রবিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০১৭

ইসলামী রাজনীতির অজানা ইতিহাস (১৯৯১-২০০১)

১৯৯১ সালের নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে দেশের ইসলামী সংগঠন সমূহের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফরম হিসাবে ইসলামী ঐক্যজোটের আবির্ভাব ঘটে। ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোট এককভাবে নির্বাচন করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর ইসলামী ঐক্যজোট আওয়ামীলীগ সরকারের ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা অবলম্বন করে। বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ ও আন্দোলন করে। এক পর্যায়ে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবের জবাব স্বরূপ ইসলামী ঐক্যজোট ৮টি শর্ত পেশ করে বিএনপিকে জানায় যে, এসকল শর্ত বিএনপি মানলেই কেবল তাদের সাথে যুগপৎ আন্দোলন হতে পারে। শর্ত সমূহ হলঃ

১. সরকার বিরোধী আন্দোলনে জাতীয়ভিত্তিক কর্মসূচী ঘোষণার পূর্বে সকল দল ও জোটের লিয়াজোঁ কমিটির ঐকমত্যের ভিত্তিতে কর্মসূচী নির্ধারণ।

২. ধর্মদ্রোহিতা ও ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন।

৩. জাতীয় সাধারণ নির্বাচনে আন্দোলনরত দলগুলোর মাঝে যৌক্তিক শরীকানার ভিত্তিতে নির্বাচনী সমঝোতা। নাস্তিক, মুরতাদ, অপসংস্কৃতির ধারক ও বাহক বুদ্ধিজীবীদেরকে কোনোভাবে সমর্থন করা যাবে না।

৪. ইসলামী শক্তি তথা ওলামা-মাশায়েখকে স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদী, রাজাকার বলে বিষোদগার না করা।

৫. আন্দোলনরত কোন দল এককভাবে বা পারস্পরিক সমর্থনের ভিত্তিতে ক্ষমতাসীন হলে, আইন-কানুন, প্রশাসন, শিক্ষা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি ইসলামী জীবন বিধানের আলোকে গড়ে তোলা।

৬. শিখা চিরন্তন বন্ধ করা।

৭. ডঃ কুদরত-ই-খুদা শিক্ষানীতি বাতিল করা।

৮. হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বশেষ নবী ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবীরূপে অস্বীকারকারী কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং এনজিওগুলোর অপতৎপরতাসহ ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করা।

এমতাবস্থায় ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর মাসে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী ঐক্যজোট এর কয়েকটি শরীকদল ৪ দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়।

যে ৪ দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের জন্য ঐক্য গড়ে ওঠে তা হলঃ-

১. ভোটারদের আইডি কার্ড প্রদান।

২. নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন।

৩. গ্রেফতার কৃত সকল রাজবন্দীর মুক্তি।

৪. প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু হেনার পদত্যাগ।

উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালে যখন ইসলামী ঐক্যজোট গঠিত হয়, তখন এর সংবিধানে ছিল যে, ইসলামী ঐক্যজোট সকল শরীকের সাথে আলোচনা ও মজলিসে শূরার সিদ্ধান্ত ব্যতীত এককভাবে আন্দোলনের কোন পদক্ষেপ নিতে পারবে না। কিন্তু ১৯৯৮ সালে যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দেয়ার পূর্বে ঐক্যজোটের সর্ববৃহৎ শরীকদল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সাথে যোগাযোগ ও পরামর্শ এবং মজলিসে শূরার সিদ্ধান্ত ছাড়াই কয়েকটি শরীকদল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দেয়ার পর তারা ইশা আন্দোলন এবং এর আমীর হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) কে যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান করেন।

পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) কয়েকটি কারণে তাদের এ আহ্বানে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন। কারণ সমূহ হলঃ-

১. ইসলামী ঐক্যজোটের শরীকগণ জোটের নীতি আদর্শ ও মজলিসে শূরার সিদ্ধান্ত ছাড়াই ব্যক্তি বিশেষের ঘোষণায় যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে জোটের নীতি আদর্শ বিরোধী কাজ করেছেন।

২. এ যুগপৎ আন্দোলন মূলতঃ বিএনপি, নেত্রীর অধীনেই পরিচালিত হবে এবং জোটের প্রধান নেত্রী খালেদা জিয়াই থাকবেন। আর নারী নেতৃত্বের অধীনে আন্দোলন করা শরীয়াত সমর্থিত নয়।

