সোমবার, ২ জানুয়ারী, ২০১৭

হিন্দুত্ববাদী বিতর্কিত পাঠ্য বই: আন্দোলন ও সফলতা। ফিরে দেখা উত্তাল সে সময়গুলো

বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয় পাঠ্যপুস্তক থেকে হিন্দুত্ববাদী সিলেবাস পরিবর্তন করে ২০১৭ সালের নতুন বছরে দেয়া বইতে কিছুটা সংস্কারপুর্ন বই বিতরন করেছেন.. হিন্দুত্ববাদী সিলেবাস থেকে পরিবর্তন করে কিছুটা সংস্কারের কাজটা সরকার চুপিসারেই করেছে.. কারনটা অজানা.. তারপরও ধন্যবাদ তারা প্রাপ্য.. এই সিলেবাস নিয়ে এদেশের ধর্মপ্রান জনগন বিশেষ করে একটা ইসলামী রাজনৈতিক আধ্যাতিক সংগঠনইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কি পরিমান আন্দোলন সংগ্রাম করেছে তার একটা ছোট্ট প্রমান্য দলিল আমার এই নোটটি.. আমি নিজেই বেশ কিছু আর্কাইভ সংগ্রহে রেখেছিলাম.. আশা করি নোটটাতে একটা নজর বুলাবেন এবংইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে তাদের ধারাবাহিক, গঠনমুলক আন্দোলন এবং সফলতার জন্য শুভকামনা জানাবেন। আমি অন্তত ব্যাক্তিগতভাবে তাদেরকে এবং এদেশের তৌহিদি জনতাকে অন্তর থেকে সাধুবাদ জানাই ইতিহাসের অবক্ষয় এবং আসছে প্রজন্মকে ধর্মহীন করে দেয়ার হীন প্রচেষ্টা নস্যাত করে দেয়ার জন্য

হাসিব আর রহমান :

বিতর্কিত শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে প্রণিত শিক্ষা আইন ২০১৬ এবং পাঠপুস্তকের শিক্ষা পরিবর্তনের নামে যেই ভয়াবহ স্লো পয়জনিং এই সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা নাহিদ গংরা শুরু করেছিলো তার ভয়াবহতা সম্পর্কে অনেকেই হয়ত অজানা ছিলো.. এবং অবাক হবো না এখনও সে ব্যাপারটা কেহ না জানলে.. তাই নিচের ধারাবাহিক লিংকগুলো থেকে পুরো ব্যাপারটা এবং তার বিরুদ্ধে হওয়া আন্দোলন সংগ্রামের দালিলিক প্রমানগুলো আসুন দেখি… কতটা কষ্ট এবং সংগ্রামের পর কিছুটা হলেও সফলতা এসেছে তার কিছু প্রমান এখানে পাওয়া যাবে..

প্রথমে এই লিংক থেকে পরিবর্তিত বিষয়গুলো পড়ে নিন! (goo.gl/FJlGpJ )

এই লিংক থেকে শিক্ষানীতি ২০১০ এর পিডিএফ ডাউনলোড করে ২৬ নাম্বার পরিচ্ছেদটাও পড়ুন। (goo.gl/5fPLO7)

এরপর এই লিংক থেকে শিক্ষা আইন ২০১৬ বাস্তবায়ণ এর প্রক্রিয়াটাও পড়ে নিন (goo.gl/tYphA4)

তারপর এই পুরা লেখাটা প্রমানগুলো সহ পড়ুন।

আর একটা কথা জেনে নিন এই শিক্ষানীতির সবচেয়ে ভয়াবহ আর একটা দিক ছিলো কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করা। যেটা শিক্ষানীতির ২৬ নং পরিচ্ছেদটা পড়লেই বুঝতে পারবেন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়ত ভুলে বসে আছেন তিনিই বলেছিলেন, ধর্মশিক্ষা সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে! অথচ তখন তার সরকারই একদল ধর্মহীন হিন্দুত্ববাদী প্রজন্ম বানানোর পায়তারা করে যাচ্ছিলো। দেখুন শেখ হাছিনার বক্তব্যঃ goo.gl/tYphA4

