বুধবার, ১১ জানুয়ারী, ২০১৭

এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামী আন্দোলন

 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দেশের ইসলামী দলগুলো। এ প্রক্রিয়ায় সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল বিএনপি জোটে থাকা ইসলামী দলগুলোর পাশাপাশি জোটের বাইরের দলগুলোও রয়েছে। সংবিধান অনুসারে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কিছু ইসলামী দলের মতভেদ থাকলেও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই কেউ।

ইসলামী দলগুলোর শীর্ষপর্যায়ে কথা বলে  জানা যায়, নির্বাচন যখনই হোক তা মাথায় রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় ও ব্যক্তিগত নানা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে তত্পরতা চালাচ্ছেন। কোনো কোনো দল বর্তমান বা নতুন কোনো জোট হলে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে নানা হিসাব কষছেন। জানা যায়, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটে পাঁচটি এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটে আছে একটি দল। ২০-দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো হলো—জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ) ও ইসলামিক পার্টি (একাংশ)। আর ১৪-দলীয় জোটে আছে তরিকত ফেডারেশন। জোটভুক্ত দলগুলোর জোটগতভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বেশি। তবে জোটে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে এসব দল নিজস্ব কৌশলে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। জোটের বাইরে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত বেশকিছু ইসলামী দল রয়েছে। সে দলগুলোও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ দলগুলোর মধ্যে মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ), ইসলামিক ফ্রন্ট, জাকের পার্টি ইত্যাদি। এসব দল এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। আবার সুযোগ-সুবিধা পেলে তাদের কোনো জোটে যোগ দেওয়া বা নতুন কোনো জোট সৃষ্টির মাধ্যমে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথাও শোনা যাচ্ছে।

জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র হবেন : বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলীয়ভাবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে স্বতন্ত্রভাবে সব আসন থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি রয়েছে দলটির। জোটগতভাবে আসন ভাগাভাগি হওয়ার পরই মূলত চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেবে দলটি। জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলের নিয়মিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মতো সাংগঠনিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন। এ জন্য স্থানীয় ও জাতীয় সব নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়মিত কাজ করে দলটি। এরই অংশ হিসেবে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী এলাকায় নীরব তত্পরতা চালানো হচ্ছে। জানতে চাইলে জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে আমাদের দেশে কখনো কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। একই কারণে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ দেশের কোনো বিরোধী দল অংশ নেয়নি। ভোটকেন্দ্রে মানুষের পরিবর্তে গরু, ছাগল ও কুকুরের বিচরণ পরিলক্ষিত হয়েছে এবং সারা দুনিয়ার কোথাও এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আশা করব, বাংলাদেশের প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারও একদলীয় নির্বাচনের কোনো উদ্যোগ নেবে না। আমরা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলনে আছি এবং এটা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনের জন্য জামায়াতকে আলাদা কোনো প্রস্তুতি নিতে হয় না। জামায়াত এটাকে একটা চলমান পদ্ধতি হিসেবেই গণ্য করে থাকে।

ইসলামী আন্দোলন : জোটের বাইরে অন্যতম বড় ইসলামী দল চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ব্যাপারে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আহমদ আবদুল কাইয়ুম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সব আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার মানসিকতা রয়েছে তাদের। তবে তাদের নীতি-আদর্শের সঙ্গে মিল হলে জোটভুক্ত হওয়ারও সম্ভাবনা আছে। সরকার সমর্থক ১৪-দলীয় জোটে থাকা একমাত্র ইসলামী সংগঠন তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল বলেন, আমরা সারা দেশে সংগঠনকে শক্তিশালী করছি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার হাত আরও শক্তিশালী করতে ১৪-দলীয় জোটকেও গুরুত্ব দিচ্ছি। আগামীতে জোটবদ্ধ হয়েই নির্বাচনে অংশ নেব। তিনি বলেন, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য মাঠে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। এরই মধ্যে আমাদের দায়ের করা মামলায় জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে।

২০-দলীয় জোটভুক্তারা : ২০-দলীয় জোটভুক্ত ইসলামী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আবদুল জলিল জানান, প্রায় ৪০টি আসনে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী আছে। নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও সংশ্লিষ্ট এলাকায়

 

তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলের নির্বাচন-বিষয়ক একটি কমিটিও আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ওয়ালিউল্লাহ আরমান বলেন, নির্বাচন নিয়ে দলে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা-প্রস্তুতি শুরু না হলেও সম্ভাব্য ২০ আসনে কাজ চালাচ্ছেন নেতারা। তবে জোটগতভাবে ৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা একক নির্বাচনের লক্ষ্যে সংগঠনকে শক্তিশালী করছি। এ জন্য দলে একটি রাজনৈতিক সেল হয়েছে। নির্বাচনসহ রাজনৈতিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করছে এ সেল। পাশাপাশি জোটবদ্ধ হব কিনা এ বিষয়ে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব আছে। তবে এখনই বলা যাচ্ছে না, বর্তমান জোটে থাকব নাকি নতুন কোনো জোটের সৃষ্টি করব। বিএনপি জোট থেকে বের হয়ে আসা ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামীতে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে বলে আশা করছে দলটি। এ বিষয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ জানান, কেন্দ্রীয় সার্চ কমিটি গঠন করে নির্বাচনে আগ্রহীদের জীববৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগ্রহী অনেককে সাংগঠনিক তত্পরতা বাড়ানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে খেলাফত আন্দোলনের। এ বিষয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, ৫০ থেকে ৬০টি আসনে আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থী আছেন। তারা ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেলেই কাজ শুরু করবেন।

সূত্র: বিডি প্রতিদিন