৩. এ যুগপৎ আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী রয়েছে, যে দলের ব্যাপারে হকপন্থী ওলামা-মাশায়েখের মতামত হল এটা সহীহ্ ইসলামী দল নয়।

৪. যে চার দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের ঐক্য হয়েছে, এর কোন একটি দফাও ইসলামের পক্ষে নেই। ফলে এ ঐক্য দ্বারা ইসলামের কোন কল্যাণ বা স্বার্থ হাছিল হবে না, বরং চার দফার প্রথম দফাটিই শরীয়াত বিরোধী। কারণ, আইডি কার্ড তৈরির জন্য ছবি বা ফটো তুলতে হবে। আর মহিলা ভোটারদের ফটো বেগানা পুরুষদের দৃষ্টিগোচর হলে তা অবশ্যই শরীয়াত বিরোধী, হারাম।

এ সকল কারণে নীতি আদর্শের প্রতীক হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্য জোটের নেতৃবৃন্দ বারংবার তার সাথে যোগাযোগ করে তাঁকে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানালে তিনি ৪ দফা পেশ করে বলেন যে, একমাত্র ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার লক্ষ্যে এবং ইসলামের স্বার্থেই তিনি যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে সম্মত আছেন। ১৯৯৯ সালের ৮ জানুয়ারী হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঐক্যের তিন দফা ভিত্তি এবং আন্দোলনের ৪ দফা শর্ত পেশ করেন।

ঐক্যের তিন দফা ভিত্তি হলঃ-

১. জনগণ নয়, আল্লাহ্ই সকল ক্ষমতার উৎস,

২. ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা এবং

৩. খোদাভীরু নেতৃত্ব।

অর্থাৎ, খোদাভীরু পুরুষ নেতৃত্বের অধীনে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহ্কে সকল ক্ষমতার উৎস মেনে নিয়েই জোট গঠন করতে হবে।

আর যুগপৎ আন্দোলনের চার দফা হলঃ-

১. অনৈসলামিক ব্যর্থ সরকারের পদত্যাগ।

২. খোলাফায়ে রাশেদার নমুনায় ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা।

৩. নারী নেতৃত্বের অবসান ও আল্লাহ্ভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা।

৪. দ্বীনদার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) এর দাবী এবং দফাসমূহ যুগপৎ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের নিকট উপস্থাপন করার পর ইসলামী দলের কোন কোন নেতাও এসকল দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলন করতে অসম্মতি জানায়। শেষতক পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।

ইতোমধ্যে ইসলামী ঐক্যজোট নেতৃবৃন্দ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখের উপস্থিতিতে লালবাগ মাদ্রাসায় এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে আল্লামা আজীযুল হক সাহেব, মুফতী আমীনী ও পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল, ইসলামবিরোধী আওয়ামী লীগ সরকারের উৎখাতে বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতিতে মওদূদী জামায়াতের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারী নেতৃত্বের অধীনে যুগপৎ আন্দোলন করা শরীয়াত সম্মত কিনা? বৈঠকে সিদ্ধান্ত হল, এ ব্যাপারে তাঁরা দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতী ও ফক্বীহদের থেকে ফতোয়া চাইবেন। উক্ত বৈঠক থেকে হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ), শাইখুল হাদীছ আযীযুল হক সাহেব, মুফতী আমীনী, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সাহেব প্রমুখের দস্তখত সম্পন্ন একটি চিঠি বসুন্ধরা ইসলামী রিচার্স সেন্টারের মহাপরিচালক আল্লামা মুফতী আবদুর রহমান সাহেবের নিকট প্রেরণ করা হল। এ চিঠিতে তাকে অনুরোধ করা হয়, তিনি যেন দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতীদের থেকে একটি সম্মেলন আহ্বান করে এ ব্যাপারে ফতোয়া তলব করেন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মওদূদী জামায়াতের সাথে নারী নেতৃত্বের অধীনে যুগপৎ আন্দোলন করা বৈধ কিনা? পত্র পেয়ে মুফতী আবদুর রহমান সাহেব দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতীদেরকে ডেকে একটি সম্মেলন আহ্বান করলেন। এ সম্মেলনে মুফতী আবদুর রহমান, মুফতী মীযানুর রহমান, মুফতী মনসূরুল হকসহ দেশবরেণ্য অর্ধশতাধিক মুফতী উপস্থিত হন। এ সম্মেলনে মুফতীগণ দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে নারী নেতৃত্বের অধীনে মওদূদী জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যুগপৎ আন্দোলন করা অবৈধ বলে ফতোয়া প্রদান করেন। মুফতীদের ফতোয়া হযরত পীর সাহেব চরমোনাই মেনে নিলেও ইসলামী ঐক্যজোটের অন্যান্য শরীকরা যুগপৎ আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।

