা দিয়ে সরকার মজলুম মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই লংমার্চের মাধ্যমে পীর সাহেব চরমোনাই বিশ্বকে একটি ম্যাসেজ দিতে চেয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমান মিয়ানমারের গণহত্যা বন্ধ করতে মিয়ানমার অভিমুখে যেতে চেয়েছিলো। তিনি বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে জাতিসংঘ, ওআইসি ও বাংলাদেশ সরকারকে মুসলমানদের পক্ষে কথা বলতে ব্যর্থ হলে মুসলমানরা আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না।

আজ শুক্রবার বাদ জুম’আ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব চত্ত্বরে ১৮ ডিসেম্বর মিয়ানমার অভিমুখে লংমার্চে সরকারের বাধা দেয়ার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আয়োজিত বিশাল বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, ঢাকা উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ,সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাও.আতাউর রহমান আরেফী, উত্তর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ সেক্রেটারী মাও. এবিএম জাকারিয়া, অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা, শ্রমিকনেতা হারুনুর রশিদ,এইচ এম ছিদ্দিকুর রহমান, মাও. এইচ এম সাইফুল ইসলাম, মাও. মাসউদুর রহমান, ঈমান উদ্দিন, ছাত্রনেতা সাইফ মুহাম্মদ সালমান প্রমুখ।

 

মাওলানা ইউনুছ আহমাদ লংমার্চে বাধানদান সম্পর্কে প্রশাসনের বক্তব্যের জবাবে বলেন, পীর সাহেব চরমোনাই’র হাতে কোন অস্ত্র নাই তারপরও তিনি কোটি কোটি জনতাকে হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করেন কোন শক্তিতে? আপনাদের হাতে কোটি কোটি অস্ত্র থাকার পরও কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না? যে শক্তি অর্জন করলে হাতের ইশারায় মানুষ নিয়ন্ত্রতিত হয় সেই আল্লাহ প্রদত্ত শক্তির কাছে মাথানত করলে দুনিয়ার কোন শক্তিকে পরওয়া করতে হয় না।

অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেন, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী-পুলিশ ও রাখাইন বৌদ্ধদের দ্বারা বর্বরোচিত রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা, ধর্ষণ, বাড়ী-ঘরে অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন বন্ধ করতে সরকারকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। সরকার একটি মানবিক কর্মসুচীতে বাধা দিয়ে অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের সকল প্রকার নাগরিক ও মানবিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে তাদেরকে পুনর্বাসন করতে হবে। মজলুম মানুষের পক্ষের কর্মসুচীকে বাধাগ্রস্ত করা মজলুমের বিরুদ্ধে অবস্থানের শামিল।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শান্তিবাহিনী প্রেরণ করতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী সকল রোহিঙ্গাকে তাদের স্বদেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে মানবিক সকল অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। নির্যাতিত মুসলমানদেরকে বাংলাদেশে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা ও ধর্ষণের বিচার এবং মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যে মানবিক বিপর্যয় রোধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানান। পরে একটি বিশাল মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে প্রেসক্লাব কদম ফোয়ারা ঘুরে পল্টন মোড়ে পৌছলে পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করে।