সোমবার, ২ জানুয়ারী, ২০১৭

শিক্ষা সিলেবাস বিষয়ে জনগণের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করায় সরকারকে আংশিক ধন্যবাদ -ইশা ছাত্র আন্দোলন



২ জানুয়ারি’১৭ সোমবার ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম আল-আমীন, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জি.এম. রুহুল আমীন এবং সেক্রেটারি জেনারেল শেখ ফজলুল করীম মারুফ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, শিক্ষা সিলেবাস বিষয়ে জনগণের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করায় সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আংশিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পুরোপুরি ধন্যবাদ জানাতে পারলাম না। কারণ শিক্ষানীতি ২০১০ এর ভ্রান্তির কারণে সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা চক্রান্তকারীরা সিলেবাসের মধ্যে জাতি বিধ্বংসী বিষয়বস্তু সংযুক্ত করেছে। খসড়া শিক্ষা আইন ২০১৬ সেই শিক্ষানীতিকে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। এ সেক্যুলার শিক্ষানীতি ও বিতর্কিত শিক্ষা আইন পরিবর্তন হওয়া ব্যতীত দেশের জনগণ পুরোপুরি ধন্যবাদ জানাতে পারে না। আমরা সম্পূর্ণভাবেই ধন্যবাদ জানাতে পারতাম যদি সরকার সেই সব লোকদেরকে শাস্তির মুখোমুখি করতো যারা শিক্ষা সিলেবাসে ঐ সব আবর্জনা প্রবেশ করিয়েছিলো।


নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিষয়গুলো সামনে আসার পর থেকে জনগণ আন্দোলন শুরু করেছে। আমরা সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছি। বিগত ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল রাজধানীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল, ৫ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি। শিক্ষকগণের সাথে মতবিনিময় কর্মসূচি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের কাছে খোলাচিঠি প্রদান, জনসচেতনা তৈরির লক্ষে দেশব্যাপী প্রচারপত্র বিলি, ১৯ মে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি, ২৬ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক পুনর্মিলনী সমাবেশের ঘোষণাপত্রে সিলেবাস পরিবর্তনে ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করেছি। দূর্বার গণআন্দোলন তৈরির লক্ষে সমমনা ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিয়ে “সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্র ঐক্য” গঠন করেছি। ২৪ মে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্র ঐক্য গঠনের পর ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীগণের সাথে মতবিনিময়, গণস্বাক্ষর অভিযান, প্রচারপত্র বিতরণ, বিভাগীয় সমাবেশ, স্মারকলিপি পেশ এবং রাজধানীতে বিক্ষোভের মাধ্যমে আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি।

আমাদের মুহতারাম আমীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলেছি। এ আন্দোলন ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ শিক্ষানীতি ২০১০ ও শিক্ষা আইন ২০১৬ পরিবর্তনের মাধ্যমে সর্বজনীন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হবে।