উল্লেখ্য যে, মুফতীদের ফতোয়া প্রদানের পর ২০০০ সালের প্রথম দিকে ইসলামী রেঁনেসার অগ্রদূত এশিয়া মহাদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুযুর্গ আল্লামা হযরত মাওলানা মুফতী আশেকে এলাহী বুলন্দশহরী মুহাজেরে মাদানী (রহঃ) পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে, আল্লামা হযরত মাওলানা আহাম্মদ শফী (দা:বা:)-  মহাপরিচালক হাটহাজারী মাদ্রাসা, আল্লামা মুফতী আবদুর রহমান- মহাপরিচালক, বসুন্ধরা ইসলামিক রিচার্স সেন্টার এবং আল্লামা ওবায়দুল হক সাহেব- খতীব, বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রমুখ পত্র প্রেরণ করে মওদূদী জামায়াতের সাথে নারী নেতৃত্বের অধীনে যুগপৎ আন্দোলন না করার জন্য ইসলামী ঐক্যজোট নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানান।

মওদূদী জামায়াতের সাথে নারী নেতৃত্বের অধীনে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ গ্রহণ না করায় চরমোনাইর পীর সাহেব (রহঃ) কে আল্লামা আহাম্মদ শফী, আল্লামা মুফতী আবদুর রহমান, মুফতী মনসূরুল হক, মুফতী মীযানুর রহমান, আল্লামা হারুন ইসলামাবাদী (রহঃ)- মহাপরিচালক পটিয়া মাদ্রাসা, শাইখুল হাদীছ আল্লামা নুরুল ইসলাম আদীব, আল্লামা মুহাম্মাদ তৈয়েব- মুহতামিম জিরী মাদ্রাসা, আল্লামা হযরত মুহিব্বুল্লাহ- মহাপরিচালক বাবুনগর মাদ্রাসা, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, আল্লামা এছহাক গাজী (রহঃ)- পটিয়া মাদ্রাসা, মাওলানা আমজাদ হোসাইন- পীর সাহেব কুশাবাড়ীয়া, মাওলানা আবুল বাশার- পীর সাহেব শাহতলী, মাওলানা ফজলুর রহমান- পীর সাহেব কুমিল্লা, হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ আল্লামা খালেদ, হাটহাজারী মাদ্রাসার শাইখুল হাদীছ আল্লামা আবদুল আযীয (রহঃ), হাটহাজারী মাদ্রাসার আল্লামা মুফতী আহ্মাদুল হক, আল্লামা নূরুল ইসলাম অলীপুরী, ব্রাহ্মনবাড়িয়ার বড় হুযূর আল্লামা সিরাজুল ইসলাম (রহঃ), হযরত মাওলানা মুফতী হাবীবুর রহমান- ফেনী, মাওলানা গোলাম মোস্তফা খান, মাওলানা নোমান ফয়েজী- মেখল মাদ্রাসা, মুফতী আল্লামা আবদুল গাফ্ফার সাহেব- ভারত, পাকিস্তানের আল্লামা তাকী ওছমানী, করাচীর আরেফ বিল্লাহ শাইখ হাকীম আখতার সাহেব, মসজিদে নববীর ইমাম আল্লামা আবদুর রহমান হোজায়ফীসহ বিশ্ববরেণ্য ওলামা-মাশায়েখগণ হক্বের অনুসারী আখ্যায়িত করে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আরো আশ্চর্যের ব্যাপার হল, চারদলীয় জোটে অংশগ্রহণকারী এবং যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদার ইসলামী ঐক্যজোট নেতৃবৃন্দ যারা সেদিন আওয়ামীলীগকে ইসলামের বড় শত্রু এবং বিএনপিকে ইসলামের ছোট শত্রু আখ্যা দিয়ে মন্দের ভালো হিসাবে বিএনপি নেত্রীর নেতৃত্বে আন্দোলন করেছেন এবং পীর সাহেব চরমোনাইকে ঐক্য বিরোধী, ভারতের দালাল, আওয়ামী লীগের দালাল বলে গালি দিয়েছেন, বিষোদগার করেছেন, আজ তারাই আবার বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর চারদলীয় জোট থেকে বের হয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার গুণকীর্তন করছেন। যারা সেদিন পীর সাহেব চরমোনাইর ব্যাপারে বিষোদগার করেছিলেন, তারাই আজ শেখ হাসিনার সাথে ঐক্য গড়ে তুলে বলছেন- আমরা এতদিন আওয়ামী লীগকে ইসলামের দুশমন মনে করতাম, আসলে আমাদের সে ধারণা ভুল ছিল। কারণ, শেখ হাসিনার কার্যালয়ে বাইতুল্লাহ শরীফের ছবি টানানো রয়েছে। তিনি সকালে ঘুম থেকে ওঠে ফজরের নামায আদায় এবং পবিত্র কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করে কাজ কর্মে বের হন। তার ঘরে কুরআন মাজীদ শোভা পাচ্ছে। তার পিতা শেখ মুজিব ইসলামের জন্য অনেক কিছু করেছেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন করেছেন ইত্যাদি।

