শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৭

মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে ভারতকে খুশি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না: পীর সাহেব চরমোনাই

খুলনা সংবাদদাতা : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাঃ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, শতকরা ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। অথচ বিধর্মীদের দেশ আমেরিকার আদালতের সামনে লেখা রয়েছে সর্বকালের সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ আইন প্রনেতা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের সামনে মূর্তি স্থাপন করে দেশপ্রেমিক ইমানদার জনতার হৃদয়ে আঘাত দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এই মূর্তি অপসরণ করা না হলে গোটা দেশে তীব্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে। চরমোনাই পীর বলেন আ’লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছিল ক্ষমতায় গেলে ইসলাম বিরোধী কোন কাজ করবে না। অথচ বারবার তাদের ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে আমাদেরকে রাজপথে নামতে হয়, এটা দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী নিজেকে মুসলমান বলে পরিচয় দেয়, কিন্তু মূর্তি নির্মাণ মুসলমানের কাজ নয়। গতকাল বিকেলে নগরীর বাবরী চত্বরে ইসলামী আন্দোলনের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে গ্রীক দেবীর মূর্তি অপসারণ, রেলওয়ে দক্ষিণ অঞ্চল সদর দপ্তর ও বিভাগীয় সদর দপ্তর খুলনায় স্থাপন, পাইপ লাইনে খুলনায় গ্যাস সরবরাহ, গ্যাসের মূল্য কমানোর দাবিতে গুম হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতির প্রতিবাদে ও ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষে এ জনসভার আয়োজন।

ইসলামী আন্দোলন খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ও জনসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মাওঃ আব্দুল্লাহ ইমরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দলটির নায়েবে আমীর হাফেজ মাওঃ অধ্যক্ষ আব্দুল আওয়াল, যুগ্ম-মহাসচিব মাওঃ গাজী আতাউর রহমান, খুলনা নগর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওঃ মুজ্জাম্মিল হক কাসেমী। সভা পরিচালনা করেন নগর সহ সভাপতি শেখ মুহাঃ নাসির উদ্দিন, জেলা সেক্রেটারী শেখ হাসান ওবায়দুল করীম ও মাওঃ ইমরান হুসাইন।

চরমোনাই পীর বলেন, সরকার ভারতকে খুশি করতে মূর্তি রক্ষায় ব্যস্ত। মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে ভারতকে খুশি করে মুসলমান দেশের ক্ষমতায় থাকা যায় না। মূর্তি বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে, মূর্তি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত মুসলমানরা ঘরে ফিরে যাবে না। প্রয়োজনে জীবন ও রক্ত দিয়ে হলেও মূর্তি অপসরণ করা হবে। তিনি আগামী ২১ এপ্রিল ঢাকায় জাতীয় মহাসমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান।

নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল আওয়াল বলেন দক্ষিণ অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান খুলনা। খুলনা শিল্প ও বন্দর নগরী এখানে সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় অফিস রয়েছে। ইতোমধ্যে ৯০ কোটি টাকা দিয়ে খুলনা রেলস্টেশনের আধুনিকায়ন ও বেনাপোল রেল স্টেশনের উন্নয়ন কাজ চলছে। খুলনা রেলস্টেশনের পাশে সড়ক ও নদী পথ থাকায় বিভাগীয় সদর খুলনার গুরুত্ব অনেক বেশি। অথচ রেলওয়ে দক্ষিণ অঞ্চলের সদর দপ্তর খুলনার পরিবর্তে ফরিদপুর এবং বিভাগীয় রাজবাড়ী করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। যা খুলনাবাসীর জন্য অপ্রত্যাশিত। তিনি বলেন, খুলনাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। একই সাথে খুলনাকে অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের কোন সুযোগ দেওয়া হবে না।

জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা মাওঃ গাজী নূর আহম্মদ, মোঃ মুসা লস্কর, মাওঃ মুজ্জাফ্ফর হোসাইন,  মাওঃ আবু সাঈদ, শেখ নাসির উদ্দিন, মুফতী আমানল্লাহ, মাওঃ ইমরান হুসাইন, মাওঃ ফয়সাল মাহমুদ, জি,এম সজিব মোল্লা, ইঞ্জিনিয়ার এজাজ মানসুর হোসেন, মোঃ আবু গালীব, মুহাঃ আবুল কালাম আজাদ, মুহাঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, আব্দল্লাহ আল মামুন, মুহাঃ আব্দুর রশিদ, মাওঃ আব্দুল জব্বার, মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, মাওঃ আব্বাস আমিন, মোঃ মাসুম বিল্লাহ, মাওঃ আব্দুস সাত্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জি,এম কিবরিয়া, মোঃ জসিম উদ্দিন, হাফেজ মুস্তাফিজুর রহমান, মাওঃ মনিরুল ইসলাম, ডাঃ কে, এম আল আমিন এহসান, মুফতী আব্দুর রহমান, মাওঃ মুজিবর রহমান, ডাঃ মোঃ শহিদল্লাহ, মাওঃ দ্বীন ইসলাম, মুহাঃ জাহিদুল ইসলাম, আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, এড. মোঃ কামাল হোসাইন, মাওঃ সিরাজুল ইসলাম, মোঃ নুরুল হুদা সাজু, মোঃ আনিসুর রহমান, আলহাজ্ব আবু তাহের, মোঃ হযরত আলী, গাজী মিজানুর রহমান, মোঃ ওলিয়ার রহমান, মাওঃ ফরিদ আহম্মদ, মাওঃ জাহিদুর রহমান, আলহাজ্ব আব্দুর রউফ বয়াতী, শ্রমিক নেতা আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম, মোঃ আনিসুর রহমান, যুব নেতা মুহাঃ ইসমাইল হোসেন, ডাঃ নাসির উদ্দিন, শিক্ষক ফোরাম নেতা অধ্যাপক আবু নেছার সিদ্দিকী, মুফতী রবিউল ইসলাম রাফে, ছাত্রনেতা কে, এম আব্বাস আলী, মুহাঃ আমিরুল ইসলাম, এম,এ হাসিব গোলদার প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে পীর সাহেব চরমোনাই আগামী খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। মেয়র প্রার্থী হিসেবে ইসলামী আন্দোলন খুলনা নগরের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক কাসেমী এবং কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে ২নং ওয়ার্ডে মোঃ বজলুর রহমান, ৩নং ওয়ার্ডে আলহাজ্ব মোঃ লুৎফর রহমান, ৪নং ওয়ার্ডে আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর মোড়ল, ৬নং ওয়ার্ডে মুহাঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, ৭নং ওয়ার্ডে গাজী মুহাঃ মিজানুর রহমান, ৮নং ওয়ার্ডে হাফেজ শামছুল আলম, ১০নং ওয়ার্ডে মুহাঃ জামাল হোসেন, ১১নং ওয়ার্ডে মুহাঃ মতিয়ার রহমান, ১২নং ওয়ার্ড ডাঃ আজমল হোসেন, ১৫নং ওয়ার্ড বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কিবরিয়া, ১৬নং ওয়ার্ড মুহাঃ মারুফুর রহমান, ১৭নং ওয়ার্ড মুহাঃ আব্দুর রশিদ, ১৮নং ওয়ার্ড মুহাঃ গোলাম মোস্তফা জামাল, ২১নং ওয়ার্ড মুহাঃ শামিমুল আলম মান্দার, ২২নং ওয়ার্ড মুহাঃ ইলিয়াস হোসেন, ২৩নং ওয়ার্ড আলহাজ্ব আবু তাহের, ২৫নং ওয়ার্ড মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, ২৬নং ওয়ার্ড মোঃ আকবার আলী পাঠান, ২৭নং ওয়ার্ড মোঃ মুজিবুর রহমান ছোটন, ২৮নং ওয়ার্ড মোঃ ফজলুল করীম, ৩০নং ওয়ার্ড মোঃ আলমগীর হোসেন, ৩১নং ওয়ার্ড মোঃ গোলাম মোস্তফা সজীব মোল্লা এর নাম ঘোষণা করেন।