মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

শুক্রবার মূর্তি অপসারণ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিশাল গণমিছিল

আইএবি নিউজ: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, বার বার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনজীবন দূর্বিষহ করে তুলবে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় জনগণ মাঠে নামতে বাধ্য হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর শোষণ চালিয়ে মসনদে টিকে থাকা যাবে না। সাধারণ জনগণ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে তখন নতুন করে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সিদ্ধান্ত মড়াড় ওপর খাঁড়ার ঘা।

আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক জরুরী সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ও মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকসান হোসাইন জাফরী প্রমুখ।

মহাসচিব বলেন, সরকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়াচ্ছে অথচ মধ্যম আয় ও নিম্ন আয়ের মানুষদের ওপর শোষণ চালাচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষ ভালো অবস্থায় নেই। তারা নানাভাবে নিষ্পেষিত হচ্ছে, বর্তমান সরকার গরীবের নয়, বড়লোকের স্বার্থ রক্ষার সরকার।

তিনি বলেন, গ্যাসের দাম মার্চ ও জুনে দুই ধাপে গড়ে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। কিন্তু তাতে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নায় ব্যবহৃত গ্যাস ও বাণিজ্যিক সংযোগে দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এই ঘোষণা অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের আগামী ১ মার্চ থেকে এক চুলার জন্য মাসে ৭৫০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকা দিতে হবে, যা এতদিন ছিল যথাক্রমে ৬০০ টাকা ও ৬৫০ টাকা আর দ্বিতীয় ধাপে ১ জুন থেকে এক চুলার জন্য মাসিক বিল ৯০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৯৫০ টাকা হবে। গৃহস্থালিতে মিটারে যারা গ্যাসের বিল দেন, তাদের মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহারের জন্য ৯ টাকা ১০ পয়সা এবং জুন থেকে ১১ টাকা ২০ পয়সা করে দিতে হবে।

এতোদিন প্রতি ঘনমিটারে তাদের বিল হত ৭ টাকা করে। তিনি বলেন, প্রতি চুলায় একসাথে ২০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে তার এক বছরের মাথায় পুনরায় চুলা প্রতি ৩০০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চরম জুলুমের শামিল। এর প্রভাব সর্বত্র পড়বে। ফলে স্বাভাবিক জীবন জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে শিল্পোৎপাদনে খরচ বাড়বে, ব্যবসায়ীরাও তা তুলবেন দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিয়ে। শেষ বিচারে ভোক্তাদের পকেট থেকেই তা যাবে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে রপ্তানি খাতও চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব নয়। চলমান সীমাহীন লুটপাটের বোঝা দেশের জনগণের কাঁধে চাপাতে সরকারের দুর্নীতি ও ভুল নীতির ফলে জ্বালানি খাতে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে, তার দায় জনতার উপর চাপানোর জন্যই অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। জনগণ এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেবে না। অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করতে হবে।

সভায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম দলগুলোর হরতালে পুলিশী নির্যাতনের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকার মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চাচ্ছে। আর তার প্রতিবাদ করায় বাম দলগুলোর নেতাদের উপর গরম পানি নিক্ষেপ, টিয়ার সেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে এবং নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে  নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

মহাসচিব গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে লেডি মূর্তি অপসারণের দাবীতে ৩রা মার্চ শুক্রবার বাদ জুমআ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে অনুষ্ঠিতব্য গণমিছিলে দেশপ্রেমিক ঈমানদার জনতাকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।