বড়ই দুঃখ লাগে আকাবিরে দেওবন্দের অনুসারী দাবীদার এসব ওলামা হযরতদের দ্বিমুখী নীতির কারণে। অথচ, হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) কখনোই আওয়ামী লীগকে সমর্থন তো দূরের কথা, আওয়ামী লীগকে সমর্থন করাও তিনি কোন মুসলমানের জন্য বৈধ মনে করতেন না। আর এ প্রসঙ্গে জামায়াতীদের ভূমিকা আলোচনা করা অপ্রয়োজন মনে করি। কারণ, হকপন্থী ওলামা-মাশায়েখের মতে জামায়াত কোন সহীহ্ ইসলামী দল নয়। তবে তাদের উচিত ছিল, পীর সাহেব চরমোনাইকে ভারতের দালাল, আওয়ামী লীগের দালাল বলার আগে তাদের অতীত ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকানো। কারণ, তারাই তো একদিন কেয়ারটেকার সরকারের ইস্যুতে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের সাথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করেছিল। সেদিন গোলাম আযম, নিজামী, সাঈদীরা শেখ হাসিনার পাশের চেয়ারে বসে চা-চক্র, ইফতার মাহফিল করে আনন্দ ও সুখবোধ করেছিল। শেখ হাসিনাকে তারা সেদিন আমাদের নেত্রী সম্বোধন করেও পুলকিত ছিল। সেদিন তারা কাদের দালাল ছিলেন ?

যাই হোক, পীর সাহেব চরমোনাই মুফতীদের ফতোয়ার ওপরে অটল-অবিচল থাকায় যুগপৎ আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। এরপর চারদলীয় জোটের পক্ষ থেকে হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদ বরিশালে লঞ্চ লংমার্চ উপলক্ষে চরমোনাই দরবারে গিয়ে হুজুরকে অনুরোধ করেন জোটে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে। কিন্তু, হুজুরের সাফ জবাব, তিনি ইসলামের কোন স্বার্থ ছাড়া চারদলীয় জোটে যাবেন না। ইতোমধ্যে চারদলীয় জোটের আন্দোলন তীব্রতর হয়ে উঠলে এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সরকার এরশাদকে গ্রেফতার করে। এরপর ২০০০ সালের শুরুতেই হাইকোর্টের ফতোয়া বিরোধী রায় বাতিলের দাবীতে দেশে ইসলামী শক্তির পক্ষ থেকে কঠোর আন্দোলন শুরু হলে শাইখুল হাদীছ, মুফতী আমীনীসহ শত শত আলিম, নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আন্দোলনের এক পর্যায়ে বি-বাড়িয়ায় পুলিশের গুলিতে ৯ জন শহীদ হন। দেশের এ নাজুক মুহূর্তে আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান করেন পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি চারদলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত বন্দী ওলামাদের মুক্তির দাবীতে দেশে গণআন্দোলন গড়ে তুলে উদারতার পরিচয় দেন। তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার, শাইখুল হাদীছ, মুফতী আমীনী, মুফতী ইযহারসহ কতিপয় আলিম, নেতা-কর্মীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। জেল থেকে মুক্তি লাভ করার পর হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদ চারদলীয় জোট থেকে বের হয়ে যান, তবে নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একাংশ জোটে থেকে যায়।

