মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৭

মুসলিম প্রধান দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রা বাধ্যতামূলক হতে পারে না: ইসলামী আন্দোলন ঢা. ম. উ.

আইএবি নিউজ: ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার নামে দেশে দৃশ্যতঃ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আদর্শিকভাবে জাতিকে ধর্মহীন করার চক্রান্ত চলছে। বর্তমানে স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে ইসলামী শিক্ষাকে সংকুচিত করা হয়েছে। সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানসহ সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পৌত্তলিক কালচার, বেহায়াপনা ও নগ্নতা এখন রীতি হয়ে ওঠেছে। ঘরে, বাইরে, রাস্তায়, মার্কেটে, জনসমাগমে, টেলিভিশন, সিনেমায় সর্বত্রই এখন ভোগ-বিলাসিতা ও  যৌনউদ্দীপক আচরণের ছড়াছড়ি। তার ওপর মুসলিম প্রধান দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রা বাধ্যতামূলক হতে পারে না। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।

আজ ৪ মার্চ বিকাল ৪টায় পল্টনস্থ নগর কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের নির্ধারিত সাপ্তাহিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ উপরোক্ত কথা বলেন। উক্ত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসাইন, সেক্রেটারী মুহাম্মাদ মোশাররফ হোসেন, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, মুফতী মাছউদুর রহমান প্রমুখ।

তিনি আরো বলেন, বর্ষবরণের নামে মূলত মুসলমনাদের ঈমান-আক্বীদা বিরোধী ভিনদেশী হিন্দুত্ববাদি সংস্কৃতির প্রসার ঘটানোর চেষ্টা চলছে। নতুন বছরের প্রথম দিন বাঘ-ভাল্লুক, সাপ, বিচ্ছু, কুমির ও বিভিন্ন দেব-দেবীর বড় বড় মূর্তি, ছবি নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে যে যাত্রা বা র‌্যালী বের করা হয়, তাতে কার কাছে নতুন বছরের মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করা হচ্ছে? ইসলামের বিশ্বাস মতে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন জীবজন্তু, বন্যপ্রাণী ও দেবদেবীর মূর্তির কাছে কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করলে ঈমান থাকবে না। নেতৃবৃন্দ বলেন, মুসলমানদের বিশ্বাস মতে ভাল-মন্দ, মঙ্গল-অমঙ্গল সব কিছুই আল্লাহর হুকুমেই সংঘটিত হয়ে থাকে। মুসলমানকে কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করতে হবে একমাত্র আল্লাহর কাছেই। সুতরাং মুসলমানদের জন্যে মঙ্গল শোভাযাত্রার সংস্কৃতি চর্চা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পয়লা বৈশাখের নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে নারী সমাজের উপর সংঘবদ্ধ যৌন-নির্যাতনের ঘটনার উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, নারী-পুরুষের উশৃংখল চলাচলের বহুমুখী ক্ষতিকর দিক রয়েছে। শুধু গত বছর নয়, এর আগেও বহুবার বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে নারী নির্যাতন ও নারীদের সম্ভ্রমহানীর মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যাতামূলক মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করার সিদ্ধান্ত বাতিল না করা হলে দেশবাসী দূর্বার গণআন্দোলনে বাধ্য হবে।