জাতিকে এক কথায় দিগম্বর করার যেই ভয়াবহ পায়তারা নুরুল ইসলাম নাহিদ গংরা শুরু করেছিলো তার ব্যাপারে জোর পদক্ষেপ না নিলে হয়ত আসছে প্রজন্ম একটা অনৈতিক, মেধাহীন, ইসলাম বিদ্ধেষী প্রজন্ম হিসেবে তৈরি হতো। কারো না কারোর এই ভয়াবহ ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে হিমালয় পর্বতের মত দাড়ানোর অবশ্যই দরকার ছিলো। সেই হিসেবে গন মানুষের সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মসূচি নিয়ে দাড়িয়েছিলেন চরমোনাই পীর সাহেব মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম সাহেব দাঃ বাঃ এবং মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম সাহেব দাঃ বাঃ হযরতরা ।

রেজাউল করীম সাহেব প্রথমেই দিপ্ত কন্ঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষানীতি পরিবর্তন না হলে আন্দোলন কত প্রকার কি কি দেখিয়ে দেবো। দেখুন এই লিংকেঃ goo.gl/xMNX9g

দরকার হলে কাফনের কাপড় মাথায় নিয়ে আন্দোলনে নামার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। দেখুন এই লিংকেঃ goo.gl/nnfKDv

রাজধানী ঢাকার কাজী বশির মিলনায়তনে সর্বস্থরের ওলামামাশায়েদের নিয়ে এই শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে আলোচনা বৈঠক করেছেন তিনি। দেখুন এই লিংকেঃ goo.gl/OXC0eO

জাতিয় শিক্ষক ফোরাম নিয়ে বৈঠক পরবর্তি মিছিল করেছেন ফয়জুল করীম সাহেব দাঃবাঃ। দেখুন এই লিংকেঃ goo.gl/g83Knz

সারা দেশ ব্যাপী জেলায় জেলায় স্বারকলিপি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দেখুন এই লিংকেঃ goo.gl/NneBhv

সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। দেখুন এই লিংকেঃ goo.gl/FJlGpJ

সর্বশেষ প্রায় আটটি ইসলামি ছাত্র সংগঠনের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদ গঠন হয়েছিলো এই শিক্ষানীতি এবং শিক্ষা আইনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করার জন্য। দেখুন এই লিংকেঃ goo.gl/niSN5p

আলহামদুলিল্লাহ, এই আন্দোলনে কোন কিছুরই অভাব ছিলো না…

ঐক্য, যুগোপযোগী কর্মসূচি, মিডিয়া কভারেজ সহ সবকিছুই ছিলো সেই আন্দোলনে। কাউকেই দুরে ঠেলে নয় বরং সবাইকেই কাছে টেনে এই আন্দোলনে শরিক হবার আহবান ছিলো তখন! প্রয়োজনে যে যার যার সমস্যা নিয়ে আসবে তবুও এই বিতর্কিত শিক্ষানীতি বাতিল করতে হবে। সেই হিসেবেই আমি তখন একটা ফটো আপলোড দিয়েছিলাম ‘শিক্ষা আইন ২০১৬’ এর ব্যাপারে একটি বাম সংগঠনের দেয়াল রাইটিং শুট করে। (চাইলে বহুল প্রচারিত তখনকার সেই পোষ্টটা এই লিংক goo.gl/yVuR7Z থেকে দেখতে পারেন) কারন নীরব ঘাতক নাহিদ গং এই বাম সংগঠন থেকেই উঠে এসেছেন!! তাদের দাবি বাণিজ্যিকীকরণ সমস্যার কারনে বাতিল করতে হবে এই শিক্ষানীতি। আমাদের দাবি সেটাও আছে সাথে ধর্মহীন শিক্ষা ব্যাবস্থা ব্যাপারটাও থাকবে।

[caption id="attachment_2464" align="alignleft" width="493"] ঢাকায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিলের একাংশ[/caption]