ইতোমধ্যে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসে। নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে পুনরায় চারদলীয় জোট থেকে নেতৃবৃন্দ পীর সাহেব চরমোনাইর সাথে সাক্ষাত করে তাঁকে জোটবদ্ধ নির্বাচনের জন্য আহ্বান করেন। এ সময় পীর সাহেব (রহঃ) ৮ দফা ঘোষণা করে এ ৮ দফার ভিত্তিতে চারদলের সাথে নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

হযরত পীর সাহেব ঘোষিত ৮ দফা হলঃ-

১. কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস না করা এবং বিদ্যমান কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন পর্যায়ক্রমে সংশোধন করা, সেই সাথে সাংবিধানিক ভাবে এ গ্যারান্টি ক্লজ থাকা।

২. জাতীয় শরীয়াহ বোর্ড ও বিচার বিভাগে পৃথক শরীয়াহ বেঞ্চ গঠন করা এবং আল্লাহ্-রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও শরীয়াতের বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের শাস্তির বিধান করা।

৩. আদর্শ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার সর্বস্তরে প্রয়োজনীয় দ্বীনী শিক্ষা বাধ্যতামূলক রাখা। নতুন প্রজন্মের নৈতিকতা রক্ষাকল্পে চরিত্র বিধ্বংসী অপসংস্কৃতি বন্ধ করা।

৪. ভিক্ষুকদেরকে সরকারীভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা এবং কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

৫. মস্তানী-দুর্নীতি একটি জাতীয় গযব। এ গযব থেকে বাঁচার জন্য সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া। এ লক্ষ্যে সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিয়ে তাদের সংশোধনের ব্যবস্থা করা, সংশোধন না হলে তাদের মূলোৎপাটন করা।

৬. বেকারত্ব একটি জাতীয় বোঝা ও অনগ্রসরতার প্রতীক। এ বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে ব্যাপক শিল্পায়ন ও শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি করে বেকারত্ব দূর করার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সার ঔষধ ও বীজের দাম কমানো এবং গরীব কৃষকদের মাঝে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা।

৭. নারী সমাজের যথাযথ সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠা। সংখ্যালঘুদের সকল ধর্মীয়, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরী ও অধিকারের নিশ্চয়তা, সকল পর্যায়ে সরকারী কর্মচারী-কর্মকতাদের সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্মানজনক বেতন-ভাতা, আনুসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করা।

৮. দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধান কল্পে সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করা।

হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) ইসলাম বিরোধী আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে উক্ত ৮ দফার ভিত্তিতে নির্বাচনী ঐক্য করার জন্য বিএনপি ও চার দলীয় জোটকে আহ্বান করেন। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথে পীর সাহেব চরমোনাইর কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বিএনপি'র পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা এ মুহূর্তে ৮ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করতে পারবে না, তবে তারা ক্ষমতায় গেলে এগুলো বাস্তবায়নের চিন্তা ভাবনা করবে। এতে পীর সাহেব হুজুর সম্মত না হওয়ায় তারা হযরত পীর সাহেবকে প্রস্তাব করেন যে, ক্ষমতায় গেলে তার দল থেকে মন্ত্রী বানানো হবে এবং পীর সাহেব হুজুরের নিকট জানতে চায়, তাকে নির্বাচনে কয়টি আসন দিতে হবে। হযরত পীর সাহেব উত্তরে বলেন, আমি মন্ত্রীত্ব এবং সীট চাই না, আমি চাই ইসলাম। তিনি আরো বলেন, আমাদের মূল দাবী ক্ষমতা নয়, আমাদের মূল দাবী হচ্ছে ইসলামের স্বার্থ। আপনারা ক্ষমতায় গেলে ইসলামের দাবীগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলে আমরা আপনাদের সাথে নির্বাচনী জোটে অংশ নিতে পারি। শেষ পর্যন্ত বিএনপি হযরত পীর সাহেবের শর্ত মেনে নিতে রাজী হয়। কিন্তু, পরবর্তীকালে একদল ক্ষমতালোভী আলেমের নিঃশর্ত সমর্থন ও চক্রান্তের ফলে পীর সাহেব চরমোনাই ও বিএনপি'র নির্বাচনী ঐক্য তৎপরতা ব্যাহত হয়।

