বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা; মূর্তি অপসারণ না করলে সর্বত্র আন্দোলন: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

আইএবি নিউজ: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, ন্যায় বিচারের প্রতীক মাটি বা ধাতবের তৈরি মূর্তি হতে পারে না। কারণ মূর্তির বাক শক্তি ও বোধ শক্তি নেই। সৃষ্টিকর্তা ও তার নাযিল করা কুরআন হচ্ছে ন্যায় বিচারের প্রতীক। আল্লাহ ন্যায় বিচারের সকল পদ্ধতি পবিত্র কুরআনে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর আল্লাহর রাসূল সা. তা পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করেছেন। এজন্যই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায় বিচারকরূপে প্রতিষ্ঠিত।

তিনি বলেন, সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রীক দেবি থেমিসের মূর্তি স্থাপন করে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান জনগোষ্ঠীর অন্তরে চরমভাবে আঘাত করেছে। মূর্তি নির্মাণ, সংরক্ষণ ও সম্মান করা হারাম। রাসূল সা. বলেছেন, আমি আবির্ভূত হয়েছি মূর্তি ও বাদ্যযন্ত্র ধ্বংসের জন্য। কাজেই সর্বোচ্চ বিচারালয়ে গ্রীক দেবির মূর্তি স্থাপনের ফলে দেশের বৃহত্তর ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। ফলে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গিণ থেকে গ্রীক দেবির মূর্তি অপসারণের দাবিতে প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ পূর্ব জমায়েতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

জমায়েতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, ছাত্রনেতা জিএম রুহুল আমীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, দক্ষিণ সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, মাওলানা শেখ নূরউন নাবী, প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন পরশ, মাওলানা নাযীর আহমদ শিবলী, নকীভ বিন হুসাইন, আলহাজ্ব ফরিদ দেওয়ান, ছাত্রনেতা সাইফ মুহাম্মদ সালমান, কেএম শরীফুল ইসলাম, এহতেশামুল হক পাঠান প্রমুখ।

মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে যেখানে গ্রীক দেবির মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছে এর পাশেই রয়েছে জাতীয় ঈদগাহ। এর পাশেই বসানো হয়েছে মূর্তি। সালাম ফিরালেই তা দেখা যায়। একটি বিজাতীয় দেবি মূর্তিকে পাশে রেখে মুসলিম জনতা পবিত্র ঈদের প্রধান জামায়াতে নামাজ আদায় করবে-তা কল্পনাও করা যায় না। জাতীয় ঈদগাহ’র পাশে মূর্তি স্থাপন করায় দেশব্যাপী মুসলিম জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। সর্বোচ্চ আদালতের অভিভাবক হিসেবে প্রধান বিচারপতি কিছুতেই এর দায় এড়াতে পারেন না। তারা অনতিবিলম্বে মূর্তি অপসারণ দাবি করে বলেন, অন্যথায় দেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে হঠাৎ করে কেন গ্রীক দেবির মূর্তি স্থাপনের প্রয়োজন দেখা দিল, তা দেশবাসীর বোধগম্য নয়। সর্বোচ্চ আদালত থেকে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্যে কি আদালত প্রাঙ্গণে দেবি মূর্তি স্থাপন খুবই জরুরী? তাহলে বিগত দিনে মূর্তি বিহীন আদালত থেকে কি মানুষ ন্যায় বিচার পায়নি? দেবি মূর্তির প্রতি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে আপনার বা অন্য কারো ভক্তি বা অনুরাগ থাকতে পারে; কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট গোটা জাতির আস্থার কেন্দ্রস্থল। এখানে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে গিয়ে জাতির বৃহত্তর অংশের চেতনা ও অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার এখতিয়ার কারো নেই।

মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূর্তি অপসারণ না করলে মার্চ থেকে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, আপনি দেশের মুরব্বী বা অভিভাবক হিসেবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন। ৯২ ভাগ মুসলমানের সেন্টিমেন্টকে সম্মান করে মূর্তি আপসারণ করুন। অন্যথায় প্রধান বিচারপতির অপসারণে আন্দোলন গড়ে উঠবে।



জমায়েতশেষে বেলা ১১.৩০ মিনিটে একটি বিশাল মিছিল প্রধান বিচারপতির নিকট রওয়ানা দিয়ে পল্টন মোড় পৌঁছলে পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করে দেয়। মিছিল ঠেকাতে জলকামান, রায়ট কারসহ রণসজ্জিত ছিল পল্টন এলাকা। এসময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সেখান থেকে একটি ৫সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান বিচারপতির বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন। সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, ছাত্রনেতা জিএম রুহুল আমীন প্রমুখ। প্রধান বিচারপতির পক্ষে আতিকুস সামাদ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে মূর্তি অপসারণ না করলে মার্চ থেকে দেশময় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।