বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

আমি চরমোনাই যেতে চাই

মুফতী সালাহুদ্দীন মাসউদ: আমার এক ওস্তাদ বলতেন, চরমোনাই পীর চোখে পানি দিয়ে কাঁন্দে। নাকের পানি দিয়ে চোখ মুখ মুছে কাঁন্দার ভান করে।

ওস্তাদের কথার গুরুত্ব থাকাটাই স্বাভাবিক। নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতাম। তখন মরহুম পীর সাহেব হুজুর জীবিত ছিলেন। বগুড়ার আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে হুজুর আসবেন শুনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

সত্যি কথা বলতে, নাকের পানি দিয়ে চোখ-মুখ মোছার সেই নাটক দেখতেই গিয়েছিলাম। বাকিটা ইতিহাস।

হুজুরের বয়ান শুনে নিজেকে স্থীর রাখতে পারিনি। হাজারো মানুষের মতো আমিও হাউমাউ করে কেঁদেছি। আল্লাহর আযাবের ভয়, হাশরের ময়দানের ভয়াবহতা সম্পর্কে অনেক পড়েছি, শুনেছি। কোনোদিন ভেতরে এমন তুফান অনুভব করিনি।

তিনি নাকের পানি দিয়ে কাঁদেন আর মুখের থুথু দিয়ে চোখ ভিজিয়ে কাঁদার নাটক করুন আর যাই করুন, সেটা আমার দেখার বিষয় নয়; তাঁর বয়ান শুনে আল্লাহর ভয়ে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছে, এখনও ওঠে; তাই আমি বারবার ছুটে যাই চরমোনাই। পীর সাহেবরা যেখানে আসেন, ছুটে যাই। আমি জানি, আমার কবরে আমাকে যেতে হবে। আমার হিসেব আমাকেই দিতে হবে। চোখের পানি ঝরানো ছাড়া আল্লাহর দরবারে মুক্তি নেই।

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে চোখের পানির বিকল্প নেই।আমি আল্লাহর ভয়ে কাঁদতে চাই। আমি গোনাহগার বান্দা। আমি একাকী ঘরে দুআ করতে গেলে এক ফোটা চোখের পানি ফেলতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠি। চরমোনাই ময়দানে তিন দিন অবস্থান করে যে পরিমান চোখের পানি উৎসর্গ করতে পারি, সারা বছরে সেই তুলনায় তিল পরিমানও চোখের পানি ফেলতে পারি না।

তাই আমি চরমোনাই যাই। এ বিষয়ে আমি আর কোনো ওস্তাদের কথা শুনবো না। আমি  আল্লাহর ভয়ে কাঁদতে চাই। আমি চরমোনাই যেতে চাই।

 

তরুণ লেখক ও সম্পাদক ও শিক্ষক