এরপর পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত ৮ দফাকে হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদ সমর্থন করে তার সাথে জোট করার প্রস্তাব দেন। হুজুর এরশাদকে কয়েকটি শর্ত দিয়ে বলেন, এগুলো মানলে তিনি এরশাদের সাথে ঐক্য করবেন। শর্তগুলো হলঃ

১. পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) কে এরশাদের নেতা মানতে হবে এবং পীর সাহেবের নেতৃত্বে এ জোট গঠিত হবে।

২. বেগম রওশন এরশাদকে জাতীয় পার্টির নেত্রী বা নেতৃস্থানীয় পদে রাখা যাবে না। বড় জোর সে জাতীয় পার্টির কর্মী থাকতে পারবে।

৩. জোটের কোন সভা সম্মেলনে প্রয়োজন ব্যতীত রওশন এরশাদ বা মহিলা জাতীয় পার্টির কোন নেত্রী-কর্মী আসতে পারবে না। আসার প্রয়োজন হলে সম্পূর্ণ শরীয়া মোতাবেক পর্দার সাথে আসতে হবে বোরকা পরিধান করে।

৪. জোটের কর্মসূচীতে হাততালি পরিহার করে মারহাবা ধ্বনি উচ্চারণ করতে হবে। কারণ, হাততালি হল অনৈসলামিক এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি।

হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদ এ সকল শর্ত মেনে নিয়ে পূর্বের অন্যায় অপরাধের জন্য তওবা করে বাকী জীবনটা ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জিহাদে অতিবাহিত করার অঙ্গীকার করেন। এরপর দেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পীর সাহেব চরমোনাইর (রহঃ) নেতৃত্বে ১২ জুলাই ২০০১ সালে ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সম্মেলনে জোটের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ)। পরবর্তীতে পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত ৮ দফা এবং তার নেতৃত্ব মেনে নিয়ে এ জোটে এডভোকেট জমির আলীর মুসলিম লীগ, শেখ শওকত হোসেন নীলুর পিএনপি, (প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল) এবং শফিউল আলম প্রধানের জাগপা (জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি) শরীক হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে জোট ১৪ টি আসন লাভ করে।

ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময় কথা ছিল, এ ফ্রন্ট কেবল নির্বাচন কেন্দ্রিক হবে না। এ ফ্রন্ট হবে দীর্ঘস্থায়ী। দেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম না হওয়া পর্যন্ত এ ফ্রন্ট একত্রে কাজ করে যাবে। কিন্তু হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদ নির্বাচনের পর পরই ফ্রন্টের বিভিন্ন শর্ত ভঙ্গ করে ফ্রন্ট থেকে বের হয়ে যান। ফলে নির্বাচনের পর ফ্রন্টের অস্তিত্ব আর অবশিষ্ট থাকেনি।

এখানে একটি বিষয় আলোচনা করা দরকার যে, হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) চারদলীয় জোটে না গিয়ে এরশাদকে নিয়ে ফ্রন্ট গঠন করায় কেউ কেউ হযরত পীর সাহেব সম্পর্কে অপবাদ দিয়ে অভিযোগ করেন যে, পীর সাহেব ওলামাদের চার দলীয় ঐক্যজোটে না গিয়ে লম্পট চরিত্রের এরশাদের সাথে জোট করলেন কিভাবে।