সেই ধারাবাহিকতায়ই চেতনার মাস মে মাসের ২৭ মে তারিখে বিতর্কিত এই শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিত রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী ময়দানে জাতিয় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন পীর সাহেব চরমোনাই দা.বা. প্রশাসন থেকে তখন অনুমতিও মিলেছিলো আলহামদুলিল্লাহ। অনুমতি পত্রের কপি আপলোডের লিংক- goo.gl/NKtEyb এবং সর্ববৃহত একটা সমাবেশ হয়েছিলো সেই মহাসমাবেশ.. যে ব্যাপারে নিচে পুর্ন বিশ্লেষন এবং সংবাদ মাধ্যমগুলোর সমাবেশের ব্যাপারে নিউজ লিংকগুলো দিলাম।


পাচটি দৈনিক এবং সাতটি পরিচিত নিউজ পোর্টালের নিউজ লিংক আমি আর্কাইভে রেখেছিলাম! অনেকগুলো টিভি মিডিয়াও তখন নিউজ করেছিলো। তাছাড়াও আরো অনেকেই পজেটিভলি সংবাদ পরিবেশন করেছিলো তখন।


দৈনিক ‘প্রথম আলো’র নিউজ: goo.gl/LxQoqx


দৈনিক ইনকিলাবের নিউজ: goo.gl/V4QAFi

দৈনিক নয়া দিগন্ত নিউজ লিংক: goo.gl/Ubpkzr

বাংলাদেশ প্রতিদিনের নিউজ: goo.gl/NMHfgW

দৈনিক কালের কন্ঠের নিউজ: goo.gl/2tYKWz

আমার দেশের অনলাইন নিউজ: goo.gl/bPCQOR

বাংলামেইল ডট কমের নিউজ: goo.gl/SXsoXc

বাংলা নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কম: goo.gl/3yjQwd

বিডি টাইমস ডট কম: http://goo.gl/XG0rLw

শীর্ষ নিউজ ডট কম: goo.gl/FAp2pS

আরটি নিউজ ডট কম: goo.gl/Wo6TjH

বিডিনিউজ মিক্স ডট কম: goo.gl/aIH2Qd

এ-ওয়ান নিউজ ডট কম: goo.gl/W3skgT

সেই সমাবেশে দেয়া মুফতী ফয়জুল করীম সাহেব দাঃবাঃ হযরতের সরকারকে উদ্দিশ্য করে কড়া হুশিয়ারি দিয়ে দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণের ইউটিউব লিংক: goo.gl/eHkckz

শিক্ষানীতিবিরোধী সেই সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের মুহতারাম আমির মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম সাহেব দা.বা. হযরতের লিখিত ভিডিও করা ভাষনের ইউটিউব লিংক : http://goo.gl/285J8X

এই আন্দোলনের কারন নিয়ে তখন আমার লেখা একটা বিশ্লেষণধর্মী তথ্যবহুল লেখার লিংক: goo.gl/yVuR7Z

আন্দোলনটা সফল হয়েছে কেবল ঐক্যবদ্ধ, ধারাবাহিক, গন মানুষের অংশগ্রহন করা গঠনমুলক কর্মসূচি এবং মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানী থাকার কারনে

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এজন্যই বলছি কারন এক মঞ্চে না এলেও এদেশের গনমানুষের আবেগ আর ভালোবাসার সংগঠন ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ও পরবর্তিতে একদম শেষ পর্যায়ে এসে এই দাবিটা নিয়ে সরকারের দারস্থ হয়েছিলো এবং কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছিলো কওমী শিক্ষা সনদের স্বিকৃতী দিতে সরকারের সম্মতি জানানোর পর.. এবং কওমি শিক্ষা সনদের স্বিকৃতী নেয়ার ব্যাপারে শিক্ষানীতি সংশোধনের কন্ডিশন দিয়েছিলো হেফাজত

