বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭

মূর্তি অপসারণের আন্দোলনকে সমালোচনা করে কতিপয় মন্ত্রী মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে: অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ

আইএবি নিউজ: সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক আখ্যায়িত করে তা অপসারণের আন্দোলনকে সমালোচনা করে সরকারের কতিপয় মন্ত্রী মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, ন্যায় বিচারের প্রতীক মূর্তি হতে পারে না। আল্লাহ ও তার নাযিল করা কুরআন হচ্ছে ন্যায় বিচারের প্রতীক। আল্লাহ ন্যায় বিচারের সকল পদ্ধতি পবিত্র কুরআনে লিপিবদ্ধ করেছেন। কারণ মূর্তির বাক শক্তি ও বোধ শক্তি নেই। কাজেই মূর্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনকে স্বাধীনতা বিরোধী আখ্যা দেয়া কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক মনে করলে ঈমান থাকবে না, সে মুশরিক হয়ে যাবে। মহাসচিব বলেন, মূর্তি মুসলমানের কোন সংস্কৃতি নয়, এটা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি। ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে মূর্তি বানানো বা সংরক্ষণ ও সম্মান করা হারাম। ইসলাম এসেছে মূর্তি ভাঙ্গার জন্যই। কাজেই ৯২ ভাগ মুসলমানের চিন্তাচেতনা বিরোধী মূর্তি স্থাপন কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। অবিলম্বে মূর্তি অপসারণ না করলে সর্বত্র আন্দোলন গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, এদেশে সব ধর্মের লোক বাস করে বলে মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতিবাদ করে মহাসচিব বলেন, যার যার ধর্ম পালনে কোন মুসলমান বাধা দেয়নি। কাজেই ৯২ ভাগ মুসলমানদের চিন্তাচেতনা বিরোধী মূর্তি চাপিয়ে দেয়া যাবে না। ন্যায় বিচারের প্রতীক হিসেবে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে তাহলে কি অতীতে ন্যায় বিচার হয়নি। মূর্তির প্রতি কারো ভালোবাস থাকলে সে ব্যক্তিগতভাবে তার ঘরে কিংবা তার নিজস্ব আঙ্গীনায় স্থাপন করলে কারো কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। কাজেই সংস্কৃতি মন্ত্রীকে মনে রাখতে হবে তার সরকার দেশবাসীর কাছে নির্বাচনী ইশতেহারে শরীয়াহ বিরোধী আইন করবে না বলেই ক্ষমতায় এসেছে। এখন শরীয়াহ বিরোধী কাজ করে তার সপক্ষে সাফাই গেয়ে নিজের ঈমান বিসর্জন দিবেন না। অবিলম্বে মূর্তি অপসারণ করতে হবে। মূর্তি অপসারণের দাবীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩রা মার্চ শুক্রবার বাদ জুম্মা রাজধানীতে গণমিছিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গণমিছিলে ঈমানদার জনতাকে শরীক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ (বুধবার) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মজলিসে আমেলা (কার্যনির্বাহী পরিষদ)-এর এক জরুরী সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, নগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, উত্তর সভাপতি শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, কেএম আতিকুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা নেছার উদ্দিন, শায়খুল হাদীস মাওলানা মকবুল হোসাইন, আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ, বরকত উল্লাহ লতিফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদ, আলহাজ্ব কে জি মাওলা প্রমুখ।