এর জবাবে বলব, নিরপেক্ষভাবে কেউ চিন্তা করলে বুঝতে পারবে যে, হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) এরশাদের সাথে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে কোন অন্যায়-অপরাধ করেননি বা অভিযোগ উত্থাপন করার মত কোন কাজ করেননি। কারণ, প্রথমতঃ চার দলীয় জোটের প্রতি দেশের অধিকাংশ হকপন্থী ওলামা-মাশায়েখের সমর্থন ছিল না। পীর সাহেব (রহঃ) চারদলীয় জোটে না যাওয়ায় তাঁরা হক্বের অনুসারী আখ্যা দিয়ে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দ্বিতীয়তঃ চারদলীয় জোটে যে কয়জন আলিম অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা ব্যক্তিস্বার্থেই গিয়েছেন। ইসলামের কোন স্বার্থ বা কল্যাণে যাননি। এদের কেউ কেউ ১৯৯৬ এর নির্বাচন পূর্বে (তাদের ধারণা মতে ইসলামের খাদেম) বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ভারত ও আওয়ামীলীগের দালালী করেছেন। আবার কেউ কেউ ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট থেকে বের হয়ে শেখ হাসিনার যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার জন্য ৪ দফা পেশ করেছিলেন, যার প্রতিটি দফা ছিল ইসলামী স্বার্থ ও ইসলামী হুকুমতের অনুকূলে। এর কোন দফাই চারদলীয় জোট মেনে নেয়নি।

চতুর্থতঃ ২০০১ সালের নির্বাচনের পূর্বে হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) চারদলীয় জোটের সাথে একত্রে নির্বাচন করার লক্ষ্যে তাদের নিকট ৮ দফা পেশ করেছেন, যেগুলো ছিল ইসলাম, দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণমূলক। অথচ, চারদলীয় জোট তা মেনে নিয়ে নির্বাচনী ঐক্য করতে আগ্রহী হয়নি। পঞ্চমতঃ পীর সাহেব হুজুর জোট করার জন্য কখনো এরশাদের দরবারে ধরণা দেননি, বরং এরশাদ নিজেই পীর সাহেব হুজুর ঘোষিত ৮ দফা সমর্থন করে তাঁর কাছে এসেছেন জোটবদ্ধ হওয়ার জন্য। ষষ্ঠতঃ এরশাদ ছিলেন একজন পুরুষ। নারীর সাথে বেপর্দা হয়ে সভা, সমাবেশ, সম্মেলন করতে হয়নি। সপ্তমতঃ ঐক্যফ্রন্ট করার সময় পীর সাহেব হুজুর এরশাদকে নেতা মেনে নেননি বা তার নেতৃত্ব কবূল করেননি, বরং এক্ষেত্রে এরশাদই হযরত পীর সাহেবের নেতৃত্ব কবূল করে তাঁকে নেতা ও মুরব্বী মেনে নিয়েছিলেন, পীর সাহেব হুযূর নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন। অথচ চারদলীয় জোটের মূল নেত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। যে কোন ব্যাপারে অপরাপর নেতাদের ওপরে খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। খালেদা জিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিপরীতে নিজামী-আমীনীর সিদ্ধান্ত ছিল খড়-কুটা তুল্য। সুতরাং চার দলীয় জোটের আন্দোলন ছিল নারী নেতৃত্বের অধীনে, যা ছিল শরীয়াতের খেলাফ। অষ্টমতঃ এরশাদ ঐক্যফ্রন্টে আসার পূর্বে অতীত জীবনের অন্যায়ের জন্য তওবা করে বাকী জীবনটা ইসলামী হুকুমত কায়েমের প্রচেষ্টায় অতিবাহিত করার জন্য হযরত পীর সাহেবের নিকট অঙ্গীকারাবদ্ধ হন। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এইচ, এম, এরশাদ দেশে ইসলামী শাসন কায়েম করে জাহেলিয়াত মুক্ত করার ঘোষণা দেন।

এসব বিষয় বিবেচনা করলে নিরপেক্ষভাবে ও নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, পীর সাহেব চরমোনাই (রহঃ) ইসলামের স্বার্থবিহীন ও নারী নেতৃত্বের অধীন চারদলীয় জোটে না গিয়ে এবং ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে বীর পুরুষোচিত কাজ করেছেন।

স্মরণযোগ্য যে, হযরত মাওলানা শাহ আহাম্মদুল্লাহ আশরাফ সাহেবের নেতৃত্বাধীন খেলাফত আন্দোলন, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর নেতৃত্বে জমিয়াতে ওলামায়ে ইসলামের একাংশ, হাফেজ হাবীবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্য আন্দোলন, ইসলামিক পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম পার্টিসহ আরো অন্যান্য সংগঠনও নারী নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের ঘোর বিরোধী ছিল।