বুধবার, ৪ জানুয়ারী, ২০১৭

চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড ময়দানে চরমোনাইয়ের নমুনায় মাহফিল শুরু হচ্ছে আগামীকাল

সগির চৌধুরী : যুবক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, আনুষ্ঠানিক বা অনুষ্ঠানিক কিংবা উন্মুক্তভাবে দীনের মৌলিক জ্ঞানের বিস্তার; শিরক-বিদআত ও যাবতীয় কুসংস্কারের মূলোৎপাটন করে ব্যক্তিজীবনে মানুষের পরিশুদ্ধি; জীবনের সর্বস্তরের কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণের আহ্বান এবং ইসলামি জীবনার্দেশের আলোকে একটি কল্যাণ সমাজগঠনে রাজনীতিক-বুদ্ধিজীবী ও সমাজের গণ্য-মান্য মানুষের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই চরমোনাইয়ের পীর সাহেব মহোদয়ের যাবতীয় কার্যক্রমের প্রধানতম লক্ষ্য। এজন্য সারাদেশের দীনী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, ওয়াজ মাহফিল, রাজনীতি ও তরীকতের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন পীর সাহেব মহোদয়। এর অংশ হিসেবে বরিশালের চরমোনাইয়ের ময়দানে বছরে বিশ্বজনীন দুটো প্রধান মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে প্রায় অর্ধশত বছর থেকে। এ মাহফিলদুটোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এ দুটো মাহফিল শুধু ওয়াজ মাহফিল নয়, এতে শরীয়ত, তরীকত ও সমসাময়িক বিষয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্দেশ্যে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ওলামা-মশায়েখ বয়ান রাখেন এবং দীনের খুটিনাটি সব বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। ৩ দিনব্যাপী ২৪ ঘণ্টার মাহফিলদুটোর প্রথম দিবস শরীয়ত, দ্বিতীয় দিবস তরীকত এবং তৃতীয় দিবসে সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা পেশ করা হয়ে থাকে। চরমোনাইয়ের এ মাহফিলদুটোর অনুরূপ নমুনায় কুড়িগ্রাম, সিলেটের আলিয়া মাদরাসা ময়দান ও চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ জাম্বুরি ময়দানে বিগত দীর্ঘ দু’যুগ ধরে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকিরের আয়োজন করে আসছে স্থানীয় বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি জেলা শাখাসমূহ। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ জাম্বুরি মাঠে বাংলাদেশ সরকারের গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক উদ্যান পার্ক নির্মাণের কারণে ২০১৭ সালের মাহফিলটি স্থনান্তরিত হয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক মেলার জন্য পরিচিত পলোগ্রান্ড ময়দানে আগামী ৫, ৬ ও ৭ জানুয়ারি ২০১৭ (বৃস্পতি, শুক্রবার ও শনিবার)। চরমোনাইয়ের মাহফিলের নমুনায় ২৪ ঘণ্টার মাহফিল কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারি (বৃস্পতিবার) যোহরের নামাযের পর পীর সাহেব চরমোনাইয়ের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগামী ৮ জানুয়ারি রবিবার ফজরের নামাযের পর সর্বশেষ বয়ান ও আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে মাহফিল সমাপ্ত হবে ইনশাআল্লাহ। মাহফিলের মধ্যমণি চরমোনাইয়ের মহান পীর সাহেব আমীরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (দা. বা.) ফজরের নামাযের পর ও ইশার নামাযের পর (রাত ৯ ঘটিকায়) প্রতিদিন দুটো করে বয়ান পেশ করবেন এবং সেই সঙ্গে ৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) জুমাপূর্ব বিশেষ বয়ান, খুতবা এবং জুমার নামাযে ইমামতি করবেন তিনি। তবে ৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) রাতের বয়ান এবং পরদিন ৭ জানুয়ারি (শনিবার) সকালের বয়ান পেশ করবেন নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (দা. বা.)। মাহফিলের প্রথম দিবস (বৃহস্পতিবার) শরীয়ত, দ্বিতীয় দিবস (শুক্রবার) তরীকত এবং তৃতীয় দিবস (শনিবার) সমসাময়িক বিষয়ে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করবেন। তৃতীয় দিবস শনিবার রাতের বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই মুসলিম মা-বোন এবং মহিলাদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বয়ান পেশ করবেন। অন্যদিকে ৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) সকাল ১০ ঘটিকা থেকে মাহফিলস্থলে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে শ্রমিকা সমাবেশ, বেলা ২.৫ ঘকিটায় ছাত্র-জনতা সমাবেশ এবং ৭ জানুয়ারি (শনিবার) সকাল ১০ ঘটিকায় জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মি পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে ওলামা-মাশায়েখ সুধী সমাবেশ আর বেলা ২.৫ ঘটিকায় জাতীয় শিক্ষক ফোরাম চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। চট্টগ্রামের অনন্যবৈশিষ্ট্যের এ বিশাল মাহফিলের প্রস্তুতিকল্পে নগরীর সুবৃহত্তর পলোগ্রাউন্ড ময়দানে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক দিগন্ত বিস্তৃত সুবিশাল দুটো প্যান্ডেল স্থাপন করা হয়েছে। ৬০ হাজার বর্গফুটের পুরুষ প্যান্ডেলের পাশাপাশি ৮০ হাজার বর্গফুটের মহিলা প্যান্ডেলে খাস পর্দা, পৃথক অযু-ইস্তিনজা, খাবারের স্টল, ইসলামি বই ও ধর্মীয় উপকরণাদি ক্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। শীতের প্রকোপ থেকে মুসল্লীদেরকে সর্বাদিক নিরাপদে রাখার জন্য উভয় প্যান্ডেলের চারদিকে পর্যাপ্ত সামিয়ানা এবং উপরের পলিথিনের চট দিয়ে মোড়ানো হয়েছে। বৈদ্যুতিক সমস্যা মোকাবেলায় হেভিওয়েটের সুবৃহৎ ৫টি জেনারেটর সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মুসল্লীদের জন্য অযু, গোসল, ইস্তিনজার জন্য প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা মেটাতে ১ লাখ লিটার পানির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ১৭টি সুবিশাল পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। কাচা-পাকা মিলিয়ে ৫ শতাধিক পশ্রাব-পায়খানা ও অযুর ব্যবস্থাপায় পাইপ বসানো হয়েছে। মাহফিলের স্টেইজ, যাথায়তের রাস্তা, মেহমানখানা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শত শত সিসি ক্যামরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাহফিলের নিরাপত্তায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুপ্রশিক্ষিত ১২০০ পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক এবং মহিলা প্যান্ডেলের ভেতর ৩০০ মহিলা স্বেচ্ছাসেবিকা নিয়োজিত থাকবে। লাইটিং এবং এক শতাধিক মাইকের শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাহফিল উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের সর্ববৃহত্তর ইসলামি বই মেলার আয়োজন করেছে মাহফিল কর্তৃপক্ষ। কুরআন-সন্নাহ, ফিকহ, তাসাওউফসহ ইসলামি জ্ঞানের সকল শাখা-প্রশাখার প্রায় যাবতীয় বই-পুস্তক ও ধর্মীয় জ্ঞান-সম্পদের মেলায় প্রায় ৩০০ স্টল বসছে। এছাড়া আরও ৫০টির মতো স্টল থাকবে যেখানে তাসবীহ, জায়নামায, বোরকা-হেজাব-নেকাবসহ যাবতীয় ধর্মীয় উপকরণাদি সুলভ মূল্যে বিকিকিনি হবে ইনশাল্লাহ।