মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৭

বদ আমলের শাস্তি জাহান্নাম, জান্নাতে নিতে কোনো পীরেরও ক্ষমতা নেই : মুফতী ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (পীরে কামেল চরমোনাই) বলেছেন, কারো বদ আমলকে নেক আমলে পরিণত করার ক্ষমতা পীরের নেই। পীর অর্থ গুরু, দীনের শিক্ষক। মানুষকে ভালো-মন্দ বিষয়ে সর্তক করাই তার কাজ। বদ আমলের শাস্তি জাহান্নাম, জান্নাতে নিতে কোনো পীরেরও ক্ষমতা নেই। ‘মারিফত অর্থ চেনা ও পরিচয়। কোনো জিনিসের পরিচয় বুঝে আসলেই তার গুরুত্ব বুঝে আসে। শিশু আগুন বা পানি কি তা বুঝে না, কাজেই আগুন বা পানির ভয়-ভীতি তার মধ্যে নেই। অনুরূপভাবে আল্লাহকে চেনা-জানা এবং পরিচয় জ্ঞাত হওয়ার নামই হচ্ছে মারিফত। এ মারিফতের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাঁর হুকুম-আহকাম, বিধিবিধান এবং আদেশ-নিষেধ পালন করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘মারিফত ও শরীয়ত এক ও অভিন্ন; আলাদা কিছু নয়। রূহ ছাড়া যেমন শুধু দেহ মানুষ নয় এবং দেহ ছাড়া কেবল রুহ মানুষ হতে পারে না, তেমনি মারিফত ও শরীয়ত একটা ছাড়া অন্যটি দিয়ে কাল কিয়ামতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘নামায পড়া আল্লাহর বিধান, এটি শরীয়তের বিধান। কিন্তু যদি এই নামায লোক দেখানোর জন্য কেউ পড়ে সেই নামায আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। নামায আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য অন্তরের গোপন অভিপ্রায়কে শুদ্ধ করতে হবে। আর এটারই মান হচ্ছে মারিফত।’ পবিত্র কুরআন-সুন্নাহের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ এবং শরীয়তের বিধিবিধান ও আদেশ-নিষেধের পাবন্দি ছাড়া মারিফতচর্চাকে ষোলা আনা ভন্ডামি আখ্যা দিয়ে পীরে কামেল চরমোনাই বলেন, ‘কুরআন-সুন্নাহর নীতি ও শরীয়তের বিধি-বিধানকে স্পষ্ট লঙ্ঘন করে যারা মারিফত ও সুফিবাদের নামে গান-বাজনা, নারী-পুরুষের অবাধ নর্দন-কুর্দন এবং বিভিন্ন কুসংস্কর ও শিরক-বিদআতে লিপ্ত রয়েছে তারা পীর-অলি বহু দূরে, তারা আস্ত ভন্ডের দল।

পীরে কামেল চরমোনাই আজ মঙ্গলবার বাদ মাগরিব সিলেট সদর উপজেলার বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি শাহপরাণ থানা শাখা আয়োজিত বটেশ্বর বাজার পিউলী সুপার মার্কেটের সামনে বিশাল এক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শাহ পরাণ থানা সভাপতি মাওলানা হাফিজ শরীফ আহমদের সভাপতিত্বে ওয়াজ মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কাজির বাজার মাদরাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা আহমদ আলী। আমন্ত্রিত উলামায়ে কেরামদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুজাহিদ কমিটি সিলেট বিভাগের ইমাম কাম অডিটর মাওলানা রেজওয়ানুল হক রাজু চৌধুরী, বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের প্রশিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, ছিরামপুর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সাঈদ আহমদ, ইসলাহুল হাতুরা মাদরাসার মুহতামিম ক্বারী মিজানুর রহমান, মোকামেরগুল জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফিজ মাওলানা কাওছার আলম খান।