আজকে এদেশে তৌহিদি জনতা অন্তত এ ব্যাপারটাতে সফল.. বামদের স্লো পয়জনিং এর মাধ্যমে আসছে প্রজন্মকে ধর্মবিরোধী এবং ধর্মহীন এবং নির্লজ্জ জাতিতে পরিনত করার অপপ্রয়াস কিছুটা সময়ের জন্য হলেও রুখতে পেরেছে.. আজকে নতুন পাঠপুস্তকে কিছু কিছু বিতর্কিত ব্যাপার নাই.. এজন্য এই মহা আন্দোলনের প্রানপুরুষ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর সৈয়দ রেজাউল করীম সাহেব দা.বা. সরকারকে আংশিক ধন্যবাদও জানিয়েছেন.. ফেসবুক পোষ্টের মাধ্যমে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবং সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র শেখ ফজলুল করীম মারুফ

কিন্তু তাই বলে আমরা আম জনতা তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার কিছু নাই বরং সদা সজাগ থাকতে হবে ঐ শকুনগুলোর থাবা থেকে যারা একদিকে সফল হয়নি তো আর একদিক খুঁজে বের করে নেবে… তাই ভবিষ্যতে যে কোন যায়গা থেকে নিজেদের শেকড় কাঁটতে চাওয়ার প্রতিবাদে আহুত যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে প্রবল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পরতে হবে আমাদের.. আমি ইনশাআল্লাহ প্রস্তুত আছি সেজন্য… আপনি প্রস্তুত তো!

পরিশেষে, আমাদের প্রতিটা আন্দোলন সংগ্রাম ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম থেকে হোক সে কামনা এবং আবদার রইলো ইসলামের অতন্দ্র প্রহরী উলামায়ে দেওবন্দী হযরতদের প্রতি

অনেকেই ভাবছেন ঐক্যের কথা বললাম আবার কেবল ওলামায়ে দেওবন্দীদের নাম ম্যানশন করে কিছুটা এককেন্দ্রীক করে দিলাম কেন..?? তার একটা ছোট্ট কারন বলছি এই আন্দোলনটার ব্যাপারেই!

সোহরাওয়ার্দীতে যেদিন সমাবেশ হলো সেদিন শিবিরের এক কর্মী একটা সেলফিষ্টিক নিয়ে মোবাইলের ভিডিও অপশন চালু করে সমাবেশে আগত সাধারন মানুষদেরকে ধরে ধরে জিজ্ঞেস করছিলো, ‘এখানে কেন এসেছেন আপনারা.?? কি দাবি নিয়ে এসেছেন তা জানেন কিছু.??’

“অনেকেই তখন স্বভাবতই বলতে পারেনি কারন হাজারো জনতা এসেছিলো আলেমদের ডাকে তাদের প্রতি বিশ্বাস রেখে..!!” তারপর সেই ভিডিও শিবিরের অনেক কর্মীদের বিশেষ করে ‘কমরেড মাহমুদ’ সহ আরো কয়েকজনের ওয়ালে শোভা পাচ্ছিলো..!! ক্যাপশন ছিলো কি হবে এই আন্দোলন দিয়ে.?? অযথাই মানুষের আবেগকে ব্যাবহার করা..!!

এখন বলেন তাদের ব্যাপারে কি ভুমিকায় থাকতে পারি??? তবে এটা আমার ব্যাক্তিগত অবস্থান,  কোন সম্মিলিত অবস্থান নয়,  সম্মিলিত অবস্থান বড়রা নির্ধারন করবেন… সে কারনেই আমি আমার লেখায় উলামায়ে দেওবন্দীদের ঐক্য কামনা করি এবং তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা রাখি..

(ওয়াল্লাহু আ’লামু বিসসওয়াব)

[caption id="attachment_1389" align="aligncenter" width="511"]15777099_1042714945857943_4136798243669723707_o মে মাসের ২৭ মে তারিখে বিতর্কিত এই শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী ময়দানে জাতিয় মহাসমাবেশের ভাষন দিচ্ছেন মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম সাহেব দাঃ বাঃ[/caption]